থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭

থাইল্যান্ডে স্কুলে শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলা, শিক্ষকসহ নিহত ৭
ছবি সংগৃহীত।

থাইল্যান্ডে একটি স্কুলে এক শিক্ষার্থীর বন্দুক হামলায় ৭ জন নিহত এবং ১৫ জন আহত হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ওই স্কুলের এক শিক্ষক এবং হামলাকারী নিজেও আছে।

আজ শুক্রবার সকালে থাইল্যান্ডের মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলার একটি সুপরিচিত স্কুলে এই ঘটনা। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল।

ননথাবুরি প্রাদেশিক পুলিশের শীর্ষ নির্বাহী দেচরাপি কংদি সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী কমপক্ষে ১৫ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক আহত হয়েছেন। হামলাকারী ওই শিক্ষার্থীর নাম প্রকাশ করেননি তিনি, তবে বলেছেন যে নবম গ্রেডে পড়ত ওই শিক্ষার্থী এবং তার বয়স আনুমানিক ১৪ বছর।

দেচরাপি কংদি আরও জানান, স্কুলভবনের তৃতীয় তলার একটি ফাঁকা কক্ষ থেকে গুলি ছুড়েছিল ওই শিক্ষার্থী। বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ার পর সে নিজে আত্মঘাতী হয়।

গুলি শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা স্কুল থেকে সরে পড়েছিলেন।

পাসাকর্ন চাইতাউইয়ং নামের আরেক পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আহতদের মধ্যে কয়েক জনের অবস্থা গুরুতর। কী কারণে ওই শিক্ষার্থী এমন হামলা করল, তা এখনও জানা যায়নি। তবে প্রাদেশিক পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।

উল্লেখ্য, দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে থাইল্যান্ডে আগ্নেয়য়াস্ত্রের মালিকের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, থাইল্যান্ডে বর্তমানে সাধারণ নাগরিক পর্যায়ে ১ কোটি আগ্নেয়াস্ত্র আছে এবং দেশটিতে বসবাসকারী প্রতি ৭ জনের মধ্যে একজন আগ্নেয়াস্ত্রের মালিক।

সূত্র : এএফপি




হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত

হাসিনার বক্তব্যকে আমরা সমর্থন করি না : ভারত
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশের আপত্তি সত্ত্বেও গত ৫ আগস্ট মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত শেখ হাসিনাকে একটি প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলতে দেয় ভারত সরকার। এ নিয়ে ঢাকা ক্ষুব্দ প্রতিক্রিয়া জানায়।

হাসিনার প্রেস ব্রিফিংয়ের দুইদিন পর বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছে ভারত। আজ শুক্রবার (৮ আগস্ট) ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়ালকে এ নিয়ে প্রশ্ন করেছিলেন এ সাংবাদিক। জবাবে তিনি প্রথমে দাবি করেন, হাসিনাকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। আর হাসিনা ওইদিন বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে যা যা বলেছেন সেটিতেও নয়াদিল্লির সমর্থন নেই।

রণধীর বলেন, “একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজিত ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে ভারত সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। এতে সরকারের কোনো অবদান নেই। আমি বিষয়টি আবারও পুনর্ব্যক্ত করছি।”

প্রেস ব্রিফিংয়ে বক্তব্য রাখা হাসিনা ও অন্যান্যদের কথার প্রতি ভারতের কোনো সমর্থন নেই উল্লেখ করে এ কূটনীতিক বলেছেন, “ওই প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা কোনো কথাকেই (ভারত) সরকার সমর্থন করে না, বিশেষ করে বাংলাদেশের বৈধভাবে গঠিত সরকারের ব্যাপারে দেওয়া কোনো মন্তব্য তো নয়ই।”

হাসিনাপুত্র সজিব ওয়াজেদ ওইদিন মন্তব্য করেন ভারতের পূর্ব দিকের অঞ্চল (বাংলাদেশ) এখন  পাকিস্তানে পরিণত হচ্ছে এবং বাংলাদেশে সন্ত্রাসবাদ বিস্তার লাভ করছে। এ ব্যাপারে রণধীরকে অপর এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন। তিনি জিজ্ঞেস করেন জয় যে কথা বলেছে সেটিকে ভারত সমর্থন করে কি না, এ ব্যাপারে তারা কোনো কিছু করছেন কি না।

জবাবে রণধীর বলেন, “আমরা আমাদের একদম পাশের প্রতিবেশীর ওপর গভীর নজর রাখি, বিশেষ করে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট যেগুলো সেগুলোর ওপর। আর এ ক্ষেত্রে যেসব পদক্ষেপ নিতে হয় আমরা সেগুলো নেই।”




নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, এবার উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড

নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম, এবার উত্তাল ভারতের ঝাড়খণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

ভারতের ঝাড়খণ্ডে এবার নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় টানা ১২ দিন ধরে আন্দোলন চালিয়ে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এতে সমর্থন জানিয়েছে ভারতের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক প্ল্যাটফর্ম ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্দোলনটি ইতোমধ্যে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে। রাজধানী রাঁচির জয়পাল সিং মুন্ডা স্টেডিয়ামে শত শত মানুষ অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দিয়েছেন।

গত ৫ জুলাই ১৪তম ঝাড়খণ্ড পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (জেপিএসসি) প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলাফল ঘোষণার পর এ প্রতিবাদ শুরু হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চাকরিপ্রার্থীরা নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। এরপর থেকে শিক্ষার্থীরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির দাবিতে দিনরাত প্রতিবাদ এবং অনির্দিষ্টকালের অবস্থান ধর্মঘট করে আসছেন।
ক্রমবর্ধমান এ আন্দোলন শেষ পর্যন্ত রাজ্য সরকারকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে বাধ্য করেছে।

বুধবার রাঁচির মহকুমা কর্মকর্তা (এসডিও) কুমার রজত বিক্ষোভস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে সরকারের আগ্রহের কথা জানান। এ জন্য পাঁচ থেকে সাতজনের একটি প্রতিনিধি দল গঠন করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হেমন্ত সোরেন সরকার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মন্ত্রী ও কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে। রজত জানিয়েছেন, নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মসংক্রান্ত অভিযোগগুলো ইতোমধ্যে তদন্তাধীন রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এদিকে শিক্ষার্থীরা রুদ্ধদ্বার বৈঠকের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাদের দাবি, প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছভাবে ও প্রকাশ্যে পরিচালিত হলেই তারা আলোচনায় রাজি হবেন। সরকারের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা গণমাধ্যম ও ক্যামেরার উপস্থিতিতে হওয়া উচিত।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা অনিয়মের বিষয়ে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে রাজ্য সরকার জানিয়েছে, সিআইডি ইতোমধ্যে তদন্ত করছে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তারও করা হয়েছে।

বুধবার রাজ্য পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থা টিডিপিএলের হিসাবরক্ষক রক্ষক সিংকে গ্রেপ্তার করেছে সিআইডি। তিনি পরীক্ষা পরিচালনাকারী সংস্থার সদস্য ছিলেন। সিআইডি তাকে লখনউ থেকে গ্রেপ্তার করে রাঁচিতে নিয়ে এসেছে।

মামলায় সিআইডি আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে। সব মিলিয়ে এ ঘটনায় অন্তত ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এনডিটিভি জানিয়েছে, নিয়োগসংক্রান্ত অনিয়মের পূর্ণাঙ্গ উদ্ঘাটনে বিশেষ তদন্তকারী দল (এসআইটি) দায়িত্ব পালন করছে। কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যে ডিজিটাল রেকর্ড, আবেদনপত্রের তালিকা এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পরীক্ষা করেছে।

আন্দোলনে সিজেপির সমর্থন
ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বুধবার ঝাড়খণ্ডের আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে আন্দোলন একটি ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করবে।

মহারাষ্ট্রের ছত্রপতি সম্ভাজিনগরে নিজ শহরে সিজেপির কোর টিমের বৈঠকের আগে দীপকে বলেন, সিজেপির সদস্যরা চাকরিপ্রার্থীদের সমর্থন জানাতে ঝাড়খণ্ডে যাবেন।

তিনি বলেন, মানুষ বিচার বিভাগ, রাজনীতি, গণমাধ্যম এবং নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা হারিয়েছে। আমাদের আন্দোলন দেশব্যাপী সমর্থন পেয়েছে। আন্দোলন যত বেড়েছে, সমর্থন কেবল শিক্ষা-সংক্রান্ত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেনি; এসব প্রতিষ্ঠানকে ঘিরেও সমর্থন বেড়েছে। তাই, এসব প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীর প্রয়োজন রয়েছে।

সূত্র : এনডিটিভি




৮০ শতাংশ থাড ও অর্ধেক প্যাট্রিয়ট শেষ, যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র

৮০ শতাংশ থাড ও অর্ধেক প্যাট্রিয়ট শেষ, যুদ্ধ নিয়ে শঙ্কায় যুক্তরাষ্ট্র
ছবি সংগৃহীত।

ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মজুত দ্রুত কমে যাচ্ছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে থাকা থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রায় ৮০ শতাংশ ইন্টারসেপ্টর ব্যবহার হয়ে গেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

একই সঙ্গে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও যুদ্ধ শুরুর পর থেকে প্রায় অর্ধেক কমেছে। মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের একটি অংশ এরই মধ্যে সতর্ক করে বলেছেন, পেন্টাগনের গুরুত্বপূর্ণ গোলাবারুদের মজুত এখন ‘বিপজ্জনকভাবে কম’ পর্যায়ে রয়েছে।

থাড ও প্যাট্রিয়টের মজুত কমছে

ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আধুনিক দুই ধরনের প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থার প্রায় ২ হাজার ২০০টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং প্রায় ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল বলে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) হিসাব।

যুদ্ধের সময় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঠেকাতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে থাডের মজুত প্রায় চার-পঞ্চমাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টরের প্রায় অর্ধেক শেষ হয়ে গেছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

থাডের এত বড় ঘাটতির তথ্য এর আগে প্রকাশ্যে আসেনি।

উপসাগরীয় দেশগুলোও উদ্বিগ্ন

মার্কিন অস্ত্রের এই ঘাটতি নিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যেও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা হামলা ঠেকাতে এসব দেশের অনেকেই মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালায়, তাহলে প্রতিশোধ হিসেবে উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ঘাটতি এসব দেশের ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার সক্ষমতাকেও প্রভাবিত করতে পারে।

হামলা চালানোর সিদ্ধান্তের আগেও উঠেছিল মজুতের প্রশ্ন

ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলা চালানোর পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনার সময় মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা একাধিকবার অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

গত সপ্তাহে ইরানে নতুন হামলা চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেও বিষয়টি আলোচনায় আসে। একই সময়ে ইরানের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, বিশেষ করে জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালালে কী ধরনের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া হতে পারে, সে বিষয়েও মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য তুলে ধরা হয়।

উপসাগরীয় মিত্ররাও ইরানের পাল্টা হামলার আশঙ্কা জানায়।

এসব বিষয় শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পরিকল্পিত হামলা স্থগিত করার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ট্রাম্পের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত

একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শুক্রবার ইরানে বড় ধরনের হামলা চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল। প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথকে হামলার জন্য চূড়ান্ত অনুমতিও দেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু শনিবার মধ্যপ্রাচ্যের মিত্র দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনার পর ট্রাম্প হামলা থেকে সরে আসেন। এসব দেশ ইরানের পাল্টা হামলা এবং বিশেষ করে জ্বালানি অবকাঠামোতে আঘাতের আশঙ্কা জানিয়েছিল।

তবে ট্রাম্প ভবিষ্যতে হামলার সম্ভাবনা পুরোপুরি বাতিল করেননি।

পেন্টাগনের দাবি, অস্ত্রের ঘাটতি নেই

তবে মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী।

পেন্টাগনের প্রধান মুখপাত্র শন পারনেল বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী এবং প্রেসিডেন্ট যখন যেখানে প্রয়োজন মনে করবেন, সেখানে অভিযান চালানোর মতো সক্ষমতা তাদের রয়েছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র আনা কেলিও দাবি করেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের কৌশলগত লক্ষ্য পূরণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্রের মজুত রয়েছে।

দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রও দ্রুত কমছে

ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে শুধু থাড ও প্যাট্রিয়ট নয়, যুক্তরাষ্ট্রের দূরপাল্লার নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও দ্রুত কমছে।

মার্কিন সেনাবাহিনী আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিএসএম) ব্যাপকভাবে ব্যবহার করেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

এ ছাড়া টমাহক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুতও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একটি সূত্রের দাবি, যুদ্ধের সময় টমাহকের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার হয়ে গেছে।

এর আগে এপ্রিল মাসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, যুদ্ধের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৩০ শতাংশ টমাহক ব্যবহার করেছিল।

‘প্রতিটি হামলার জবাব’ দিয়ে যুদ্ধ শেষ হবে না

মার্কিন অস্ত্রের মজুত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি সূত্র বলেছে, আকাশ প্রতিরক্ষার ইন্টারসেপ্টর কমে গেলে ইরানের আত্মঘাতী ড্রোনগুলো বড় সংখ্যায় প্রতিরক্ষা ভেদ করে প্রবেশ করতে পারে।

ওই সূত্রের মতে, একের পর এক হামলা ও পাল্টা হামলা চালিয়ে এই যুদ্ধের শেষ হবে না।

ভবিষ্যৎ যুদ্ধ নিয়েও শঙ্কা

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ হলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ আরও বাড়তে পারে।

অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার প্রভাব ভবিষ্যতে চীন, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য বড় সংঘাতেও পড়তে পারে বলে তারা সতর্ক করেছেন।

অর্থাৎ ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ শুধু বর্তমান সংঘাতের জন্য নয়, ভবিষ্যতের বড় যুদ্ধের প্রস্তুতির ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

অস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর চেষ্টা

মজুত দ্রুত কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এরই মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিরক্ষা দপ্তর সাম্প্রতিক সময়ে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন বাড়ানোর পদক্ষেপ নিয়েছে। এ সপ্তাহেই প্যাট্রিয়ট ও থাডের রকেট মোটর উৎপাদন বাড়ানোর জন্য দুটি চুক্তি করা হয়েছে।

তবে এসব উদ্যোগের ফল কবে পাওয়া যাবে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানায়নি মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর।

মজুত পূরণ হতে লাগতে পারে কয়েক বছর

বিশ্লেষকদের মতে, প্যাট্রিয়টের মতো অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র দ্রুত তৈরি করা যায় না। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ সময় লাগে। ফলে যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ মজুত ছিল, সেখানে ফিরতে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

সিএসআইএসের হিসাব অনুযায়ী, থাড ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরতে তিন বছর বা তারও বেশি সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল ও জয়েন্ট এয়ার-টু-সারফেস স্ট্যান্ডঅফ মিসাইলের মতো কিছু অস্ত্রের মজুত তুলনামূলক দ্রুত পূরণ হতে পারে। সিএসআইএসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এসব অস্ত্রের মজুত ২০২৭ সালের মাঝামাঝি থেকে শেষ নাগাদ যুদ্ধ-পূর্ব পর্যায়ে ফিরে আসতে পারে।

ইরান যুদ্ধ নতুন বাস্তবতা সামনে আনছে

ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত তাই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তির সামনে একটি বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী হলেও দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চমাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করলে অস্ত্রের মজুত দ্রুত কমে যেতে পারে।

একদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, তাদের হাতে এখনো পর্যাপ্ত অস্ত্র রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের উদ্বেগ এবং বিভিন্ন বিশ্লেষণ বলছে, অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত পুনর্গঠনে কয়েক বছর সময় লাগতে পারে।

ফলে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ যত দীর্ঘ হবে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অস্ত্রের মজুত ও ভবিষ্যৎ সামরিক প্রস্তুতির প্রশ্নটিও তত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সূত্র: সিএনএন