থানচিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু, ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

থানচিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু, ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত

থানচিতে দুর্যোগ মোকাবিলায় কন্ট্রোল রুম চালু, ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত
ছবি সংগৃহীত।

টানা ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট সম্ভাব্য দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলা, ক্ষয়ক্ষতি পর্যবেক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান নিশ্চিত করতে বান্দরবানের থানচি উপজেলা প্রশাসন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) কার্যালয়কে কন্ট্রোল রুম হিসেবে ঘোষণা করেছে।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, আগামী ৬ জুলাই থেকে ৯ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কন্ট্রোল রুম ২৪ ঘণ্টা কার্যক্রম পরিচালনা করবে। 

জরুরি প্রয়োজনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)-এর মোবাইল নম্বর ০১৫৫০-০০৭১১৮৬ এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার মোবাইল নম্বর ০১৮১৮-৪৮৬৭৫৫-এ যোগাযোগ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে নদীতীরবর্তী এবং পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী পরিবারগুলোর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে উপজেলার ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। 

আশ্রয়কেন্দ্রগুলো হলো— বড় মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেমাক্রি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাসিংঅং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোট মদক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তিন্দু সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রুনাজন পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্তহা পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, থানচি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, থানচি মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, টিমং পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলিপাড়া বাজার উচ্চ বিদ্যালয়, বলিবাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ক্যচু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বলিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং নাইদারি পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নদীর তীরবর্তী এলাকা এবং পাহাড়ধসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে পরিস্থিতি অবনতি হলে দ্রুত নিকটস্থ আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্যোগকালীন সময়ে গুজবে কান না দিয়ে প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ এবং যেকোনো জরুরি তথ্য দ্রুত কন্ট্রোল রুমে জানানোর জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল জানায়, সম্ভাব্য যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সার্বক্ষণিক সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়েছে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”