জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ তাঁর পরিবারের উপর সন্ত্রাসী হামলা, আহত ৩

কক্সবাজারের নবগঠিত মাতামুহুরি উপজেলার কোনাখালী ইউনিয়নে সরকারি পুকুর ইজারা নেওয়াকে কেন্দ্র করে এক বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে ধারালো ক্ষুর, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে চালানো এই হামলায় কোনাখালী ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি ও স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল হামিদ (৩৮)-সহ তাঁর ছোট ভাই ও চাচাতো ভাই গুরুতর আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা ভুক্তভোগীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করার পাশাপাশি নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে চকরিয়া থানাধীন কোনাখালী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের শহর আলী পাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে তৌহিদের চা দোকানের সামনের রাস্তায় এই ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় আহত জামায়াত নেতা পল্লী চিকিৎসক আব্দুল হামিদ বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে চকরিয়া থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
হামলায় গুরুতর আহত ব্যক্তিরা হলেন— কোনাখালী ইউনিয়নের নয়া ঘোনা এলাকার মোস্তাক আহমদের ছেলে এবং ইউনিয়ন জামায়াতের সহ-সেক্রেটারি আব্দুল হামিদ (৩৮),
তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ সিফাত (২২) এবং তাঁদের চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন। আহতরা বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
থানায় এজাহার সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— শহর আলী পাড়ার আমির হোসেনের ছেলে নুরুল আলম নুরু (৩৮), নতুন খোনা পাড়ার ফকির মোহাম্মদের ছেলে জাকের হোসেন প্রকাশ শুরাইয়া (২৪), আমির হোসেনের ছেলে শফি আলম (২৬), মৃত খাদেম আলীর ছেলে আহমদ হোসেন (৫৮), আমির হোসেনের ছেলে শামসুল আলম (৪২) এবং তার ভাই মনির আলম (২৮)।
এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কোনাখালী ইউনিয়নে বাংলাদেশ সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের অধীনে রেড ক্রিসেন্ট সাইক্লোন সেন্টারের পাশে দুটি সরকারি পুকুর রয়েছে। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম, নুরুল আলম নুরু ও তাদের সহযোগীরা পুকুর দুটি গায়ের জোরে অবৈধভাবে ভোগদখল করে আসছিলেন।
সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, চকরিয়া উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে সরকারি নিয়ম মেনে পুকুর দুটি ইজারা (লিজ) নেওয়ার জন্য আবেদন করেন জামায়াত নেতা ডাঃ আব্দুল হামিদ। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে সাবেক সরকারি দলের সুবিধাভোগী ওই চক্রটি। তারা আব্দুল হামিদ ও অন্যান্য ইজারা প্রার্থীদের বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছিল।
আজ ৩টার দিকে ডাঃ আব্দুল হামিদ তাঁর বসতবাড়ি থেকে পায়ে হেঁটে নিজের চেম্বারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। তিনি শহর আলী পাড়া স্টেশনের পূর্ব পাশে তৌহিদের চা দোকানের সামনে পৌঁছানো মাত্রই পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা আসামিরা দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাঁর পথরোধ করে,তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো ক্ষুর দিয়ে তাঁর মুখের বাম পাশে ও গালে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে।
এদিকে আব্দুল হামিদের শোর-চিৎকার শুনে তাঁর ছোট ভাই মোহাম্মদ সিফাত ও চাচাতো ভাই শেখ সালাহউদ্দিন তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা তাঁদের ওপরও ঝাঁপিয়ে পড়ে ধারালো ক্ষুর দিয়ে হত্যার উদ্দেশ্যে তাদের মুখের নিচে ও ঠোঁটে উপর্যুপরি আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।
চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, কোনাখালীতে মারামারির ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







