ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫২ পূর্বাহ্ন

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী

ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম-স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না: ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

ত্রাণ বিতরণে কোনো ধরনের রাজনৈতিক মতভেদ বা স্বজনপ্রীতি বরদাস্ত করা হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, দুর্গত মানুষের সহায়তায় কোনো রাজনীতি নেই। ত্রাণ বিতরণে অনিয়মের কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার ৩ নম্বর খানখানাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বঢোমরা জলকদরের খাল খনন কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। পরিদর্শন শেষে মন্ত্রী খানখানাবাদ ইউনিয়ন পরিষদে বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন।

পরিদর্শনকালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বৃহত্তর চট্টগ্রামসহ সিলেট ও হবিগঞ্জের কয়েকটি জেলায় সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগ সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। অতিবৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। গত ৪৫ বছরের মধ্যে এবারই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দুর্গত মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে পর্যাপ্ত ত্রাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া নানা পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, ইতোমধ্যে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিয়ে বিশেষ সভা করা হয়েছে। মৎস্য খাত, ঘরবাড়ি ও কৃষির কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার একটি দ্রুত মূল্যায়ন তৈরি করতে বলা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তালিকা নির্ধারণ করে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

একই সঙ্গে বন্যা-পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় থেকে বিনামূল্যে বীজতলা তৈরি, বীজের চারা, বীজ ও সার সরবরাহ করা হবে। এছাড়া, বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সাথে সাথে যেন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাব না ঘটে, সেজন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি খাল খনন কর্মসূচিকে সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতির অংশ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমরা দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া খালগুলো পুনঃখনন করছি। আজ যে খালটির পাশে আমরা দাঁড়িয়ে আছি, সেটি সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান উদ্বোধন করেছিলেন। গত ১৭ বছর অযত্ন ও অবহেলায় ফেলে রাখার কারণে খালটির পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছিল।

তিনি আরও বলেন, এই খালটি পুনর্খননের ফলে এলাকায় পানি নিষ্কাশন সহজ হবে এবং শুকনো মৌসুমে কৃষিকাজের জন্য পানি ধরে রাখা সম্ভব হবে। পরিবেশ রক্ষায় খালের পাড়ে গাছ লাগানো হবে এবং খালের বাকি অংশের কাজ সম্পন্ন করতে দ্রুত বরাদ্দ দেওয়া হবে।

দুর্যোগ মন্ত্রী জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫০টি জেলায় একটি করে মডেল খাল চিহ্নিত করা হবে। বাঁশখালীর এই জলকদরের খালটিকেও সেই মডেল খালের অন্তর্ভুক্ত করার আশা প্রকাশ করেন তিনি।

খাল পরিদর্শন ও ত্রাণ বিতরণের সময় মন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. জহিরুল ইসলাম, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান, বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রুহুল আমিন এবং বাঁশখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল হকসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।