টানা তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪১ পূর্বাহ্ন

টানা তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম

টানা তৃতীয় দফা কমলো সোনার দাম
ছবি সংগৃহীত।

টানা তৃতীয় দফা দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ দুই হাজার ২১৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে।

​মঙ্গলবার (২৯ সে‌প্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস এ তথ্য জানিয়েছে। সোনার এই নতুন দাম সকাল ১০টা থেকে কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৮ হাজার ৫৫৬ টাকা। যা সোবার (২৮ সেপ্টম্বর) ছিল ২ লাখ ৩০ হাজার ৭৭২ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৮ হাজার ২৯২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে এক লাখ ৮৭ হাজার ৪৪০ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ১৪৮ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে কমানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৩১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ১৪১ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৩ হাজার ৫৫৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ২ হাজার ৬৮৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

একনেকে ১৬ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৫ হাজার ৮২৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন করেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এ অনুমোদন দেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান।

প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ১১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৫ হাজার ২৫২ কোটি ৯৬ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৩৮২ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অনুমোদিত ১৩টি প্রকল্পের মধ্যে ৮টি নতুন প্রকল্প, ৩টি সংশোধিত প্রকল্প এবং ২টি মেয়াদ বৃদ্ধির প্রকল্প রয়েছে।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; মহিলা ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন; ভূমি মন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু; শিল্প, বস্ত্র ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; পানি সম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি; বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি; বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশ নেন।

একনেক সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্বাস্থ্য সেবা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো যক্ষ্মা, এইচআইভি এইডস ও ম্যালেরিয়া মোকাবিলায় সমন্বিত স্বাস্থ্যব্যবস্থা জোরদার করা এবং পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপন, পটুয়াখালী (১ম সংশোধিত)। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ফিন্যান্সিয়াল সেক্টর সাপোর্ট প্রজেক্ট-২ (এফএসএসপি-২)”। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহী বিভাগে বিদ্যমান শারীরিক প্রতিবন্ধী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ এবং মানসিক প্রতিবন্ধী শিশুদের প্রতিষ্ঠান রৌফাবাদ, চট্টগ্রাম-এ হোস্টেল ভবন সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা”।

পানি মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “মুসাপুর রেগুলেটর নির্মাণসহ ছোট ফেনী এবং বামনী নদী অববাহিকায় সমন্বিত বন্যা ও নদী ব্যবস্থাপনা এবং নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন (অংশ-১)” এবং “মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলাধীন শিবপুর, ধনিয়া ও মেদুয়া এলাকা রক্ষা”। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “ডিজিটাল পদ্ধতিতে ভূমি জরিপের মাধ্যমে ৩টি সিটি কর্পোরেশন, ১টি পৌরসভা এবং ২টি গ্রামীণ উপজেলায় ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত)”।

স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “রংপুর বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা ও ইউনিয়ন সড়ক প্রশস্তকরণ ও শক্তিশালীকরণ প্রকল্প” এবং “মাদারীপুর, শরীয়তপুর ও রাজবাড়ী জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধন)”। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প (১ম পর্যায়) (৩য় সংশোধন)”। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ১টি প্রকল্প হলো “র‍্যাব (এসআরবি)-এর কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ (২য় সংশোধিত)”। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২টি প্রকল্প হলো “ফেনী জেলার সোনাগাজীতে সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের লক্ষ্যে ভূমি অধিগ্রহণ” এবং “তিনটি পার্বত্য জেলায় বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ”।

একনেক সভায় পরিকল্পনামন্ত্রীর নিজস্ব ক্ষমতাবলে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১৫টি প্রকল্প সর্ম্পকেও অবহিত করা হয়। ওই প্রকল্পগুলো হলো- বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, নির্ঝর ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিদ্যমান ৩ তলা ভবনের উপর ৪র্থ, ৫ম ও ৬ষ্ঠ তলার ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ (৬ তলার ভিত) প্রকল্প; বিমান বাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলা ঢাকায় বিদ্যমান বিএএফ শাহীন কলেজের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও শিক্ষাদান সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্প; আলীকদম সেনানিবাসে আলীকদম ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন (২য় পর্ব) প্রকল্প; ঢাকা মহানগরী ও পূর্বাচলে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ দৃষ্টিনন্দনকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ১০ জেলায় বিএসটিআইর আঞ্চলিক কার্যলয় স্থাপন (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; রূপসা ৮০০ মে. ওয়াট কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প (১ম সংশোধিত); মিরপুর ইউসেপ-শ্রম ও কর্মসংস্থান ইনস্টিটিউট স্থাপন এবং মানসম্পদ উন্নয়ন (১ম সংশোধিত); ক্লাইমেট-স্মার্ট এগ্রিকালচার অ্যান্ড ওয়ার্টার ম্যানেজমেন্ট (সিএসএডাব্লিউএম) (বাপাউবো অংশ) প্রকল্প (১ম সংশোধিত); কুড়িগ্রাম জেলার কুড়িগ্রাম সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলাধীণ ধরলা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণসহ বাম ও ডান তীর সংরক্ষণ (২য় সংশোধন); হবিগঞ্জ জেলার বিবিয়ানী বিদ্যুৎ কেন্দ্রসমূহের সম্মুখে কুশিয়ারা নদীর উভয় তীর প্রতিরক্ষা (২য় সংশোধন) প্রকল্প; ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশনের সড়ক উন্নয়ন ও ড্রেনেজ নেটওয়ার্কসহ নাগরিক সেবা উন্নতকরণ (১ম সংশোধিত) প্রকল্প; সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ প্রকল্প (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; বাংলাদেশের ২৩টি পৌরসভায় পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন প্রকল্প (জিওবি আইডিবি) (২য় সংশোধিত) প্রকল্প; ভূয়াপুর-তারাকান্দি জেলা মহাসড়ক (জেড-৪৮০১) যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভায় ভূপৃষ্ঠস্থ পানি পরিশোধপূর্বক পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ ও নিরাপদ স্যানিটেশন প্রকল্প।




প্রথমবার তিন মাসের মুদ্রানীতি: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই বিনিয়োগে গতি ফেরাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রথমবার তিন মাসের মুদ্রানীতি: মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখেই বিনিয়োগে গতি ফেরাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক
ছবি সংগৃহীত।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ ও ব্যাংকঋণের চাহিদা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশের ওপরে থাকলেও বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের নিচে। এমন পরিস্থিতিতে মূল্যস্ফীতি কমানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি ফেরানো ও উৎপাদনশীল খাতে ঋণের প্রবাহ বাড়ানোর মধ্যে ভারসাম্য রাখাই নতুন মুদ্রানীতির অন্যতম লক্ষ্য।

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. হাবিবুর রহমান নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করবেন। প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম তিন মাসের (অক্টোবর-ডিসেম্বর) জন্য এ মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আরিফ হোসেন খান বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণার একটি প্রস্তাব ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংক বিষয়টি পর্যালোচনা করে তিন মাসের জন্য নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণার উদ্যোগ নিয়েছে।

মুদ্রানীতিতে কোন বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগ দুটিই গুরুত্বপূর্ণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই দুটি বিষয় নিয়েই কাজ করে। তাই মূল্যস্ফীতি ও বেসরকারি বিনিয়োগকে সমন্বয় করেই নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা হবে।’

এতদিন বাংলাদেশ ব্যাংক বছরে দুইবার জানুয়ারি-জুন ও জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে মুদ্রানীতি ঘোষণা করত। এবার তিন মাসের জন্য মুদ্রানীতি ঘোষণার মাধ্যমে সেই ধারায় পরিবর্তন আসছে।

বেসরকারি বিনিয়োগ

বেসরকারি খাতে ব্যাংকঋণের প্রবৃদ্ধি দীর্ঘদিন ধরেই দুর্বল। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জুলাই শেষে এ খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ৬২ শতাংশ। জুনে এ প্রবৃদ্ধি ছিল ৪ দশমিক ৪৭ শতাংশ, যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বিনিয়োগের স্থবিরতা, ব্যবসায়িক অনিশ্চয়তা, জ্বালানি সংকট ও উচ্চ সুদের কারণে ঋণের চাহিদা কমেছে। ব্যাংকগুলোতে পর্যাপ্ত তারল্য থাকলেও নতুন বিনিয়োগে উদ্যোক্তাদের আগ্রহ কম থাকায় সেই অর্থ উৎপাদনশীল খাতে যাচ্ছে না।

বেসরকারি বিনিয়োগে গতি ফেরাতে গত ২ আগস্ট নীতি সুদহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ঋণের খরচ কমিয়ে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানো ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তবে এরপরও বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশের ওপরে ওঠেনি।

মূল্যস্ফীতির চাপ

অন্যদিকে মূল্যস্ফীতির চাপ কিছুটা কমেছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে দেশে সাধারণ মূল্যস্ফীতি হয়েছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। আগস্টে মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন।

তবে মূল্যস্ফীতি এখনো ৮ শতাংশের ওপরে থাকায় মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর চাপ রয়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতি কমানোর ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ঋণ ও বিনিয়োগ বাড়াতে কতটা সুযোগ রাখা হবে, সেটিই নতুন মুদ্রানীতিতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে নীতি সুদহার বর্তমান অবস্থানে রাখার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সরকারের সম্ভাব্য প্রণোদনা কর্মসূচি, বিভিন্ন খাতে তারল্য সহায়তা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডলার কেনার ফলে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত তারল্য তৈরি হতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতির ওপর নতুন চাপ তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।

তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি

সম্প্রতি জাতীয় সংসদের একটি কমিটিতেও বছরে চারবার মুদ্রানীতি ঘোষণার প্রস্তাব এসেছে। অর্থনীতির দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে মুদ্রানীতিকে দ্রুত সমন্বয় করাই এর অন্যতম উদ্দেশ্য। তিন মাস পরপর মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হলে মূল্যস্ফীতি, ঋণপ্রবাহ, বিনিয়োগ ও তারল্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ পাবে।

এর আগে গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটে আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পাশাপাশি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

সরকারের লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আসন্ন অর্থবছরে গড় মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য ঠিক করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বর্তমানে মূল্যস্ফীতি সেই লক্ষ্যের চেয়ে প্রায় দেড় শতাংশীয় পয়েন্ট বেশি।

এ অবস্থায় আগামী তিন মাসের মুদ্রানীতিতে নীতি সুদহার, তারল্য ব্যবস্থাপনা এবং বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কী অবস্থান নেয়, তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।




বাংলা কিউআরে লেনদেনে মিলবে প্রণোদনা

বাংলা কিউআরে লেনদেনে মিলবে প্রণোদনা
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা কিউআর কোডের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়াতে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতা বাড়িয়ে এবার ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২ এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।


নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, জাতীয় পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (এনপিএসবি)-এর মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া বাংলা কিউআরভিত্তিক ২ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রতিটি লেনদেনে একুয়্যারিং প্রতিষ্ঠানকে ০ দশমিক ১০ শতাংশ এবং ইস্যুয়িং প্রতিষ্ঠানকে ০ দশমিক ২০ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। মাসিক ভিত্তিতে এ প্রণোদনা দেওয়া হবে।


বাংলাদেশে কার্যরত সব তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং আন্তর্জাতিক পেমেন্ট স্কিমের জন্য এ নির্দেশনা প্রযোজ্য হবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ব্যক্তিক রিটেইল হিসাবের মাধ্যমে নিবন্ধিত ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবাদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টের পাশাপাশি ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টও এ প্রণোদনার আওতায় থাকবেন।


এর আগে গত ১০ আগস্ট জারি করা সার্কুলার লেটারের মাধ্যমে বাংলা কিউআর লেনদেনে প্রণোদনা চালু করা হয়। তবে তখন এ সুবিধা নির্দিষ্ট কিছু ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক বিক্রেতা এবং সেবাদানকারী মার্চেন্ট পয়েন্টের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। নতুন নির্দেশনায় সেই পরিধি বাড়িয়ে ট্রেড লাইসেন্সধারী অন্যান্য মার্চেন্টকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, নতুন সার্কুলারে প্রতিস্থাপিত অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা শর্ত ছাড়া আগের নির্দেশনার অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত থাকবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-২-এর পরিচালক মো. শরাফত উল্লাহ খানের সই করা সার্কুলারটি সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।