চট্টগ্রামে হলফনামা জটিলতা দূর, সিজেএমের কার্যকর হস্তক্ষেপ
চট্টগ্রামের চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ সোহাগ তালুকদারের সময়োপযোগী হস্তক্ষেপে এক নারীর হলফনামা সংক্রান্ত জটিলতার অবসান হয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) আদালতে শুনানি শেষে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের নিকট পুনরায় প্রেরণ করা হলে পরবর্তীতে হলফনামাটি সম্পাদন ও স্বাক্ষরিত হয়।
সূত্র জানায়, ওই নারী পূর্বে হিন্দু ধর্মাবলম্বী থাকলেও স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে একজন মুসলিম পুরুষকে রেজিস্টার্ড নিকাহনামা অনুযায়ী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তীতে নাম ও ধর্ম সংশোধনের জন্য জন্ম নিবন্ধনসহ অন্যান্য সনদপত্র হালনাগাদ করতে গেলে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিস্ট্রেটের হলফনামা দাখিলের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ লক্ষ্যে গত ১৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে সংশ্লিষ্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হলফনামা সম্পাদনের জন্য আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ না করে ফেরত দেওয়া হয়। পরবর্তীতে ২০ এপ্রিল বিষয়টি পুনরায় উপস্থাপন করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু। তবে সেদিনও তাৎক্ষণিক সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি উচ্চতর আদালতের নজরে আনা হয়।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র-নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত ধর্মান্তরের হলফনামা, বিবাহ সংক্রান্ত যৌথ হলফনামা এবং রেজিস্টার্ড নিকাহনামা দাখিল থাকা সত্ত্বেও বিলম্ব হওয়ায় আবেদনকারী জটিলতায় পড়েন।
পরবর্তীতে বিষয়টি চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হলে তিনি গুরুত্ব সহকারে শুনানি গ্রহণ করেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট আদালতে পুনরায় পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় হলফনামাটি সম্পাদন সম্পন্ন হয়।
আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সরোয়ার হোসাইন লাভলু বলেন, “হলফনামা একটি শপথপূর্বক ঘোষণা, যেখানে ঘোষণাকারী নিজেই তার তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন এবং ভুল থাকলে দায়ভার গ্রহণ করেন। আদালতের ভূমিকা মূলত এই ঘোষণাকে আইনগতভাবে বৈধতা দেওয়া।”
তিনি আরও বলেন, “চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মহোদয়ের এই উদ্যোগ একজন নাগরিকের আইনসম্মত অধিকার বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, যা একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।”
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এ ধরনের ঘটনা বিচারপ্রক্রিয়ায় প্রক্রিয়াগত বিষয় ও বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে। পাশাপাশি বিচার বিভাগে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।











