জুলাই আন্দোলনে ৬ জনকে হত্যা: ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

জুলাই আন্দোলনে ৬ জনকে হত্যা: ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন

জুলাই আন্দোলনে ৬ জনকে হত্যা: ইনুর মামলার রায় ৩০ জুন
ছবি সংগৃহীত।

জুলাই আন্দোলন তথা গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায় আগামী ৩০ জুন ঘোষণা করা হবে। সোমবার (২২ জুন) মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ দিন নির্ধারণ করেন।

ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারিক প্যানেল। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য হলেন- বিচারক মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

মামলায় আসামি ইনুর বিরুদ্ধে মোট আটটি অভিযোগ আনা হয়। এর মধ্যে তার নির্বাচনী এলাকা কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলায় উসকানি দেওয়া, শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে আন্দোলনকারীদের দমনে গুলির নির্দেশ দেওয়া, কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে ফোন করে আন্দোলনকারীদের গুলির নির্দেশ দেওয়া ইত্যাদি।

এর আগে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) সভাপতি হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে করা মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রেখেছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। তারই ধারাবাহিকতায় আজ রায়ের দিন ঠিক করা হয়। এর আগে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের দীর্ঘ যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন শেষে ১৪ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন।

ওইদিন রাষ্ট্রপক্ষ ইনুর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে আদালতে তার সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি দাবি করে আসামিপক্ষ তার খালাস চেয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম, প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ও প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। আমামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী ও সিফাত মাহমুদ।

প্রসিকিউশনের দাবি, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে হাসানুল হক ইনু উসকানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন। ইনুর প্ররোচনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনা বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ও বাস্তবায়ন করেছেন। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে এসব অপরাধের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় (সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি) তার ওপরেও বর্তায়।

শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে বক্তব্যের রেকর্ড প্রসঙ্গটি প্রসিকিউশন আদালতে তুলে ধরেছে, যেখানে জাসদ সভাপতি গণআন্দোলনকে ‘জঙ্গিবাদ’ আখ্যা দিয়ে দমনের কথা বলেছেন।

আসামিপক্ষের দাবি, শেখ হাসিনার সঙ্গে ইনুর টেলিফোনে কথোপকথনের রেকর্ডের কোথাও ‘আন্দোলন দমনে গুলি করতে হবে, বোম্বিং করতে হবে বা নির্যাতন করতে হবে’, এমন কোনো বক্তব্য নেই। প্রসিকিউশনের দাখিল করা নথিতেও ইনুর এমন বক্তব্য বা তথ্য নেই যে, তিনি আন্দোলন দমনে কাউকে গুলি করতে বা নির্যাতন করতে উসকানি দিয়েছেন বা ষড়যন্ত্র করেছেন।

গত বছরের ১ ডিসেম্বর এ মামলায় প্রসিকিউশনের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। এর আগে ওই বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর, সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করে প্রসিকিউশন। সেদিনই শুনানি শেষে ইনুর বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয় ট্রাইব্যুনাল।

প্রসিকিউশন জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে কুষ্টিয়া শহরে শ্রমিক আশরাফুল ইসলাম, সুরুজ আলী বাবু, শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মুস্তাকিন, উসামা, ব্যবসায়ী বাবলু ফরাজী ও চাকরিজীবী ইউসুফ শেখ নিহত হন। আহত হন বহু নিরীহ মানুষ। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইনুর বিরুদ্ধে উসকানি, প্ররোচনা ও ষড়যন্ত্রসহ সুনির্দিষ্ট আটটি অভিযোগে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করে প্রসিকিউশন।




ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল

ইউপি চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতক করতে হাইকোর্টের রুল
ছবি সংগৃহীত।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতা কমপক্ষে স্নাতক নিশ্চিতে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণে ব্যর্থ ইউনিয়ন পরিষদ আইনের ২৬ ধারা কেন সংবিধানের সঙ্গে কেন সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হবে না তাও জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট।

বুধবার (২২ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীর করা রিটের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল দেন।

রুলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের জন্য ইউনিয়ন পরিষদ আইন, ২০০৯ এর ধারা ২৬ এর অধীনে ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা (কমপক্ষে স্নাতক) নিশ্চিত করার জন্য কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না তা জানতে চেয়েছেন।

এলজিআরডি সচিব, আইন সচিব ও প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

আদালতে রিট দায়ের করেন আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান ও মো. তানভীর আহমেদ খান।

আইনজীবী কাজী ফেরদাউসুল হাসান বলেন, একজন চেয়ারম্যানকে নানা ধরনের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গ্রাম আদালত পরিচালনা করার ক্ষমতা। সেখানে তিন লাখ টাকা মূল্যের মামলা পরিচালনা করতে পারেন। অথচ এই ক্ষমতা যে ম্যাজিস্ট্রেটের রয়েছে, তাকে আইনে স্নাতক সম্পন্ন করে বিজেএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। এখানে চেয়ারম্যানের কোনো শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে না। তাই স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ এ চেয়ারম্যানের যোগ্যতা সংক্রান্ত ২৬ ধারা চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। আমরা চেয়ারম্যানের শিক্ষাগত যোগ্যতা ন্যূনতম স্নাতক চেয়েছি।




সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড

সীতাকুণ্ডে শিশু ইরা হত্যা মামলায় আসামি বাবু শেখের মৃত্যুদণ্ড
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে আট বছরের শিশু জান্নাতুল নাঈম ইরাকে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে গলা কেটে হত্যার মামলায় একমাত্র আসামি বাবু শেখকে (৫০) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক জান্নাতুল ফেরদৌস আলেয়া এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডসহ ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। এ ছাড়া অপহরণ ও ধর্ষণের চেষ্টার পৃথক ধারায় তাকে যাবজ্জীবন ও ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডসহ আরও দেড় লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু জানান, গত ১ মার্চ সীতাকুণ্ডের চন্দ্রনাথ পাহাড়ে চকোলেটের লোভ দেখিয়ে ইরাকে নিয়ে যান বাবু শেখ। সেখানে ধর্ষণের চেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে ধারালো ছুরি দিয়ে শিশুটির শ্বাসনালি কেটে খাদে ফেলে দেন তিনি। রক্তাক্ত ইরা অলৌকিকভাবে পাহাড়ের ঢাল বেয়ে ওপরে উঠে এলে শ্রমিকরা তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে মৃত্যুর সঙ্গে দুই দিন লড়াই করে ৩ মার্চ ইরা মারা যায়। মৃত্যুর আগে সে তার ওপর হওয়া নির্যাতনের বিবরণ দিয়ে যায়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিসিটিভি ফুটেজ ও ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে গত ১৫ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। মাত্র ৪ মাসের মধ্যে দ্রুততম সময়ে এই রায় আসায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন নিহত ইরার পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ। তারা একে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন।




হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

হামে শিশুর মৃত্যু : ড. ইউনূসসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন
ছবি সংগৃহীত।

হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়িত্বে অবহেলাজনিত মৃত্যুর অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুর জাহান বেগমসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী এক শিশুর বাবা।

রোববার (৫ জুলাই) সকালে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে সিরাজুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তি এই আবেদন করেন। এসময় আদালত বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রেখেছেন। বাদী পক্ষের আইনজীবী তাসলিমা জাহান পপি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

আবেদনে অপর আসামিরা হলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ডা. মো. আবু জাফর ও সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।

বাদী সিরাজুল ইসলাম মামলার আবেদনে উল্লেখ করেন, ৯ মাসের শিশুকন্যা সাউদা মুসকান জ্বরে আক্রান্ত হলে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে শয্যা সংকট, অক্সিজেনের অভাব, চিকিৎসক ও নার্সদের অবহেলা এবং যথাযথ চিকিৎসা না পাওয়ার কারণে অবস্থার অবনতি ঘটে। সঠিক সময়ে হামের টিকা সরবরাহ না থাকায় শিশুটি টিকা নিতে পারেনি এবং এ কারণেই হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, স্বাস্থ্য উপদেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালনে অবহেলা করেছেন। তাদের বিরুদ্ধে হামের টিকা সংগ্রহ, সরবরাহ ও টিকাদান কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন। এই অবহেলার ফলে দেশব্যাপী শত শত শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে এবং হাজারো শিশু চিকিৎসাধীন।

তাদের এসব কর্মকাণ্ড সংবিধান অনুযায়ী জনস্বাস্থ্য ও জীবন রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব লঙ্ঘন, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবহেলা এবং আইনগত দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার শামিল বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।