টেকনাফে ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ

সীমান্ত উপজেলা টেকনাফে কোস্টগার্ডের ইয়াবা উদ্ধারের মামলায় পলাতক আসামি দেখিয়ে এক ব্যবসায়ীকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি ঘটনাস্থলে উপস্থিত না থেকেও কীভাবে মামলায় আসামি হলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগী ব্যক্তি।
মামলাটি সঠিক তদন্তের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন হ্নীলার বাসিন্দা ভুক্তভোগী মো. আফসার কামাল।
তিনি বলেন, "গত ১১ মে লেদায় কোস্টগার্ডের অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ৭০ হাজার ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। সেই মামলায় কাউকে না পেয়ে আমাকে এক নম্বর পলাতক আসামি দেখিয়ে মামলা করা হয়েছে। অথচ সেদিন আমি আরেকটি ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় হাজিরা দিতে কুমিল্লা আদালতে ছিলাম। যার সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ ও আদালতে হাজিরার সাক্ষ্যপ্রমাণ আমার কাছে রয়েছে।"
আজ সোমবার দুপুরে কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এসব কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী মো. আফসার কামাল।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, "কুমিল্লায় অবস্থানকালে আমি কীভাবে ইয়াবা পাচার করতে গেলাম?"
একটি স্বার্থান্বেষী মহল প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে মানহানি ও হয়রানি করতে চাচ্ছে বলে দাবি করেন ভুক্তভোগী আফসার কামাল।
তিনি বলেন, "চিহ্নিত একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার সুনাম ও সামাজিক অবস্থান ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টায় নেমেছে। তাদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে আমাকে দুটি মাদক মামলায় আসামি বানিয়েছে। আরও নানামুখী ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।"
মো. আফসার কামাল হ্নীলা পূর্ব লেদার বাসিন্দা মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। পেশায় একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। ইটভাটা, লবণ ব্যবসা ও মুরগির খামার রয়েছে বলে তাঁর দাবি।
ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রের চিত্র তুলে ধরে মো. আফসার কামাল বলেন, "ভিত্তিহীন এই মামলায় উখিয়ার শামীম নামে আরেকজনকে ২ নম্বর পলাতক আসামি দেখানো হয়েছে। একইভাবে কুমিল্লায় ৪০০টি ইয়াবা উদ্ধার মামলায় আমাকে ও আমার ভাই নেজামকে পলাতক আসামি করা হয়েছে।"
কোস্টগার্ড সঠিক তথ্য যাচাই না করে মাদকের মামলায় আসামি বানানোকে 'জুলুম' বলে মন্তব্য করেছেন মো. আফসার কামাল। তিনি বলেন, "আমার প্রতি জুলুম করে সমাজের চোখে ছোট করার চেষ্টা করা হয়েছে। এতে আমিসহ পরিবারের ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে।"
সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে প্রশাসন ও সচেতন মহলের কাছে আকুল আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগী বলেন, ঘটনার সঠিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা হোক। দোষী ব্যক্তি যেই হোক, তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান মো. আফসার কামাল।







