গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা
রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৫ পূর্বাহ্ন

গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা

গ্যাস-কাঁচামাল সংকটে সার উৎপাদনে বড় ধাক্কা, আমনে সরবরাহ নিয়ে শঙ্কা
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামে চারটি সার কারখানার মধ্যে তিনটিতে উৎপাদন স্বাভাবিক নেই। চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) গ্যাস সংকটে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। কাঁচামাল সংকটে ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএপিএফসিএল) উৎপাদনও বন্ধ। অন্যদিকে, গ্যাস সংকটের কারণে কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে (কাফকো) উৎপাদন সীমিত করা হয়েছে। ফলে আসন্ন আমন মৌসুমে সার সরবরাহ নিয়ে কৃষকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) অধীনে চট্টগ্রামে চারটি সার কারখানা রয়েছে। এগুলো হলো— চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল), কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো), ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড। এর মধ্যে সিইউএফএল ও কাফকো ইউরিয়া সার, ডিএপিএফসিএল ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং টিএসপি কমপ্লেক্স টিএসপি সার উৎপাদন করে।

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত সিইউএফএল গ্যাস সংকটের কারণে ২০২৬ সালের ৪ মার্চ থেকে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। এর আগেও গ্যাস সরবরাহের অনিয়ম ও যান্ত্রিক সমস্যার কারণে কারখানাটি দীর্ঘ সময় বন্ধ ছিল।

সিইউএফএলের সাম্প্রতিক উৎপাদন পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। কারখানাটির প্রধান রসায়নবিদ উত্তম চৌধুরীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত সিইউএফএলে প্রায় ৬৫ হাজার টন ইউরিয়া উৎপাদন হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার টন। নিয়মিত গ্যাস সরবরাহ পাওয়া গেলে চলতি অর্থ বছরে উৎপাদন প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার টন পর্যন্ত হতে পারত বলে জানান তিনি।

এদিকে, কাঁচামাল সংকটের কারণে আনোয়ারায় অবস্থিত দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ডিএপিএফসিএলে টানা এক মাস চার দিন ধরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সারটির প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিডের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন এই কারখানা দেশের কৃষিখাতে ব্যবহৃত ডিএপি সার উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে ভবিষ্যতে সার সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কারখানা সূত্র জানায়, ডিএপি সার উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল ফসফরিক অ্যাসিড আমদানির জন্য গত জানুয়ারিতে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) ই-জিপির মাধ্যমে দরপত্র আহ্বান করে। ২০ হাজার টন ফসফরিক অ্যাসিড সরবরাহের কার্যাদেশ পায় মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ। চুক্তি অনুযায়ী জুনের মধ্যেই কাঁচামাল সরবরাহের কথা ছিল। তবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাতের প্রভাবে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা বিঘ্নিত হওয়ায় কাঁচামাল সরবরাহে জটিলতা তৈরি হয়।

ডিএপিএফসিএলের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ মেট্রিক টন। কারখানাটির দুটি ইউনিটের সম্মিলিত দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতা ৮০০ মেট্রিক টন।

এ বিষয়ে ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, ফসফরিক অ্যাসিড সংকটের কারণে কারখানার উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। আমরা দ্রুত উৎপাদনে যাওয়ার চেষ্টা করছি।

অন্যদিকে, কর্ণফুলী উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের বৃহত্তম যৌথ বিনিয়োগের সার কারখানা কাফকোতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে। গ্যাস সরবরাহ সীমিত হওয়ায় কারখানাটির উৎপাদন নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে। কাফকোর দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ১ হাজার ৭২৫ মেট্রিক টন এবং অ্যামোনিয়া উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন।

কাফকোর চিফ পার্সোনেল আবদুল্লাহ ফারুক  বলেন, আমাদের কারখানায় উৎপাদন চালু আছে। তবে গ্যাস ব্যবহারের ক্ষেত্রে একটি সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চট্টগ্রামে লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে আশঙ্কাজনক হারে কমছে বোরো ধানের আবাদ। উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় শুষ্ক মৌসুমে জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় সেচের পানির সংকট দেখা দিচ্ছে। ফলে অনেক জমি বোরো চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। এতে বোরো মৌসুমে ধান উৎপাদন কমার পাশাপাশি কৃষকদের আমন ধানের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে।

কৃষি অফিসের সূত্র অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে চট্টগ্রাম জেলায় আমন ধানের আবাদ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৯ হাজার ৯৮০ হেক্টর। জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও উপকূলীয় এলাকায় এ লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী আমন আবাদ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

চট্টগ্রাম জেলা কৃষি অফিস সূত্র অনুযায়ী, জেলায় সারের চাহিদা রয়েছে ইউরিয়া ৪৭ হাজার ৩৬৬ মেট্রিক টন, টিএসপি ২৪ হাজার ৬২৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ২৫ হাজার ৫৪২ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১২ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন।

তবে বিভিন্ন উপজেলার মাঠপর্যায়ের কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে ভিন্ন চিত্র পাওয়া গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, বর্তমানে গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকলেও উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলে আমন মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে সরবরাহে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকলে চাহিদার সময়ে সার পেতে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন তারা।

কৃষকদের ভাষ্য, আমন মৌসুমে জমিতে সময়মতো সার প্রয়োগ করা না গেলে ফলন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই শুধু মজুতের পরিমাণ নয়, উপজেলা পর্যায়ে ডিলারদের মাধ্যমে নির্ধারিত দামে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত সার সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদনকারী কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা না গেলে ভবিষ্যতে কৃত্রিম সংকট কিংবা বাড়তি দামে সার বিক্রির সুযোগ তৈরি হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

আনোয়ারা ও বোয়ালখালী উপজেলার একাধিক কৃষক বলেন, বোরো আবাদ কমে যাওয়ায় আমনই এখন অনেক কৃষকের প্রধান ভরসা। ফলে আমন মৌসুমে সারের সরবরাহে কোনো ধরনের বিঘ্ন দেখা দিলে তা সরাসরি কৃষকের উৎপাদন খরচ ও ধানের ফলনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাদের দাবি, আমন মৌসুম শুরুর আগেই ইউনিয়ন ও উপজেলা পর্যায়ে সারের মজুত ও বিতরণব্যবস্থা কঠোরভাবে তদারকি করা হোক।

এদিকে, দেশের শিল্প খাতে চলমান গ্যাস সংকটসহ অন্যান্য সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শিল্প উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

তবে সার সংকটের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছেন কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। গত ২৮ জুলাই গাজীপুরের জয়দেবপুরে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহ পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, দেশে সারের কোনো ঘাটতি নেই। সার নিয়ে সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সরকার নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত সার মজুত রয়েছে। পাশাপাশি পাইপলাইনে পর্যাপ্ত সার সরবরাহ ও প্রাপ্যতা রয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত সতর্ক রয়েছে। সার সরবরাহ ও বিক্রয় পরিস্থিতি আরও কঠোরভাবে মনিটরিং করা হবে। কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম অঞ্চলের উপপরিচালক আপ্রু মারমা বলেন, চট্টগ্রামে সার সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই। বর্তমানে যে পরিমাণ রাসায়নিক সার মজুত রয়েছে, তা দিয়ে অন্তত তিন মাসের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।




বাংলা কিউআর ব্যবহারে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমবে : গভর্নর

বাংলা কিউআর ব্যবহারে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমবে : গভর্নর
ছবি সংগৃহীত।

বাংলা কিউআর ব্যবহারের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানো গেলে চাঁদাবাজি ও জাল নোটের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকিও কমবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান।

শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলে বাংলা কিউআর লেনদেন বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক ও আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএফসি) মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় পরিচালিত ‘ক্যাশলেস ডিজিটাল বাংলাদেশ’ প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে ২০ জন নারী মার্চেন্টসহ প্রায় ১২০ জন বাংলা কিউআর ব্যবহারকারী মার্চেন্ট অংশ নেন।

গভর্নর বলেন, বর্তমানে দেশে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মধ্যে দৈনিক এক কোটি লেনদেনের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

তিনি বলেন, বর্তমানে ছয় কোটি মানুষ বাটন ফোন ব্যবহার করেন। তাদের হাতে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ও ইন্টারনেট সুবিধা না থাকাকে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর ক্ষেত্রে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা হচ্ছে। গ্রাহকদের স্বল্পমূল্যে অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সরবরাহের বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলছে।

মোস্তাকুর রহমান বলেন, ডিজিটাল পেমেন্ট নিশ্চিত হলে ব্যবসায়ীরা কর্মচারীদের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন। এতে চাঁদাবাজি বন্ধ হবে, জাল নোটের ঝুঁকি কমবে এবং নগদ টাকা পরিবহনের ঝুঁকি হ্রাস পাবে।

তিনি আরও বলেন, টাকা ছাপাতে বছরে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়। ডিজিটাল মাধ্যমে লেনদেন বাড়ানো গেলে এই ব্যয় সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদ বলেন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে ডিজিটাল অন্তর্ভুক্তিমূলক পেমেন্ট ব্যবস্থা প্রয়োজন। বাংলা কিউআর এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে ২৪ লাখ মার্চেন্ট বাংলা কিউআর ব্যবহার করছেন। প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ লেনদেন হচ্ছে, যার আর্থিক পরিমাণ প্রায় ৫০ কোটি টাকা। কর ও মোট দেশজ উৎপাদনের অনুপাত বাড়াতেও বাংলা কিউআরের মাধ্যমে ডিজিটাল লেনদেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক অর্থ সংস্থার (আইএফসি) প্রতিনিধি হাসান শাহরিয়ার বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য ছিল মাসে ২০ লাখ লেনদেন। বর্তমানে মাসে এক কোটি লেনদেন হচ্ছে। আমাদের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি সাড়া পাচ্ছি। বাংলাদেশে ডিজিটাল লেনদেনের অগ্রযাত্রায় আমাদের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. সিরাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের নির্বাহী পরিচালক মো. হানিফ মিয়াসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মশালায় বাংলা কিউআরের ব্যবহার পদ্ধতি, সুবিধা, প্রয়োজনীয়তা ও সচেতনতার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগ-১-এর অতিরিক্ত পরিচালক মো. পারওয়েজ আনজাম মুনির, যুগ্মপরিচালক জুয়েল মজুমদার ও মোহাম্মদ মঈন উদ্দিন তিনটি অধিবেশন পরিচালনা করেন।

পরে বাংলা কিউআর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা, আন্তঃসীমান্ত লেনদেন ব্যবস্থা চালু, লেনদেনের খরচ কমানোসহ বিভিন্ন বিষয়ে মার্চেন্টদের প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন গভর্নর।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংক চট্টগ্রাম অফিসের পরিচালক (প্রশাসন) স্বরূপ কুমার চৌধুরী, পরিচালক (পরিদর্শন) মো. নুরুল আলম, পরিচালক (ব্যাংকিং) ইয়াসমিন রহমান বুলা, পরিচালক (বৈদেশিক মুদ্রা) মাহবুবুল রহমানসহ বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলা কিউআর বাস্তবায়ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




সোনার দাম ভরিতে কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা

সোনার দাম ভরিতে কমলো ৩ হাজার ২৬৬ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

​দেশের বাজারে সোনার দাম কমানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ২৬৬ টাকা পর্যন্ত কমানো হয়েছে। গতকাল একদিনে ভরিতে বাড়িয়েছিল ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা।

​শুক্রবার (৭ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২৯ হাজার ৬৬৪ টাকা। যা গতকাল ছিল ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৩৪২ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৮৮ হাজার ৩৭৪ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ টাকা।

​সোনার দাম কমানো হলেও অপরিবর্তিত আছে রুপার দাম। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।




সোনার দাম ভরিতে একলাফে বাড়ল ৯,৮৫৬ টাকা

সোনার দাম ভরিতে একলাফে বাড়ল ৯,৮৫৬ টাকা
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। ভ্যাটসহ স্বর্ণালংকারে দাম প্রতি ভরিতে সর্বোচ্চ ৯ হাজার ৮৫৬ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

​বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল ১০টা থেকে সোনার এই নতুন দাম কার্যকর করা হয়েছে।

​বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানিয়েছে, আজ সকাল ৯টায় বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে এই নতুন দাম নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

​নতুন মূল্য তালিকা অনুযায়ী, এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণালংকারে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৩২ হাজার ৯৩০ টাকা। বুধবার (৫ আগস্ট) পর্যন্ত এর দাম ছিল ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।

​২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ২২ হাজার ৪৯১ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা এখন থেকে বিক্রি হবে ১ লাখ ৯১ হাজার ৫৬ টাকায় এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার নতুন দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৬৪ টাকা।

​সোনার দামের সঙ্গে বাড়ানো হয়েছে রুপার দামও। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার নতুন দাম ৪ হাজার ৮৯৯ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ৪ হাজার ২৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপার দাম ৩ হাজার ২৬৬ টাকা।