তদারকির অভাব নাকি কমিশনের প্রভাব! অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন

তদারকির অভাব নাকি কমিশনের প্রভাব! অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী

তদারকির অভাব নাকি কমিশনের প্রভাব! অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কার্যকর তদারকির অভাবে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ঠিকাদারের অভিযোগ, মেহেদীর তদারকিতে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় করতে কমিশন দাবি করা হয়। তাদের ভাষ্য, কমিশন না দিলে বিল ও ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব করা হয়। অর্থবছরের শেষ সময়ে (জুন ক্লোজিং) অতিরিক্ত কমিশনের চাপও সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেহেদীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্প্রতি রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়ায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬০০ মিটার দীর্ঘ এইচবিবি সড়ক প্রকল্পে প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালি ব্যবহার না করে ইট বসানো হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত এল-ড্রেনের কাজও নিম্নমানের।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে নিয়মিত নির্মাণস্থলে দেখা যায়নি। ফলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির স্বাধীন তদন্তে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, “কাজটি বিএনপি নেতা রাশেদ ভাই করছেন। আমি আগে নির্মাণস্থলে যাইনি। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করেছি। আমার কাছে কাজে কোনো অনিয়ম মনে হয়নি। ঠিকাদার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কাজ করছেন। কারও সন্দেহ থাকলে ল্যাব টেস্ট করানো যেতে পারে।”

তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিজেই আগে কখনও নির্মাণস্থলে যাননি বলে জানিয়েছেন, সেখানে কাজের গুণগত মান সম্পর্কে তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন? একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তদন্ত বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পটির নির্মাণমান, তদারকি ব্যবস্থা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”