চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত পূর্ণ প্যানেলে বিজয়ী
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাচন আজ ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। নির্বাচনে সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেল বিজয় অর্জন করে।

গত ১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এডভোকেট রোশনারা বেগম এবং নির্বাচন কমিশনারবৃন্দ এডভোকেট মোঃ ইব্রাহিম, এডভোকেট মোহাম্মদ ফরিদুল আলম, এডভোকেট মোহাম্মদ শাহিন ও এডভোকেট হোসাইন মোহাম্মদ আশরাফ উদ্দিন স্বাক্ষরিত তফসিলে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

তফসিল অনুযায়ী ৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ বেলা ২টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমাদানের সময় নির্ধারণ করা হয়।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্যানেল থেকে সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট সেলিনা খানম, সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট নিলুফার ইয়াসমিন লাভলী, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ নজরুল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট আবুল মনসুর শিকদার, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট হোসেন সিকদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট বিলকিস আরা মিতু, ক্রীড়া সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ সারোয়ার হোসাইন লাভলু এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদে এডভোকেট আলী আকবর, এডভোকেট দিদারুল আলম, এডভোকেট দিলদার আহমদ ভূঁইয়া, এডভোকেট ইকবাল হোসেন, এডভোকেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, এডভোকেট মোহাম্মদ হাসান, এডভোকেট মোক্তার উদ্দিন, এডভোকেট মোমাইনুল হক, এডভোকেট সাদিয়া খান, এডভোকেট সাইফুল ইসলাম ও এডভোকেট শেখ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও যথাযথভাবে জমা প্রদান করেন।

অপরদিকে জামাত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ প্যানেল থেকে সহ-সভাপতি পদপ্রার্থী মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১ জন প্রার্থীর পক্ষে সমন্বয়কারী এডভোকেট মোঃ শামসুল আলম একযোগে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে সভাপতি পদে সৈয়দ মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি পদে এডভোকেট মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট সাইফুদ্দিন মানিক, অর্থ সম্পাদক পদে এডভোকেট মোঃ শহিদুল ইসলাম সুমন, পাঠাগার সম্পাদক পদে এডভোকেট মিশুক, সাংস্কৃতিক সম্পাদক পদে এডভোকেট আজিমউদ্দিন লাভলু এবং তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক পদে এডভোকেট সাদ্দাম হোসেন আজাদের পক্ষে আংশিক টাকা চেকের মাধ্যমে এবং বাকি টাকা নগদে জমা দেওয়ার শর্তে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সংশ্লিষ্ট প্রার্থীগণ নির্ধারিত সময় বিকাল ৫টার মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা না দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার দিকে জমা প্রদান করেন এবংধ্য জন্য চেকের বিপরীতে প্রদেয় ৫৩ হাজার টাকা নির্ধারিত সময়ে নগদে জমা দেননি।

পরবর্তীতে ৫ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ নির্বাচন কমিশন প্রাথমিক প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করে। সেখানে ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের সাতজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যথাযথভাবে পূরণ না করা, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জমা না দেওয়া এবং চেক সংক্রান্ত শর্ত পূরণ না করার কারণে বাতিল ঘোষণা করা হয়।

৬ মে আপিলের সুযোগ থাকলেও বাতিল হওয়া প্রার্থীদের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের নিকট কোনো আপিল বা আপত্তি দাখিল করা হয়নি। পরবর্তীতে ৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয় এবং ১৮ মে নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগে প্রার্থী পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এরই মধ্যে ১৪ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে জামাত সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদের পক্ষ থেকে প্রায় ১৬৬ জন আইনজীবীর স্বাক্ষরযুক্ত আবেদনের মাধ্যমে বিদ্যমান নির্বাচন কমিশন বাতিল করে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন ও নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে তলবী সভার আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে ১৯ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক তলবী সভার আয়োজন করেন। উক্ত সভায় তলবী সভার পক্ষে ১৭১ জন এবং বিপক্ষে ২৮৯ জন আইনজীবী ভোট প্রদান করেন। ফলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে উত্থাপিত প্রস্তাব প্রত্যাখ্যাত হয়।

এদিকে বাতিল হওয়া প্রার্থীগণ চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি, নির্বাচন কমিশন এবং সংশ্লিষ্টদের বিবাদী করে যুগ্ম জেলা জজ ১ম আদালতে মামলা দায়ের করে নির্বাচন কার্যক্রম স্থগিত ও নির্বাচন কমিশন বাতিলের আবেদন জানালে আদালত ২০ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আবেদন খারিজ করে দেন।

পরবর্তীতে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী ২১ মে ২০২৬ ইংরেজি তারিখ সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত একটানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে সহ-সভাপতি পদের ১টি এবং কার্যনির্বাহী সদস্য পদের ১১টিসহ মোট ১২টি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সর্বমোট ৪৫৫৪ জন ভোটারের মধ্যে ২১৪৭ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম সমর্থিত প্রার্থীগণ বিজয় অর্জন করেন। সভাপতি পদে এডভোকেট তারেক আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক পদে এডভোকেট মইনুদ্দিন নেতৃত্বাধীন প্যানেল আইনজীবীদের ব্যাপক সমর্থন লাভ করে নির্বাচনে বিজয়ী হন।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনজীবীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। সকাল থেকে আদালত প্রাঙ্গণে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে এবং ভোটার আইনজীবীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।