চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় র্যাব-১৫ এর দুঃসাহসিক অভিযান: পেটের ভেতর ২০ হাজার ইয়াবাসহ ৪ রোহিঙ্গা আটক

মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়ে আবারও বড় সাফল্য দেখিয়েছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-১৫)। চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় অভিযান চালিয়ে অভিনব কৌশলে পাচারের সময় পেটের ভেতর লুকানো প্রায় ২০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেটসহ চার রোহিঙ্গা মাদক কারবারিকে আটক করেছে বাহিনীটি।
র্যাব-১৫ জানায়, সোমবার (৩ মে ২০২৬) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাতকানিয়া উপজেলার ঠাকুরদিঘী বাজার এলাকায় একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি চালিয়ে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করে র্যাবের আভিযানিক দল।
আটককৃতরা হলেন—জিয়াউর রহমান (৩৫), মো. সাকের (২৮), আবু তৈয়ব (৩৫) ও জাফর মিয়া (৪০)। র্যাব জানায়, তারা রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের সদস্য এবং দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ মাদক পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত।
র্যাব-১৫ এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজর এড়াতে ইয়াবা ট্যাবলেট ছোট ছোট প্যাকেটে পলিথিনে মুড়িয়ে গিলে পেটের ভেতর বহন করছিল। পরে তাদের সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে পেট থেকে এসব ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১৫ আরও জানায়, আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে ইয়াবা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। তারা সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে বাসে চলাচল করে এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ কৌশলে পেটের ভেতর ইয়াবা বহন করত। একেকজন পাচারকারী শতাধিক ছোট প্যাকেট গিলে পরিবহন করত বলে জানা গেছে।
র্যাব-১৫ বলছে, মাদক নির্মূলে সরকারের ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়নে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং নতুন কৌশলে মাদক পাচার রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে।
আটককৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।






