গ্রাহকদের নতুন করে যে বার্তা দিলো ইসলামী ব্যাংক
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন

গ্রাহকদের নতুন করে যে বার্তা দিলো ইসলামী ব্যাংক

গ্রাহকদের নতুন করে যে বার্তা দিলো ইসলামী ব্যাংক
ছবি সংগৃহীত।

দেশের ব্যাংকিং খাতে গত কয়েক বছরে সবচেয়ে বেশি আলোচিত প্রতিষ্ঠানের নামগুলোর মধ্যে অন্যতম ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি। ব্যাংকটিতে বিতর্কিত এস আলম গ্রুপের মালিকানা আবারো ফিরে দেওয়ার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ তারল্য সংকট, আমানত উত্তোলনের চাপ এবং নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে কঠিন সময় পার করা ব্যাংকটি এখন আবার গ্রাহকদের আস্থা ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছে। এমন প্রেক্ষাপটে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি কৃতজ্ঞতা বার্তা নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রবিবার (২১ জুন) ইসলামী ব্যাংক এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ব্যাংকটির প্রতি অগণিত গ্রাহকের অবিচল আস্থা ও সমর্থনের জন্য তারা গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। ব্যাংকটির ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে ইসলামী ব্যাংকের প্রতি যে বিশ্বাস ও আস্থা প্রদর্শন করে আসছেন, সেটিই প্রতিষ্ঠানটির সবচেয়ে বড় শক্তি।


ব্যাংকিং খাতের বিশ্লেষকদের মতে, কোনো ব্যাংকের জন্য মূলধন, শাখা নেটওয়ার্ক কিংবা প্রযুক্তিগত সক্ষমতার পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো গ্রাহকের আস্থা। কারণ ব্যাংকিং ব্যবসার ভিত্তিই গড়ে ওঠে আমানতকারীদের বিশ্বাসের ওপর। আর সেই বিবেচনায় ইসলামী ব্যাংকের এই কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কেবল আনুষ্ঠানিক বার্তা নয়; বরং এটি গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার একটি কৌশলগত উদ্যোগ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।


এদিকে মূল মালিকদের নিকট ইসলামী ব্যাংক ফিরিয়ে দেওয়াসহ ৭ দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।

আস্থাই ইসলামী ব্যাংকের সবচেয়ে বড় সম্পদ


বাংলাদেশের ব্যাংকিং ইতিহাসে ইসলামী ব্যাংকের অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। দেশের প্রথম শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক হিসেবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। দীর্ঘ সময়ে ব্যাংকটি দেশের বৃহত্তম আমানতভিত্তিক ব্যাংকগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্যাংকটি নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। বিশেষ করে তারল্য সংকটের খবর প্রকাশের পর অনেক গ্রাহক একযোগে টাকা উত্তোলনের চেষ্টা করেন। ফলে ব্যাংকটির ওপর চাপ আরও বাড়ে। কিন্তু সেই পরিস্থিতিতেও বিপুল সংখ্যক গ্রাহক ব্যাংকের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন, যা এখন ইসলামী ব্যাংকের পুনরুদ্ধারের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে।

ব্যাংকটির কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রাহকদের এই আস্থা এবং সমর্থনই তাদের এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন সহায়তা এবং নতুন ব্যবস্থাপনার উদ্যোগও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ভূমিকা রাখছে।

স্বাভাবিক হচ্ছে লেনদেন

ব্যাংকিং খাতসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইসলামী ব্যাংকের শাখাগুলোতে লেনদেনের পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। গ্রাহকদের মধ্যে আতঙ্ক কমেছে এবং নতুন আমানতও ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো ব্যাংকের সংকট কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় সূচক হলো আমানতকারীদের আচরণ। যদি গ্রাহকরা টাকা তুলে নেওয়ার পরিবর্তে ব্যাংকে জমা রাখতে আগ্রহী হন, তাহলে সেটি প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বৃদ্ধিরই প্রতিফলন।

কেন এই বার্তা গুরুত্বপূর্ণ

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংকিং খাতে আস্থা সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে পড়ে। বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেয়। তাই একটি বড় ব্যাংকের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং আস্থা পুনর্গঠনের প্রচেষ্টা সামগ্রিক ব্যাংকিং খাতের জন্যও ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

বিশেষ করে ইসলামী ব্যাংকের মতো বৃহৎ গ্রাহকভিত্তিসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ব্যাংকটির সঙ্গে দেশের লাখো পরিবার, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং প্রবাসীদের আর্থিক সম্পর্ক রয়েছে।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ

তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, শুধুমাত্র কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলেই আস্থা পুরোপুরি ফিরে আসবে না। এজন্য প্রয়োজন সুশাসন নিশ্চিত করা, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে আনা, করপোরেট গভর্ন্যান্স শক্তিশালী করা এবং গ্রাহকসেবার মান আরও উন্নত করা।

তাদের মতে, ইসলামী ব্যাংক যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং কার্যক্রমের মূল নীতিগুলো কঠোরভাবে অনুসরণ করতে পারে, তাহলে ভবিষ্যতে আবারও দেশের ব্যাংকিং খাতে নেতৃত্বের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সক্ষম হবে।

গ্রাহকদের উদ্দেশে কৃতজ্ঞতার বার্তা

ইসলামী ব্যাংক বলছে, গ্রাহকদের ভালোবাসা, আস্থা ও সহযোগিতা তাদের চলার পথকে আরও শক্তিশালী করেছে। ব্যাংকটি ভবিষ্যতেও শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকিং সেবা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন এবং উন্নত গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সেই আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে চায়।

ব্যাংকিং খাতের বর্তমান বাস্তবতায় ইসলামী ব্যাংকের এই বার্তা কেবল একটি ধন্যবাদ জ্ঞাপন নয়; বরং এটি একটি বড় সংকটের পর পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাওয়ার ঘোষণা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, গ্রাহকদের এই আস্থাকে কতটা কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে ব্যাংকটি দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও প্রবৃদ্ধির নতুন অধ্যায় রচনা করতে পারে।




সোনার গহনার দাম আরও কমলো

সোনার গহনার দাম আরও কমলো
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ১৩ জুলাই ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার গহনার মতো রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও

জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও
ছবি সংগৃহীত।

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) অনুমোদন বন্ধ থাকায় দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে পুঁজিবাজারের আকার আরও সংকুচিত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০Flag-২৬ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) 'মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি' অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগজনক।

অর্থনীতির তুলনায় কেন পিছিয়ে পুঁজিবাজার?

একটি দেশের অর্থনীতির গভীরতা ও শক্তি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত। বিশ্বের উন্নত ও বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে এই অনুপাত সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়ে থাকে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে স্থবির হয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রতিবছর যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, পুঁজিবাজার সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পায়নে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব কমছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাজার মূলধন বাড়লেও কাটেনি সংকট

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮,৬৯২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৬২,২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩৬,৪২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সরকারি বন্ড বাদে অন্য সাধারণ সিকিউরিটিজের বাজার মূলধনও ৩৫,৮৭৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫,৪৮৩ কোটি টাকায়। তবে এই অংক কেবল কাগজের সূচক বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল; নতুন কোনো ভালো মানের বহুজাতিক বা সরকারি ও বেসরকারি বড় কোম্পানি বাজারে না আসায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই অগ্রগতি ফিকে হয়ে গেছে।

আইপিওহীন দুই বছর ও সুশাসনের ঘাটতি

পুঁজিবাজার মূলত গড়ে ওঠে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। অথচ দেশে সক্রিয় লক্ষাধিক কোম্পানির মধ্যে চারশ কোম্পানিও এখন পর্যন্ত বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর বাজার সম্পূর্ণ আইপিওহীন হয়ে পড়ে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের আমলেও পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতের অর্থ সংগ্রহের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৪৭টি কোম্পানি ১০,৭১৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি আর্থিক ও বিমা খাতের কোম্পানি আইপিও বাধ্যবাধকতার কারণে ১,৫৮৩ কোটি টাকা নিলেও উৎপাদনশীল শিল্প খাতে এই বাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও নীতিমালাসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোম্পানি আনার বিষয়টি প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্ব পায়নি। নতুন আইপিও ছাড়া কার্যকর পুঁজিবাজার কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।"

সূচক ও লেনদেনে কৃত্রিম স্বস্তি

আইপিওর খরা থাকলেও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাজারের লেনদেন ও সূচকে গতি দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫,৭৬৩ পয়েন্টে এবং ভালো কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২,১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় লাফ দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৭২,৬৮৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২৮,৭৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

'জেড' শ্রেণীর আধিপত্য ও বাজার দুর্বলতা

বাহ্যিক এই জোয়ারের আড়ালে বাজারের ভেতরের ভঙ্গুর রূপটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উথান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এটি মূলত কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৫টিই ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত, যার মধ্যে ৬২টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, "বাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের তীব্র সংকট রয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা খাতের সিংহভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ও টেকসই কোম্পানি আনতে হবে।"

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামও একই মত পোষণ করে বলেন, "বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানি বাজারে আনার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সুদূরপ্রসারী ও বিশেষ ছাড়ের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।"

সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবশ্য দাবি করছে যে তারা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “ভালো কোম্পানি বাজারে আকর্ষিত করতে আইপিও বিধিমালায় আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ডস (ISVS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের যে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে, তা ভালো মানের ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে পুঁজিবাজার দেশের জিডিপির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃত অর্থেই বড় হয়ে উঠবে।”




বাড়ল সোনা ও রুপার দাম

বাড়ল সোনা ও রুপার দাম
ছবি সংগৃহীত।

তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ মূল্য শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভা সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৮ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৬ হাজার ৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৩ হাজার ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪২০ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৩৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।