থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা
শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪১ অপরাহ্ন

থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা

থানচিতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ খৈয়ামকে ইউএনও ও বিএনপি নেতাকর্মীদের ফুলেল শুভেচ্ছা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় সরকারি সফরে এসেছেন বাংলাদেশ সরকারের সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. আলী নেওয়াজ খৈয়াম। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে থানচিতে পৌঁছালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল তাঁকে স্বাগত জানান। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দলটির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরাও ফুল দিয়ে প্রতিমন্ত্রীকে বরণ করে নেন।

সরকারি সফরকালে প্রতিমন্ত্রীর পরিবার থানচি উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন স্পটগুলো পরিদর্শন করবে। আগামী ২৪ অক্টোবর বিকেলে প্রতিমন্ত্রীর বান্দরবান ফিরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সমৃদ্ধ বান্দরবানের থানচি দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন এলাকা। এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা ও বৈচিত্র্যময় প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটকদের আকৃষ্ট করে। সরকারি এই সফরে প্রতিমন্ত্রীর পর্যটন স্পট পরিদর্শনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে নানা আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রীর সফরকালে পর্যটন খাতের উন্নয়ন, সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকাগুলোর অবকাঠামোগত সুবিধা বৃদ্ধি কিংবা স্থানীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ নিয়ে সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা সভার আয়োজন করার কথা রয়েছে।




সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা দেবে ৩৮ বিজিবি

সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টের বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা দেবে ৩৮ বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

সম্প্রীতি বান্দরবান ফুটবল টুর্নামেন্টে বিজয়ী নারী দলকে সংবর্ধনা জানাতে জমকালো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোন। নারী ফুটবলারদের সাফল্যকে সম্মান জানানো এবং তাঁদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাচিংপ্রু জেরী। নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা দেওয়ার পাশাপাশি অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়েছে। এতে দেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী আইডল মং, খেয়া, রাজীব, মেরি ও নাদিয়া আরফিন মৌরিসহ অন্যান্য শিল্পীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা যায়, আগামী ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় থানচি মাল্টিপারপাস টাউন হলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হবে। খেলাধুলায় নারীদের অংশগ্রহণ ও সাফল্যকে উৎসাহিত করা, তরুণ প্রজন্মের মধ্যে ক্রীড়াচর্চার আগ্রহ বাড়ানো এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য জোরদার করার ক্ষেত্রে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে নারী ফুটবলারদের অর্জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মান জানানোর মধ্য দিয়ে অন্য নারীদেরও খেলাধুলায় এগিয়ে আসতে অনুপ্রাণিত করার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

পার্বত্য বান্দরবানের বৈচিত্র্যময় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশে খেলাধুলা মানুষের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সহযোগিতা ও সম্প্রীতি গড়ে তোলার একটি কার্যকর মাধ্যম। সেই বিবেচনায় নারী ফুটবলারদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হবে বলে আশা করছেন আয়োজকরা।

বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) বলিপাড়া জোনের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান সফল ও সার্থক করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক ও পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিক।

আয়োজকরা আশা করছেন, নারী ফুটবলারদের সম্মাননা প্রদান এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে এ আয়োজন পার্বত্য অঞ্চলে ক্রীড়াঙ্গনের বিকাশ, নারীর ক্ষমতায়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।




রুমায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন

রুমায় আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বেকার যুবকদের দক্ষতা উন্নয়নে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের রুমায় বেকার যুবকদের কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি ও আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর রুমা জোনের উদ্যোগে আয়োজিত তিন সপ্তাহব্যাপী মোবাইল ফোন মেরামত প্রশিক্ষণ সম্পন্ন হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রুমা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীর রুমা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর মো. নেয়ামুল নাসির সিদ্দিকী।

গত ৪ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ প্রশিক্ষণে যুবকেরা মোবাইল ফোন মেরামতের বিভিন্ন কারিগরি বিষয়ে হাতে-কলমে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

প্রধান অতিথি প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সনদ এবং উপহারসামগ্রী তুলে দেন। প্রশিক্ষণে প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারী ২ জন শিক্ষার্থীকে নগদ অর্থ প্রদান করা হয়। অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা কাজে লাগিয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার পাশাপাশি এলাকার আর্থসামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রশিক্ষণার্থীদের প্রতি প্রধান অতিথি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ৩৬ বীরের ক্যাপ্টেন আবুল বাশার মো. শাকিল শিপু, রুমা সদর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান অংসিংনু মারমা, মো. ইদ্রিস মিয়া, রুমা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অংবাচিং মারমা, কোষাধ্যক্ষ উবাসিং মারমা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক চনুমং মারমাসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা বলেন, এ ধরনের কারিগরি প্রশিক্ষণ পাহাড়ি অঞ্চলের যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বেকারত্ব হ্রাস এবং আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পৌঁছেছেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা

সেনাবাহিনীর সহায়তায় খাগড়াছড়ি পৌঁছেছেন সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকরা
ছবি সংগৃহীত।

সেনাবাহিনীর সহায়তায় সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের গাড়িবহর খাগড়াছড়ি শহরে পৌঁছেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১টার দিকে পর্যটকবাহী গাড়ির বহরটি খাগড়াছড়ি শহরে এসে পৌঁছায়।

এর আগে সকাল পৌনে ৯টার দিকে তারা সাজেক থেকে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিভিন্ন স্থানে অবরোধের মুখে পড়লেও সেনাবাহিনীর সহায়তায় নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছান তারা।

পর্যটকরা জানান, সাজেকে চলমান আন্দোলন ও সড়ক অবরোধের কারণে তারা আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। ফেরার পথে কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। তবে এ ঘটনায় পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

ঢাকা থেকে সাজেকে বেড়াতে আসা পর্যটক আবুল কাশেম বলেন, আমরা দুই রাত তিন দিনের ট্যুরে বুধবার সাজেকে গিয়েছিলাম। সেখানে পৌঁছে সন্ধ্যায় জানতে পারি, আন্দোলন চলছে। আজ আমাদের সাজেক থেকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে। তিন দিনের জন্য গাড়ি ভাড়া করে অগ্রিম টাকা দিয়েছি। এখন গাড়িভাড়ার বিষয়টি কীভাবে সমাধান হবে, তা দেখতে হবে। এ ছাড়া ঢাকায় ফেরার বাসের টিকিটও দুই দিন পরের। এখন বাস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

অয়ন নামে আরেক পর্যটক বলেন, সাজেক থেকে সেনাবাহিনীর এস্কটের মাধ্যমে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো খাগড়াছড়িতে নিয়ে আসা হয়। পথে দুটি স্থানে প্রায় আধাঘণ্টা করে অপেক্ষা করতে হয়েছে। আন্দোলনকারীরা সড়ক অবরোধ করে রাখায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

তিনি বলেন, সেনাবাহিনী আমাদের নিরাপত্তা দিয়ে নিয়ে এসেছে। কয়েকটি স্থানে অবরোধকারীদের সঙ্গে নিরাপত্তা বাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সড়কের ওপর অসংখ্য ভাঙা ইট ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল। তবে পর্যটকদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

হবিগঞ্জ থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক অপু বলেন, ঘুরতে এসেছি আনন্দ করতে। কিন্তু এখানে এসে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। আমরা গতকাল সাজেকে গিয়েছিলাম। আন্দোলনের কারণে ভালোভাবে সাজেক ঘুরে দেখতে পারিনি। সন্ধ্যা থেকে বিভিন্ন ধরনের আন্দোলনের খবর শুনছিলাম। নিরাপদে ফিরতে পারব কি না, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় নিরাপদে খাগড়াছড়িতে পৌঁছেছি।

তিনি আরও বলেন, ফেরার পথে দুটি স্থানে আটকে পড়েছিলেন তারা। তাদের গাড়িবহরের আগে সেনাবাহিনীর কয়েকটি গাড়ি ছিল। আন্দোলনকারীরা সেনাবাহিনী ও পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনী অবরোধকারীদের সড়কের দুই পাশে ছত্রভঙ্গ করে পর্যটকবাহী গাড়িগুলো দ্রুত ওই এলাকা পার করে দেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে সাজেকে ২ হাজার ৬০০ জনের বেশি পর্যটক অবস্থান করছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে তাদের মধ্যে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী সহযোগিতা করে।

অবরোধের কারণ

সাজেকে সড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন নামে দুটি সংগঠন। সংগঠন দুটি পাহাড়ের আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসিত গ্রুপ) সমর্থিত বলে প্রচার রয়েছে।

তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে, সাজেক থেকে আরেক সশস্ত্র সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস-সন্তু গ্রুপ) সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে দেওয়া। গত কিছুদিন ধরে সাজেকে পিসিজেএসএস এর সশস্ত্র গ্রুপ সাজেকের কয়েকটি এলাকায় অবস্থান করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করছেন বলে অবরোধকারী সংগঠনগুলো অভিযোগ তুলেছে। তাদের ওই এলাকাগুলো থেকে সরিয়ে দিতে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সার্বিক নিরাপত্তা ও জানমাল রক্ষার দাবিতে অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে সংগঠন দুটি।

তবে এ বিষয়ে আঞ্চলিক ওই সংগঠন দুটির পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি।

এদিকে সড়ক অবরোধ ও আন্দোলনের কারণে সাজেকে বেড়াতে যাওয়া পর্যটকদের ভ্রমণ ব্যাহত হয়েছে। অনেকে নির্ধারিত সময়ের আগেই ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছেন। এতে পরিবহন ভাড়া ও ফেরার বাসের টিকিট নিয়েও অনিশ্চয়তায় পড়েছেন পর্যটকেরা।