চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল দখলের নেপথ্যে নথি জালিয়াতি ! প্রয়াত ডাঃ রবিউল হোসেনকে ঘিরে অভিযোগ
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল দখলের নেপথ্যে নথি জালিয়াতি ! প্রয়াত ডাঃ রবিউল হোসেনকে ঘিরে অভিযোগ

চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল দখলের নেপথ্যে নথি জালিয়াতি ! প্রয়াত ডাঃ রবিউল হোসেনকে ঘিরে অভিযোগ
ছবি সংগৃহীত।

 


(অনুসন্ধান প্রতিবেদনের পর্ব–১)

 

চট্টগ্রামের চিকিৎসা ইতিহাসে আস্থা, সেবা ও মানবিকতার প্রতীক পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (সিইআইটিসি)। স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে অসংখ্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মানুষের চোখে আলো ফিরিয়ে দেওয়া এই প্রতিষ্ঠান আজ নিজেই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে। অভিযোগ উঠেছে, প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রয়াত চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ রবিউল হোসেন দাপ্তরিক নথিপত্রে গুরুতর কারসাজি ও জালিয়াতির আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর তাঁর মৃত্যুর পর রেখে যাওয়া সেই বিতর্কিত উত্তরাধিকারকে ঘিরে দুই ছেলের মধ্যে তীব্র বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের পর যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে অন্ধ মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে একদল স্বপ্নদ্রষ্টা এগিয়ে আসেন। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জহুর আহমদ চৌধুরী, শিল্পপতি এ. কে. খান, বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এস. আর. দাশসহ সমাজের নানা শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উদ্যোগে ১৯৭৩ সালের ২৪ মার্চ গঠিত হয় ‘বাংলাদেশ অন্ধ কল্যাণ সমিতি, চট্টগ্রাম’-এর একটি অ্যাডহক কমিটি।
ওই কমিটিতে শিল্পপতি এ. কে. খানকে সভাপতি, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডাঃ এস. জোহা, চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাঃ এ. কে. এম. আবু জাফর এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক জওশন আরা রহমানকে সহ-সভাপতি করা হয়। যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পান ডাঃ কামাল এ. খান ও ডাঃ এস. আর. দাশ। কোষাধ্যক্ষ ছিলেন এলিট পেইন্ট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজ উদ্দিন আহমদ। এছাড়া চক্ষু বিশেষজ্ঞসহ আরও ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সদস্য করা হয়।
শুরুতে প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব কোনো ভবন ছিল না। চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আন্দরকিল্লা ক্যাম্পাসে ছোট্ট একটি কক্ষে অস্থায়ী বহির্বিভাগ চালু হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি ৪০ শয্যার হাসপাতালে রূপ নেয়। পরে ইংল্যান্ডের ‘রয়্যাল কমনওয়েলথ সোসাইটি ফর দ্য ব্লাইন্ড’-এর পরিচালক স্যার জন উইলসন হাসপাতালটির উদ্বোধন করেন।
রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় একটি স্থায়ী হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় ১৯৭৮ সালের ২১ আগস্ট বাংলাদেশ রেলওয়ের মালিকানাধীন প্রায় ১০ একর জমি নামমাত্র মূল্যে হাসপাতালের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালের ১৯ এপ্রিল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিজ হাতে ‘চট্টগ্রাম চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’-এর স্থায়ী ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
রাষ্ট্রপতির প্রত্যক্ষ সম্পৃক্ততার ফলে জার্মানির আন্দেরী হিলফে এবং ব্রিটিশ সমাজসেবক স্যার জন উইলসনের মতো আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থাগুলো প্রকল্পটির প্রতি আস্থা প্রকাশ করে। দেশি-বিদেশি সহায়তায় চার বছরের নির্মাণকাজ শেষে ১৯৮৩ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পাহাড়তলীর ফয়’স লেক সংলগ্ন ক্যাম্পাসে হাসপাতালটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সময়ের পরিক্রমায় প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক অ্যাডহক কমিটির মূল দলিলটি রহস্যজনকভাবে হারিয়ে গেলেও বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে সংরক্ষিত অনুলিপিতে সেই ইতিহাস এখনও বিদ্যমান রয়েছে। এসব নথি অনুযায়ী, শিল্পপতি এ. কে. খান ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ১৯৮৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি সম্পাদিত ট্রাস্ট ডিডেও তাঁকে প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হিসেবে উল্লেখ করা হয়। ১৯৯১ সালে তাঁর মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন। পরবর্তীতে প্রকৌশলী মাহমুদুল ইসলাম এবং পরে একুশে পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক এম. এ. মালেক চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তবে অনুসন্ধানের সবচেয়ে আলোচিত অংশটি এসেছে ১৯৭৩ সালের মূল অ্যাডহক কমিটির নথি পর্যালোচনায়। সেখানে দেখা যায়, ‘সেক্রেটারি’ বা সম্পাদকের ঘরটি টাইপ করা একটি ড্যাশ (—) দিয়ে ফাঁকা রাখা হয়েছিল। অথচ একই নথির সাধারণ সদস্য তালিকায় দ্বিতীয় নম্বরে স্পষ্টভাবে লেখা ছিল— ‘ডাঃ আর. হোসেন, চক্ষু বিশেষজ্ঞ, ৬৪, জামাল খান রোড, চট্টগ্রাম।’
সাংগঠনিক নীতিমালা অনুযায়ী, একই ব্যক্তি একই কমিটিতে একদিকে সাধারণ সদস্য এবং অন্যদিকে সম্পাদক হতে পারেন না। যদি শুরু থেকেই তিনি সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হতেন, তাহলে সদস্য তালিকায় তাঁর নাম থাকার প্রশ্নই ওঠে না।
অন্যদিকে, ১৯৮৫ সালের ট্রাস্ট ডিডে ডাঃ রবিউল হোসেন ‘অবৈতনিক সাধারণ সম্পাদক’ হিসেবে স্বাক্ষর করেন। অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তী সময়ে প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এ. কে. খানের মৃত্যুর পর তিনি ১৯৭৩ সালের মূল নথিতে সম্পাদকের জন্য ফাঁকা রাখা স্থানে নিজ হাতে নিজের নাম লিখে দেন, যাতে তিনি নিজেকে ১৯৭৩ সাল থেকেই প্রতিষ্ঠানের ‘প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক’ হিসেবে দাবি করতে পারেন।
অনুসন্ধানসংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এই পরিবর্তিত নথিকেই পরবর্তীকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক কার্যক্রমে ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করা হয় এবং ধীরে ধীরে প্রতিষ্ঠানের নিয়ন্ত্রণ একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে কেন্দ্রীভূত হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, বাংলাদেশ জাতীয় অন্ধ কল্যাণ সমিতি (বিএনএসবি), দেশি-বিদেশি দাতা সংস্থা এবং অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর অবদানে গড়ে ওঠা এই প্রতিষ্ঠানকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই নথি বিকৃতির আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। তাঁদের মতে, এটি কেবল একটি প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস, প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও প্রতিষ্ঠাতা ব্যক্তিত্বদের অবদানকে প্রশ্নবিদ্ধ করার শামিল।
এদিকে, ডাঃ রবিউল হোসেনের মৃত্যুর পর তাঁর রেখে যাওয়া উত্তরাধিকার ও প্রতিষ্ঠান-নিয়ন্ত্রণকে ঘিরে দুই ছেলের মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। সেই বিরোধের জেরেই অতীতের নানা নথি, সিদ্ধান্ত ও ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়গুলো নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

(চলবে—পরবর্তী পর্বে থাকবে: কীভাবে প্রতিষ্ঠানটির প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ ধাপে ধাপে বদলে যায়, কোন কোন নথি নিয়ে উঠেছে নতুন প্রশ্ন এবং উত্তরাধিকার দ্বন্দ্বের নেপথ্যের আরও অজানা তথ্য।)




কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম
ছবি সংগৃহীত।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না।


এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ আগস্ট কিন্তু দেখেছি, বিভিন্ন জেলায় যেসব সরকারি প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে সরকার দলের বাইরে যেসব সমন্বয়ক বা জুলাই যোদ্ধা ছিল বা অন্য কোনো দলের মধ্যে থাকলে তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হামলাও করা হয়েছে। এইভাবে যখন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবার উদযাপন করল এবং আমরা বলি, শুধু উদযাপনে না, এটা আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, খুব সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম যে দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার শক্তি। এটা তো হওয়ার ছিল। এটা যে হঠাৎ করে হয়ে গেছে, এরকম কিন্তু না। সরকারের জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এটা করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা বারবার বলেছি যে ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে, পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে, আমরা কিন্তু জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে চাই। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, এটাকে বলে বাগাড়ম্বর, চলতি ভাষায় আমরা বলি গলাবাজি।

তিনি বলেন, প্রেস রিলিজে, বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেছেন, কিন্তু আপনি কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা তো হওয়ার কথাই ছিল। তারা তো ঘোষণা দিয়েই এবং দিল্লি সরকার তাদেরকে সহযোগিতা করতেছে, ভারত সরকার সহযোগিতা করতেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডাকা উচিত ছিল সরকারের এবং ডেকে কঠোরভাবে এটার নিন্দা জানানো উচিত ছিল। পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, কোন ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, সেটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার দলের বন্ধুরা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে, ফ্যাসিবাদের প্রশ্নেও তারা নাকি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে যেরকম তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, বিচার প্রশ্নে এবং পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আসলে আপোষকামী সরকার। আপোষকামী হলে জনগণ তো বসে থাকবে না। এবং ১১ দলীয় ঐক্য আছে এবং যে সকল আরও সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে যারা সংস্কার এবং বিচার চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধ করব, তার বিচার নিশ্চিত করব এবং যে সংস্কার, গণভোটের যে গণরায়, সেই রায় অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাহিদ বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, এই কমিটি করে সরকার লেজিটিমেসি হারিয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যে তারা করতে চায় না এবং তাদের যে জনগণের আস্থা, সে আস্থাটি হারিয়েছে। ফলে সাংবিধানিক একটি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংকট তৈরি হয়েছে জনগণের আস্থা তারা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যখন একটা সরকার হারায়, তখন তাদের টিকে থাকতে হয় ক্ষমতার দাপট এবং সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে। আর সেটা কিন্তু সেই চিত্র বিগত ১৬ বছরে যেরকম আমরা দেখেছি, এখন কিন্তু আমরা দেখছি এই সরকার সেটা শুরু করেছে। শুরু করেছে ক্যাম্পাসগুলোর মাধ্যমে। কারণ, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, আন্দোলনের দুর্গ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। ফলে ছাত্রনেতাদের ওপর, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ দলের পক্ষে যেসব ছাত্রনেতারা রয়েছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তিকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা আক্রমণ করছে নির্বিচারে।

এসময় এনসিপি ও জামায়াত ইসলামি র্শীষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন। 
 




গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল

গণমাধ্যম শক্ত থাকলে গণতন্ত্র টেকসই হবে: মির্জা ফখরুল
ছবি সংগৃহীত।

গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী এবং বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকালে টিভি এডিটরস কাউন্সিলের এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গণতন্ত্র হচ্ছে—বৃহত্তর জনগোষ্ঠী যেভাবে চায় সেভাবে দেশ চালানো। আপনার চিন্তা-ভাবনা, চলাফেরা সবকিছুতে গণতন্ত্র না থাকলে মনে করতে হবে, তা প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘তিন-চার মাস না যেতেই আমরা রাস্তায় নেমে গেছি। সরকারকে ব্যর্থ বলে তাকে ৫ বছর যেতে দেবো না বলছি—এগুলো ফ্যাসিস্টের ভাষা।’

তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সঙ্গে তো গণতন্ত্র যাই না। আওয়ামী লীগ মুখে বলেছে গণতন্ত্র, কিন্তু কাজ করেছে উল্টো।’

স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘শেখ হাসিনা গণতন্ত্রের নাম বলে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। তারা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোও ধ্বংস করে দিয়েছে।’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘টেকসই গণতন্ত্রের জন্য পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে হাজার বছর লেগেছে। কিন্তু আমরা অস্থির।’

ফখরুল বলেন, ‘আমরা সবাই চাই চমৎকার একটি গণমাধ্যম থাকবে, আলোচনা-সমালোচনা সবই হবে। তবে টকশোতে আলোচনা শুনলে মনে হয়, সরকার চরম ব্যর্থ, দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। গণমাধ্যম যদি শক্ত থাকে গণতন্ত্র টেকসই হবে।’




সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ

সচিবালয় ঘেরাও করতে গেল ১১ দলীয় ঐক্য, আটকে দিলো পুলিশ
ছবি সংগৃহীত।

জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে সচিবালয় ঘেরাও করতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েছে ১১ দলীয় ঐক্য।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে অবস্থান কর্মসূচি শেষ করে বেলা ১২টা ৪০ মিনিটের দিকে নেতাকর্মীরা সচিবালয়ের উদ্দেশ্যে মিছিল নিয়ে রওয়ানা হন। 
মিছিলটি জিরো পয়েন্ট অতিক্রম করার পরই পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের আটকে দেয়।
সচিবালয়ে ঘেরাও কর্মসূচির নেতৃত্ব দিয়েছেন বিরোধী দলীয় নেতা ও জামায়াত ইসলামি আমির ডা. শফিকুর রহমান। 
কর্মসুচিতে অংশ নিয়েছেন এসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ ১১ দলীয় জোটের নেতারা।

এর আগে জ্বালানি তেল ও গ্যাসসংকট, বিদ্যুতের ভূতুড়ে বিল ও মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলার চরম অবনতি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বৃষ্টির মধ্যেই অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করে ১১ দলীয় ঐক্য। রাজধানীর মুক্তাঙ্গনে বেলা ১১টার পর এই অবস্থান কর্মসূচি শুরু হয়। অনুষ্ঠান চলাকালে বেলা ১১টা ৫০ মিনিটের দিকে বৃষ্টি শুরু হলেও তা উপেক্ষা করেই জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীরা রাজপথে অবস্থান নিয়ে তাদের কর্মসূচি চালিয়ে যান।
অবস্থান কর্মসূচিতে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রেসিডেন্ট ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি ড. হামিদুর রহমান আযাদ, জাগপার সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধানসহ ১১-দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত আছেন।