টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে পটিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২১ পূর্বাহ্ন

টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে পটিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ

টানা ভারী বর্ষণে পানির নিচে পটিয়ার বিস্তীর্ণ জনপদ
ছবি সংগৃহীত।

টানা অতি ভারী বর্ষণে  পটিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গিয়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। উপজেলার কুসুমপুরা, জিরি, কোলাগাঁও, হাবিলাসদ্বীপ, বড়লিয়া, জঙ্গলখাইন, আশিয়া, কাশিয়াইশ, ছনহরা, ভাটিখাইন ও শোভনদণ্ডী ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
পৌরসভার শ্রীমতি খাল ও কয়েকটি ওর্য়াডে ও জলাবদ্ধতায় জনজীবনে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। 
অবিরাম বৃষ্টিতে বাড়িঘর, কাঁচা সড়ক, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও পুকুর তলিয়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। 
অনেক স্থানে পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় পরিবারগুলো নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। 
বিভিন্ন এলাকার কাঁচা সড়ক কাদায় চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে।
কোথাও কোথাও রাস্তা ভেঙে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে এবং জরুরি সেবাও ব্যাহত হচ্ছে।
দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, রোগী, কৃষক, দিনমজুর ও নিম্নআয়ের মানুষ।
অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে গেছে। 
প্রয়োজনীয় কাজে বের হতে না পারায় কর্মজীবী মানুষের আয়-রোজগারও ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় জনদুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
বিদ্যুৎ না থাকায় রান্না, বিশুদ্ধ পানি সংগ্রহ, মোবাইল চার্জ, শিশু ও বয়স্কদের দেখভালসহ নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় কাজেও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। 
পানিবাহিত রোগের আশঙ্কাও দেখা দিয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় কৃষক এনায়েত উল্লাহ বলেন, বীজতলা ও নতুন আবাদি জমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মৌসুমি চাষাবাদ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। 
এছাড়া পুকুর ও জলাশয়ের মাছ ভেসে যাওয়ায় ক্ষুদ্র মৎস্যচাষিরাও ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। 
তিনি বলেন, “এক রাতের বৃষ্টিতেই কয়েক মাসের পরিশ্রম ও বিনিয়োগ পানিতে ভেসে গেছে।”
কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান শওকত আকবর বলেন, অতি ভারী বর্ষণে পশ্চিম পটিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়নের জলাবদ্ধতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। 
দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে। 
তিনি ভেল্লাপাড়া স্লুইস গেট নিয়মিত খুলে রেখে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানান।
পটিয়া পৌরসভার বিশিষ্ট সমাজ সেবক হাজী মোহাম্মদ আবুল বশর সিআইপি  বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, কৃষিজমি, বীজতলা, মাছের ঘের ও বসতবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির তালিকা দ্রুত প্রস্তুত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। 
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও উপজেলা প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ ছাড়া এই সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব হবে না।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানুর রহমান জানান, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোর দায়িত্বপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। 
ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়াতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, তাৎক্ষণিকভাবে জলাবদ্ধতা নিরসন, ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার, ত্রাণ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া না হলে সামনের দিনগুলোতে দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।




বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে- শাহজাহান চৌধুরী এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদীয় পার্টির সেক্রেটারি ও চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেছেন, সাম্প্রতিক ভয়াবহ বন্যায় সাতকানিয়ার সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা নজিরবিহীন ক্ষতির মুখে পড়েছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের অসংখ্য সড়ক, কালভার্ট ও সেতুর সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। কৃষকরা উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে পারছেন না, শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হচ্ছে এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সব ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুন:র্নিমাণ করা হবে। মানুষের দুর্ভোগ লাঘবই এখন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বুধবার বিকালে সাতকানিয়া ঢেমশা ইউনিয়নের কেরানীহাট-হাঙ্গুরমুখ সড়কের কার্তিকের দোকান এলাকায় বন্যায় ধসে যাওয়া অংশ পরিদর্শনকালে তিনি এসব কথা বলেন।

এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে তাদের দুর্ভোগের কথা শোনেন। পাশাপাশি দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরুর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া উপজেলা প্রকৌশলী সবুজ কুমার দে, সাতকানিয়া উপজেলা জামায়াতের সাংগঠনিক সেক্রেটারি মাওলানা মাহমুদুল হক, ঢেমশা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি নেজাম উদ্দিন, সেক্রেটারি অধ্যক্ষ আবুল হিসাম মোহাম্মদ জাবেদ, নলুয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি মাওলানা কামাল উদ্দিন, সেক্রেটারি আবুল বাশার, ইউপি সদস্য পলাশ সেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।




লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু

লোহাগাড়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে যুবকের মৃত্যু
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মো. দেলোয়ার (২৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। তিনি পেশায় একজন ড্রাইভার ছিলেন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকায় নিজ বাড়ির ছাদে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত দেলোয়ার পূর্ব পদুয়া দিঘির পাড়া এলাকার জরির বর বাড়ির বাসিন্দা মাহমদ মিয়ার ছেলে।

প্রতিবেশী ব্যবসায়ী মো. সাইফুল জানান, ঘটনার দিন দেলোয়ার বাড়ির ছাদে মুরগির ফার্মে কাজ করছিলেন। এ সময় অসাবধানতাবশত তিনি বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

লোহাগাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) প্রশান্ত কুমার ভৌমিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ বিষয়ে কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি।
 




বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ

বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ পরিবারের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের নগদ অর্থ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

বাঁশখালীতে ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে। বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে মিয়ারবাজারস্থ ইসলামী আন্দোলন কার্যালয়ে ৭০ জন ক্ষতিগ্রস্ত আলেম ও তাঁদের পরিবারের কাছে এই অর্থ হস্তান্তর করা হয়।

এতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মুফতি দেলোয়ার হোসাইন সাকী। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি মুজাহিদ ছগির আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ মুহাম্মদ ইকবাল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সেক্রেটারি ও বাঁশখালী আসনে হাতপাখার প্রার্থী মাওলানা হাফেজ রুহুল্লাহ তালুকদার, মাওলানা ইয়াছিন আমিনী, মাওলানা মুফতি নুরুল আমিন, মাওলানা ফয়জুল্লাহ, মাওলানা মোহাম্মদ ইউনুস, মাওলানা মোজাম্মিলুল হক ও মাওলানা আনোয়ারুল ইসলাম প্রমুখ।