থানচির বলিপাড়ার গর্বিত সন্তান সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরার যাজক অভিষেক ৬ নভেম্বর
সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ০৪:৫২ অপরাহ্ন

থানচির বলিপাড়ার গর্বিত সন্তান সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরার যাজক অভিষেক ৬ নভেম্বর

থানচির বলিপাড়ার গর্বিত সন্তান সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরার যাজক অভিষেক ৬ নভেম্বর
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়ার গর্বিত সন্তান সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরা আগামী ৬ নভেম্বর যাজক হিসেবে অভিষিক্ত হতে যাচ্ছেন। তাঁর এই যাজক অভিষেককে ঘিরে পরিবার, আত্মীয়স্বজন, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

আয়োজক কমিটির সহসভাপতি ও ক্যচু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাফায়েল মনিরাম ত্রিপুরা বলেন, “একজন ধর্মীয় সেবক হিসেবে সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরার এই নতুন পথচলা শুধু তাঁর পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অর্জন নয়, বরং বলিপাড়াসহ পুরো থানচি এলাকা ও সকল ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর মানুষের জন্য গর্ব ও আনন্দের বিষয়। তাঁর যাজক হওয়ার মধ্য দিয়ে এলাকার তরুণ প্রজন্মের মধ্যেও ধর্মীয় জীবন, মানবসেবা, নৈতিকতা ও সমাজের কল্যাণে কাজ করার অনুপ্রেরণা সৃষ্টি হবে।”

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যাজক অভিষেক অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ও সাফল্যমণ্ডিত করতে ইতোমধ্যে সার্বিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিভিন্ন কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। অতিথিদের অভ্যর্থনা, অনুষ্ঠানস্থল সাজসজ্জা, শৃঙ্খলা রক্ষা, ছবি ও ভিডিও ধারণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব ভাগ করে নিয়ে প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও সম্প্রীতির মধ্য দিয়ে এই অভিষেক অনুষ্ঠান সম্পন্ন হবে। এতে বিভিন্ন এলাকার ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, গণ্যমান্য ব্যক্তি, আত্মীয়স্বজন, শুভাকাঙ্ক্ষী ও স্থানীয় জনসাধারণের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠানটি মিলনমেলায় পরিণত হবে।

সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরার যাজক অভিষেককে ঘিরে বলিপাড়ার মানুষের মধ্যে যে আনন্দ ও উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় ইতিহাসে একটি স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে বলে প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী।

উল্লেখ্য, আগামী ৬ নভেম্বর অনুষ্ঠেয় এই যাজক অভিষেকের মধ্য দিয়ে সাধুমনি ফ্রান্সিস ত্রিপুরা ধর্মীয় সেবার এক নতুন অধ্যায়ে পদার্পণ করবেন। তাঁর আগামী দিনের পথচলা মানবকল্যাণ, শান্তি, সম্প্রীতি ও মানুষের সেবায় নিবেদিত হোক—এমনই প্রত্যাশা সবার।




জেলা সদরে লামার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ২ লাখ মানুষ

জেলা সদরে লামার রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম, ভোগান্তিতে ২ লাখ মানুষ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের বৃহত্তর লামা উপজেলার সব ধরনের রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কার্যক্রম স্থানীয় কার্যালয় থেকে সরিয়ে জেলা সদরে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। এই সিদ্ধান্তের ফলে চরম ভোগান্তির আশঙ্কায় তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন লামার দুই লাখেরও বেশি সাধারণ বাসিন্দা। জনদুর্ভোগ এড়াতে অবিলম্বে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম পূর্বের মতো স্থানীয় উপজেলা কার্যালয়ে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

জানা গেছে, পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধিমালা ১৯০০-এর ২০ বিধি অনুযায়ী বান্দরবানের জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানা গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) এই আদেশ জারি করেন। আদেশে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারির পূর্ববর্তী নির্দেশ বাতিল করে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত লামা উপজেলার যাবতীয় রেজিস্ট্রেশন-সংক্রান্ত কাজ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রেশন শাখা থেকে সম্পন্ন করার কথা বলা হয়। এতদিন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি ২০২৬ সালে এই উপজেলায় ইতিমধ্যে বায়না, সাব-কবলা, দানপত্র, পাওয়ার অব অ্যাটর্নি ও চুক্তিনামাসহ মোট ১,২৬৩টি রেজিস্ট্রেশন কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

এলাকাবাসীর মতে, “লামা থেকে জেলা সদরের দূরত্ব প্রায় ১০০ কিলোমিটার। ছোটখাটো রেজিস্ট্রেশন কাজের জন্য অতিরিক্ত সময়, অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে জেলা সদরে যেতে হবে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি হয়রানির শিকার হবেন।”

এ বিষয়ে জানতে বান্দরবান জেলা প্রশাসক নাজমিন সুলতানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “এডিসি (রেভিনিউ)-র সাথে কথা বলেন, আমি একটি মিটিংয়ে রয়েছি।”




প্রচার-প্রচারণার অভাবে ক্রেতাশূন্য বান্দরবানের যুব মেলা, হতাশ উদ্যোক্তারা

প্রচার-প্রচারণার অভাবে ক্রেতাশূন্য বান্দরবানের যুব মেলা, হতাশ উদ্যোক্তারা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানে জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত যুব মেলায় প্রচার-প্রচারণার অভাব ও নানা অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। ১ থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হলেও অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তারা আশানুরূপ ক্রেতা ও দর্শনার্থী পাচ্ছেন না। এতে পণ্য বিক্রি নিয়ে হতাশায় পড়েছেন মেলায় স্টল দেওয়া উদ্যোক্তারা।

মেলায় অংশগ্রহণ বাড়াতে উল্লেখযোগ্য প্রচার-প্রচারণা দেখা যায়নি বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। মেলা শুরুর আগের দিন ৩১ অক্টোবর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের একটি গাড়ির মাধ্যমে মাইকিং করা হলেও এর বাইরে তেমন কোনো প্রচারণা চালানো হয়নি বলে জানা গেছে।

মেলায় স্টল দেওয়া এক উদ্যোক্তা বলেন, “মেলায় অংশগ্রহণের জন্য স্টল নিয়েছি। কিন্তু আশানুরূপ ক্রেতা ও দর্শনার্থী আসছেন না। মেলা সম্পর্কে পর্যাপ্ত প্রচার-প্রচারণা না থাকায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”

অন্য এক উদ্যোক্তা জানান, “মেলার জন্য এক সপ্তাহ ধরে পরিশ্রম করে পণ্য তৈরি করেছি। কিন্তু মেলায় এসে দেখছি, মানুষের উপস্থিতি খুবই কম। এসব পণ্য বিক্রি করতে না পারলে আর্থিকভাবে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়তে হবে।”

এদিকে, মেলার শুরু থেকেই বিভিন্ন ধরনের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রজেক্টরের মাধ্যমে পণ্যের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা রাখার কথা থাকলেও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে স্টল দেওয়া উদ্যোক্তারা তাঁদের প্রদর্শনী উপস্থাপন করতে পারেননি। এতে মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তাদের প্রত্যাশিতভাবে নিজেদের পণ্য তুলে ধরার সুযোগ ব্যাহত হয়েছে।

এ বিষয়ে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর, বান্দরবানের উপপরিচালক মো. এনায়েত করিম বলেন, “এবারই প্রথম আমরা এ ধরনের মেলার আয়োজন করেছি। তাই নানা ধরনের ঘাটতি রয়েছে। এবার ১০টি স্টল করা হয়েছে। পরবর্তী সময়ে যাতে ২০ থেকে ২৫টি স্টল করা যায়, সে বিষয়ে চেষ্টা করব।”

মেলায় অংশ নেওয়া উদ্যোক্তা ও স্থানীয়দের প্রত্যাশা, আগামী দিনে মেলার প্রচার-প্রচারণা বাড়ানোর পাশাপাশি সার্বিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা হবে। এতে উদ্যোক্তারা তাঁদের পণ্য বিক্রির সুযোগ পাবেন এবং যুব মেলা আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।




নাইক্ষ্যংছড়ির ওমর ফারুক ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ আটক

নাইক্ষ্যংছড়ির ওমর ফারুক ইয়াবা ও মোটরসাইকেলসহ আটক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশি চালিয়ে ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ এক যুবককে আটক করা হয়েছে।

কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম, পিবিজিএম, পিএসসি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ৩১ অক্টোবর (২০২৬) বিকেলে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ রেজুখাল চেকপোস্টে তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। এ সময় টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী একটি মোটরসাইকেল তল্লাশি করে চালক মোঃ ওমরকে (২৫) আটক করা হয়। আটক ওমরের বাড়ি বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানায়, তার বাবার নাম মোঃ আমিন।

বিজিবি জানায়, ওমরের শরীরে অভিনব কায়দায় লুকানো ১০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবা পাওয়া যায়। মাদক পাচারে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল এবং একটি বাটন ফোন জব্দ করা হয়েছে। পরে জব্দকৃত ইয়াবা ও মালামালসহ আটক আসামিকে থানায় হস্তান্তর করা হয়।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, “বিজিবি শুধু সীমান্ত পাহারাতেই নয়, বরং মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধেও সমানভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভবিষ্যতেও এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।”