থানচিতে কাজুবাদাম সংগ্রহ শুরু, ভালো ফলনের আশা কৃষকদের
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

থানচিতে কাজুবাদাম সংগ্রহ শুরু, ভালো ফলনের আশা কৃষকদের

থানচিতে কাজুবাদাম সংগ্রহ শুরু, ভালো ফলনের আশা কৃষকদের
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলায় পাহাড়ি ঢালে চাষ করা কাজুবাদামের ফলন তোলা শুরু করেছেন স্থানীয় কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন বেশিরভাগ কৃষকরা। এতে করে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করছেন তারা।
তবে স্থানীয় কৃষক ও ছাংদাক পাড়ার কারবারি উবামং মারমা বলেন, গত বছরের তুলনায় এবছর ফলন কিছুটা কম হবে আমার। কারন সাংগ্রাই আগে বৃষ্টি আমার বাগানে ফুল ঝড়ে পড়ে যাওয়ায় কিছুটা কমে হবে। 
আরেক কৃষক বাসামনি ত্রিপুরা বলেন, কাজুবাদাম চাষ এখন আমাদের জন্য লাভজনক হয়ে উঠছে। বাজারে দামও মোটামোটি ভালো, তাই আমরা চাষে আগ্রহী হচ্ছি। সময়মতো পরিচর্যা করতে পেরেছি, তাই ফলনও বেশি পাওয়া আশা করছি।
কৃষক লংছাই খুমী জানান, প্রথম দিকে কিছু সমস্যা থাকলেও কৃষি বিভাগের পরামর্শে তা কাটিয়ে উঠেছি। এখনো ফলন সংগ্রহ  করতেছি ভালো ফলন পাওয়া আশা করছি।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, থানচি উপজেলায় দিন দিন কাজুবাদাম চাষের পরিধি বাড়ছে। এটি পাহাড়ি অঞ্চলের জন্য সম্ভাবনাময় অর্থকরী ফসল হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অফিস উপ-সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ দাস গুপ্ত বলেন, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১ হাজার দুইশত ৪৫ জন কৃষক কাজুবাদাম চাষের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন। প্রায় ১ হাজার ১০ হেক্টর জমিতে এ চাষাবাদ হয়েছে। চলতি বছরে প্রায় ৯ শত ৭০ মেট্রিক টন কাজুবাদাম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আশা করছি, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে, যাতে তারা আরও আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করতে পারেন।
এদিকে কাজুবাদাম চাষে সাফল্য আসায় থানচির অন্যান্য কৃষকরাও এ ফসল চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও সহায়তা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে কাজুবাদাম থানচির অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”