ত্যাগ, নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে—সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় লীনা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

ত্যাগ, নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে—সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় লীনা

ত্যাগ, নেতৃত্ব ও গ্রহণযোগ্যতায় এগিয়ে—সংরক্ষিত নারী আসনে আলোচনায় লীনা
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সম্ভাব্য ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের মধ্যে প্রায় ৩৫টি আসন পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—এমন রাজনৈতিক সমীকরণের মধ্যেই পার্বত্য জেলা বান্দরবান থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হচ্ছে ত্যাগী নারী নেত্রী উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনার নাম। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা, দলীয় আনুগত্য, তৃণমূল থেকে জেলা পর্যায় পর্যন্ত গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব এবং প্রতিকূল রাজনৈতিক বাস্তবতায় ধারাবাহিকভাবে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে সংরক্ষিত নারী আসনের একজন শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে দেখছেন স্থানীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। প্রায় দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছেন। বান্দরবান জেলা মহিলা দলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি বর্তমানে তিনি জেলা মহিলা দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দলীয় দুঃসময়ে রাজপথে সক্রিয় উপস্থিতি, নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ রাখা, তৃণমূল পর্যায়ে সংগঠনকে শক্তিশালী করা এবং রাজনৈতিক সংকটময় সময়েও দলকে সচল রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকা দীর্ঘদিন ধরেই দলীয় নেতাকর্মীদের কাছে প্রশংসিত। বিশেষ করে পার্বত্য অঞ্চলের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় পাহাড়ি ও বাঙালি জনগোষ্ঠীর মধ্যে সম্প্রীতি বজায় রাখা, নারীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা এবং সংগঠনকে কার্যকর রাখার ক্ষেত্রে তার নেতৃত্বকে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, পার্বত্য জেলার বহুমাত্রিক বাস্তবতায় এমন একজন নারী নেতৃত্বের প্রয়োজন রয়েছে, যিনি একইসঙ্গে নারীর অধিকার, সামাজিক সম্প্রীতি, রাজনৈতিক ভারসাম্য ও আঞ্চলিক উন্নয়ন—এই চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে সামনে রেখে কাজ করতে পারবেন, আর উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনার মধ্যে সেই সম্ভাবনাই সবচেয়ে বেশি প্রতিফলিত হচ্ছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিএনপির বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছিলেন, যা তার রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, ত্যাগ এবং দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যের স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হয়। স্থানীয় জনগণ ও দলীয় কর্মীদের মতে, সংরক্ষিত নারী আসনে একজন দক্ষ, অভিজ্ঞ ও গ্রহণযোগ্য নেত্রী নির্বাচিত হলে পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত নারী সমাজের কণ্ঠস্বর জাতীয় পর্যায়ে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপিত হবে এবং বান্দরবানের বাস্তব সমস্যা, সম্ভাবনা ও উন্নয়নের প্রশ্নগুলোও নতুনভাবে সামনে আসবে। এ বিষয়ে উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা বলেন, “গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিকভাবে নানা মামলা, হুমকি ও পুলিশি হয়রানির মুখোমুখি হয়েছি। তবুও কখনো রাজনীতি থেকে সরে যাইনি। আমি রাজনীতিতে কারও প্রতিপক্ষ নই এবং আমার সঙ্গে কারও প্রতিদ্বন্দ্বিতাও নেই।” তিনি আরও বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলের অবহেলিত নারী ও সাধারণ মানুষের কণ্ঠস্বর জাতীয় সংসদে তুলে ধরতে চাই। সংরক্ষিত নারী আসনে সুযোগ পেলে পাহাড়ি-বাঙালি সম্প্রীতি রক্ষা, নারী উন্নয়ন এবং বান্দরবানের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করব।” প্রসঙ্গত, বান্দরবান জেলা থেকে সর্বশেষ একজন নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ১৯৯১ সালে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে এই পার্বত্য জেলা থেকে জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নতুন কোনো নারী প্রতিনিধিত্ব দেখা যায়নি। ফলে নতুন করে সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়ায় স্থানীয় রাজনীতিতেও নতুন প্রত্যাশার জন্ম হয়েছে, আর সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন রয়েছেন বিএনপির দীর্ঘদিনের ত্যাগী, পরীক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য নারী নেত্রী উম্মে কুলসুম সুলতানা লীনা।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”