চকরিয়ার মাতামুহুরি নদীতে বালু লুটে যেন সর্বদলীয় ঐক্য, ৬ কিলোমিটারে ৬ অবৈধ বালুর ডিপো

কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার লক্ষ্যারচর ইউনিয়নের ছিকলঘাট স্টেশন থেকে কৈয়ারবিল ইউনিয়ন পরিষদ পর্যন্ত প্রায় ৬ কিলোমিটার সড়কজুড়ে মাতামুহুরি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, সড়কের বিভিন্ন স্থানে ৬টি অবৈধ বালুর ডিপো গড়ে তুলে শেলো মেশিনের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রশাসন বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করলেও কিছুদিন পরই আবার প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে একই স্থানে বালু উত্তোলন শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এসব অবৈধ বালু উত্তোলন কেন্দ্র থেকে প্রতি মাসে প্রায় অর্ধকোটি টাকার বালু বিক্রি করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মূলত গভীর রাতে নদী থেকে বালু উত্তোলন করেন এবং প্রতিদিন সকাল ১০টার আগেই উত্তোলিত বালু বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে ফেলেন, যাতে প্রশাসনিক অভিযানের সময় কোনো আলামত পাওয়া না যায়।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, এসব বালুর ডিপো পরিচালনার সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের নাম উঠে এসেছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন—কৈয়ারবিল ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ওসমান গনি, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য আহমদ হোছাইন রাজু, ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি ডা. মানিক, ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মিজান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আবু তৈয়ব, আওয়ামী লীগ নেতা শাহ আলম, জাতীয় পার্টির ইউনিয়ন সভাপতি দিদার, আওয়ামী লীগ নেতা কাউছার, আওয়ামী লীগ নেতা আশিক এবং জামায়াত নেতা কাইছার।
তবে অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের অনেকেই বালু উত্তোলনের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ধরনের কার্যক্রম বন্ধে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে মাতামুহুরি নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে, নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে এবং সড়কের স্থায়িত্বও হুমকির মুখে পড়ছে। তারা দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।







