থানচিতে চৈত্র সংক্রান্তি বৈসাবি উৎসব উদযাপন, পুরাতনকে বিদায় নতুনকে বরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

থানচিতে চৈত্র সংক্রান্তি বৈসাবি উৎসব উদযাপন, পুরাতনকে বিদায় নতুনকে বরণ

থানচিতে চৈত্র সংক্রান্তি বৈসাবি উৎসব উদযাপন, পুরাতনকে বিদায় নতুনকে বরণ
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অন্যতম বৃহৎ সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসব বৈসাবি—বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু যথাযোগ্য মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পালিত হয়েছে। পুরাতন বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে নানা আচার-অনুষ্ঠান ও বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হয়।
সোমবার(১৩ এপ্রিল) উৎসবকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন পাড়া ও গ্রামের সকাল থেকেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। ত্রিপুরা, মারমা, চাকমা, ম্রো ও অন্যান্য সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ ঐতিহ্য অনুযায়ী বৈসু, সাংগ্রাই ও বিজু পালন করেন। ঘরবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা, ফুল সংগ্রহ, ফুল ভাসানো, ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরিধান, এবং বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়।
চাকমা সম্প্রদায়ের বিজু উৎসবে নদী ও জলাশয়ে ফুল ভাসিয়ে পুরাতন বছরের সকল গ্লানি ও দুঃখ দূর করার প্রতীকী আচার পালন করা হয়েছে গতকাল। মারমা সম্প্রদায়ের সাংগ্রাই উৎসবে জলকেলি (পানি ছিটানো) অন্যতম আকর্ষণ হিসেবে দেখা যায়, যা নতুন বছরের শুভ কামনার প্রতীক। অন্যদিকে ত্রিপুরা সম্প্রদায় বৈসু উৎসবে ঐতিহ্যবাহী নৃত্য-গীত ও নানা সামাজিক আচার পালন করে।
এছাড়া উৎসব উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি, লোকজ নৃত্য, গান এবং খেলাধুলার আয়োজন করা হয়। বিভিন্ন বয়সের মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে উৎসবকে প্রাণবন্ত করে তোলে। তরুণ-তরুণীদের অংশগ্রহণে পুরো এলাকা হয়ে ওঠে আনন্দঘন ও রঙিন।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরাও উৎসবে অংশ নিয়ে সকল সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন, বৈসাবি উৎসব শুধু একটি সম্প্রদায়ের নয়, বরং পার্বত্য অঞ্চলের সকল মানুষের মিলনমেলা, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় স্থানীয়রা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী উৎসব আরও ব্যাপক আকারে উদযাপনের আশা ব্যক্ত করেছেন।
 




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”