টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে পটিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ

টানা অতি ভারী বর্ষণে পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা, ভাটিখাইন ও শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পৌরসভার শ্রীমতি খাল ও কয়েকটি ওর্য়াডে ও জলাবদ্ধতায় জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
অবিরাম বৃষ্টিতে বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
অনেক স্থানে পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিভিন্ন এলাকার কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে।
প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে না পারায় কর্মজীবী মানুষের আয়-রোজগারও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, মোবাইল চার্জ, শিশু ও বয়স্কদের দেখভালসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক এনায়েত উল্লাহ বলেন, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
এছাড়া পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরাও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
তিনি বলেন, “এক রাতের বৃষ্টিতেই কয়েক মাসের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে।”
কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বলেন, অতি ভারী বর্ষণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
তিনি ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রেখে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
পটিয়া পৌরসভার বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।






