তদারকির অভাব নাকি কমিশনের প্রভাব! অনিয়মের অভিযোগে প্রশ্নের মুখে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী

বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দায়িত্বপ্রাপ্ত উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়নের পুরো সময়জুড়ে কার্যকর তদারকির অভাবে নিম্নমানের কাজ হয়েছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পরও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী।
এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় ঠিকাদারের অভিযোগ, মেহেদীর তদারকিতে থাকা বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বিল ছাড় করতে কমিশন দাবি করা হয়। তাদের ভাষ্য, কমিশন না দিলে বিল ও ফাইল অনুমোদনে বিলম্ব করা হয়। অর্থবছরের শেষ সময়ে (জুন ক্লোজিং) অতিরিক্ত কমিশনের চাপও সৃষ্টি করা হয় বলে অভিযোগ তাঁদের। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে মেহেদীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি রুমা উপজেলার পাইন্দু ইউনিয়নের চান্দা হেডম্যান পাড়ায় প্রায় ৪৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৬০০ মিটার দীর্ঘ এইচবিবি সড়ক প্রকল্পে প্রকৌশলগত মানদণ্ড উপেক্ষা করে কাজ করার অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় পরিমাণ বালি ব্যবহার না করে ইট বসানো হয়েছে এবং পানি নিষ্কাশনের জন্য নির্মিত এল-ড্রেনের কাজও নিম্নমানের।
স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ চলাকালে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীকে নিয়মিত নির্মাণস্থলে দেখা যায়নি। ফলে কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তাদের দাবি, সংবাদ প্রকাশের পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রকল্পটির স্বাধীন তদন্তে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপসহকারী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, “কাজটি বিএনপি নেতা রাশেদ ভাই করছেন। আমি আগে নির্মাণস্থলে যাইনি। বিভিন্ন পত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশের পর সেখানে গিয়ে কাজ পরিদর্শন করেছি। আমার কাছে কাজে কোনো অনিয়ম মনে হয়নি। ঠিকাদার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে কাজ করছেন। কারও সন্দেহ থাকলে ল্যাব টেস্ট করানো যেতে পারে।”
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, যে প্রকল্পে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী নিজেই আগে কখনও নির্মাণস্থলে যাননি বলে জানিয়েছেন, সেখানে কাজের গুণগত মান সম্পর্কে তিনি কীভাবে নিশ্চিত হলেন? একই সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে অনিয়মের অভিযোগ প্রকাশিত হওয়ার পরও জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে তদন্ত বা ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, প্রকল্পটির নির্মাণমান, তদারকি ব্যবস্থা এবং উত্থাপিত অভিযোগগুলো নিরপেক্ষ কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক। অন্যথায় উন্নয়নের নামে নিম্নমানের কাজ ও সরকারি অর্থ অপচয়ের অভিযোগ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা তাঁদের।









