ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন বান্দরবানের অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৪ পূর্বাহ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন বান্দরবানের অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পেলেন বান্দরবানের অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা
ছবি সংগৃহীত।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে তিন পার্বত্য জেলা থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন বান্দরবান জেলা বিএনপির মহিলা দলের নেত্রী অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সারাদেশে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ৩৬ জন প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ করে। এতে স্থান করে নেন বান্দরবানের এই নারী নেত্রী।
অ্যাডভোকেট মাধবী মারমা দীর্ঘদিন ধরে জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ২০২৪ সালের নভেম্বরে গঠিত বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের একজন সদস্য। পেশাগতভাবে তিনি বান্দরবান জেলা জজ আদালতের আইনজীবী এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটি, বান্দরবান শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন।
তার এই মনোনয়নকে পার্বত্য অঞ্চলে নারী নেতৃত্বের অগ্রগতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক অভিজ্ঞতার পাশাপাশি আইন পেশায় তার দক্ষতা সংসদীয় কার্যক্রমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
উল্লেখ্য, সংরক্ষিত নারী আসনের এই আসনটি পার্বত্য তিন জেলা—বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙ্গামাটি নিয়ে গঠিত। ফলে এই আসনের মাধ্যমে পুরো পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, এই আসনে মনোনয়ন পেতে বান্দরবান থেকে আরও কয়েকজন মহিলা দলের নেত্রী মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন উম্মে কুলসুম লীনা, আলীকদম উপজেলা মহিলা দলের নেত্রী শিরিন আক্তার এবং রুমা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান উম্যাচিং মারমা।
তবে সম্প্রতি বিএনপিতে যোগ দেওয়া মাধবী মারমার নাম চূড়ান্ত তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় জেলা বিএনপির দুটি গ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানা গেছে। তারপরও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বগুণ এবং পার্বত্য অঞ্চলের প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এই মনোনয়ন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”