চকরিয়ার স্বাস্থ্যখাতে নৈরাজ্য, দালাল চক্রে জিম্মি সেবাপ্রার্থীরা
চকরিয়া উপজেলায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে নানা অনিয়ম, গলাকাটা বাণিজ্য এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ ক্রমেই বাড়ছে। অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন, অতিরিক্ত পরীক্ষা–নিরীক্ষা এবং নানা অজুহাতে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চকরিয়া উপজেলায় অন্তত ২০টি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক কার্যক্রম চালালেও এর মধ্যে প্রায় অর্ধেকই বৈধ লাইসেন্স ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। আবার যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স রয়েছে, সেগুলোর অনেকগুলোতেই স্বাস্থ্য বিভাগের নির্ধারিত মানদণ্ড মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের নীতিমালা অনুযায়ী একটি হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিগ্রিধারী নার্স ও মিডওয়াইফ থাকার কথা। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, অধিকাংশ বেসরকারি হাসপাতালে এসব জনবলের ঘাটতি রয়েছে। ফলে রোগীরা কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে কেন্দ্র করে দালাল চক্রের তৎপরতাও দীর্ঘদিনের অভিযোগ। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বিভিন্নভাবে প্রলুব্ধ করে বা ভয়ভীতি দেখিয়ে দালালরা বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নিয়ে যায়। সেখানে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে।
চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জয়নুল আবেদীন বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে দালালমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দালালদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
কক্সবাজার জেলা সিভিল সার্জন ডা. মাহমুদুল হক বলেন, লাইসেন্সবিহীন বা অবৈধভাবে পরিচালিত হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত তদারকি ও কঠোর আইনি ব্যবস্থা না নিলে বেসরকারি হাসপাতালের অনিয়ম ও গলাকাটা বাণিজ্য বন্ধ করা কঠিন হবে। তাই সাধারণ মানুষের নিরাপদ ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।







