চট্টগ্রামে বন্যায় তলিয়ে গেল মাছের ঘের-পুকুর, মৎস্য খাতে বড় ধাক্কা
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

চট্টগ্রামে বন্যায় তলিয়ে গেল মাছের ঘের-পুকুর, মৎস্য খাতে বড় ধাক্কা

চট্টগ্রামে বন্যায় তলিয়ে গেল মাছের ঘের-পুকুর, মৎস্য খাতে বড় ধাক্কা
ছবি সংগৃহীত।

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া ও বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী ও আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে। বন্যার পানিতে ডুবে গেছে বসতভিটা, ফসলি জমি, সড়ক এবং বিভিন্ন অবকাঠামো।

এর সঙ্গে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন জেলার হাজারো মৎস্যচাষি। আকস্মিক বন্যার পানিতে শত শত হেক্টর আয়তনের মাছের ঘের, পুকুর ও জলাশয় তলিয়ে যাওয়ায় ভেসে গেছে চাষকৃত মাছ। এতে কোটি কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। অনেক চাষি সারা বছরের বিনিয়োগ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

উপজেলা মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, ক্ষয়ক্ষতির প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। বন্যার পানি না কমায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। তাদের মতে, পানি নেমে গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে। তবে এই বন্যায় মিঠা পানির মাছের বাজারে বড় ধাক্কা আসবে।

চট্টগ্রাম জেলা মৎস্য অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ১৫টি উপজেলার ১৫৩টি ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৩৩টি পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৩২০টি মাছের ঘেরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরের মোট আয়তন ৩ হাজার ২১১.৯২ হেক্টর এবং ক্ষতিগ্রস্ত মাছের ঘেরের আয়তন ৯০০ হেক্টর। প্রাথমিক হিসাবে মোট ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৯১ কোটি টাকা।

সাতকানিয়া উপজেলার বাজলিয়া গ্রামের মৎস্যচাষি সাইফুল হোসেন বলেন, পাহাড়ি ঢল ও বন্যার পানিতে আমার পাঁচটি পুকুর তলিয়ে গেছে। প্রথম দিকে জাল দিয়ে মাছ রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু গতকাল থেকে পানি এত বেড়েছে যে সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। এখন মাছ বাঁচানোর কোনো আশা নেই। আমার পাঁচটি পুকুর থেকে প্রায় ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকার মাছ পানিতে ভেসে গেছে। বৃষ্টি থামার পর মাছ আহরণের পরিকল্পনা ছিল, কিন্তু বন্যায় সব শেষ হয়ে গেছে। শুধু আমার নয়, সাতকানিয়ার প্রায় সব মাছের প্রকল্পই পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বাঁশখালী উপজেলার মৎস্যচাষি আনোয়ার হোসেন বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমার প্রায় ৬ হেক্টর আয়তনের মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। আমার প্রায় এক কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে। এই ক্ষতিতে আমি সর্বস্বান্ত হয়ে গেছি।

বন্যার পানিতে চন্দনাইশ উপজেলায় ৩৩৮টি মাছের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পুকুরগুলোর মোট আয়তন প্রায় ৯২ হেক্টর। উপজেলা মৎস্য বিভাগের প্রাথমিক হিসেবে, এতে প্রায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

চন্দনাইশ উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তানবীর হোসেন  বলেন, টানা বৃষ্টি ও বন্যার পানিতে উপজেলার ৩৩৮টি মাছের পুকুর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ৯২ হেক্টর জলাশয়ের মাছ ভেসে গেছে বা ক্ষতির মুখে পড়েছে। আমাদের প্রাথমিক হিসেবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা সালমা বেগম  বলেন, টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অসংখ্য মাছের ঘের, পুকুর ও মৎস্য প্রকল্প পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বিপুল পরিমাণ মাছ ভেসে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের কাজ করছেন।

তিনি বলেন, মিরসরাইয়ে সরকারি একটি মৎস্য প্রকল্প ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া পটিয়ার আরেকটি সরকারি মৎস্য প্রকল্পও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে, যা যেকোনো সময় প্লাবিত হতে পারে। পানি নেমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যচাষিদের তালিকা প্রস্তুত করা হবে। এরপর সেই তথ্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, বন্যাদুর্গত মৎস্যচাষি ও মৎস্যজীবীদের সহায়তায় জেলা মৎস্য দপ্তরের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কর্মস্থলে থেকে কাজ করছেন। ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনতে তারা নিয়মিতভাবে মৎস্যচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। চট্টগ্রাম মহানগর ও উপজেলার মৎস্যজীবীরা নিরাপদে ঘাট ও উপকূলীয় এলাকায় অবস্থান করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো মৎস্যজীবী নিখোঁজ হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। আমরা সার্বক্ষণিক তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বড় মিঠা পানির মাছের বাজারগুলোর একটি আনোয়ারা উপজেলার কালাবিবির দিঘির মোড়ের মৎস্য আড়ত। এখানে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সবচেয়ে বেশি মিঠা পানির মাছের বেচাকেনা হয়।

শাহ আমানত মৎস্য গদির স্বত্বাধিকারী মোশাররফ হোসেন সোহেল  বলেন, গত বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে চাষিরা পুকুর ও মাছের প্রকল্পে পোনা অবমুক্ত করেছিলেন। এখন সেই মাছের ওজন হওয়ার সময়। কিন্তু বন্যার পানিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের অধিকাংশ পুকুর ও ঘেরের মাছ ভেসে গেছে। এর প্রভাব খুব শিগগিরই বাজারে পড়বে। আমাদের এই আড়তে প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার মিঠা পানির মাছ বিক্রি হয়। তবে বন্যায় মাছ ভেসে যাওয়ায় আগামী দুই থেকে তিন মাস বাজারে মাছের সরবরাহে বড় ধরনের সংকট দেখা দিতে পারে।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।