খসড়া চার্জশিট: রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন

খসড়া চার্জশিট: রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন

খসড়া চার্জশিট: রিজার্ভ চুরিতে জড়িত ৬৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান, আতিউরসহ বাংলাদেশেরই ১০ জন
ছবি সংগৃহীত।

প্রায় এক দশকব্যাপী তদন্ত শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের বহুল আলোচিত রিজার্ভ চুরির মামলায় খসড়া অভিযোগপত্র (চার্জশিট) প্রস্তুত করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। আইনি পরামর্শের জন্য খসড়া অভিযোগপত্রটি অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির এ ঘটনায় দেশি-বিদেশি মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

সিআইডি সূত্র জানায়, প্রায় ১০ হাজার পৃষ্ঠার মামলার ডকেট ও খসড়া চার্জশিটে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পাওয়া বিস্তৃত ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়েছে। দীর্ঘ তদন্তে দেশ-বিদেশ থেকে সংগ্রহ করা নথি, ডিজিটাল আলামত ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিবেদন বিশ্লেষণের মাধ্যমে অভিযোগপত্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে।

অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, আর্থিক খাতের এ ধরনের বড় অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিতে দ্রুত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে বিচার কার্যক্রম শুরু করা জরুরি। তাদের ভাষ্য, মামলাটির দ্রুত নিষ্পত্তি হলে আর্থিক খাতে জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

সিআইডির একটি নির্ভরশীল সূত্র জানায়, ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি হয়। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট পদ্ধতিতে ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেয়। চুরির ঘটনার ৩৯ দিন পর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। সিআইডি শুরু থেকেই মামলাটি তদন্ত করছে।

গত বছরের ১১ মার্চ সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে প্রধান করে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছয় সদস্যের পর্যালোচনা কমিটি করেছিল অন্তর্বর্তী সরকার।

সেই কমিটির তত্ত্বাবধানে রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্ত সম্পন্ন করা হয়। পরে গত ১ এপ্রিল খসড়া অভিযোগপত্র প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে হস্তান্তর করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগপত্র সংক্রান্ত আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়।

খসড়া অভিযোগপত্রে মোট ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এর মধ্যে ফিলিপাইনের ৩৬, নর্থ কোরিয়ার ২, চীনের ৩, শ্রীলঙ্কার ৮, জাপানের ১, ভারতের ৪ এবং বাংলাদেশের ১০ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

রিজার্ভ চুরিতে বাংলাদেশের জড়িত যারা
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, তদন্তে তৎকালীন গভর্নর ড. আতিউর রহমানের নানা গাফিলতি, ঘটনা গোপন করা, আলামত মুছে দেওয়ার চেষ্টাসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসে। তবে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাকে চার্জশিটভুক্ত না করতে অদৃশ্য চাপ আসে। তবে চূড়ান্ত চার্জশিটে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তৎকালীন প্রধান আতিউর রহমান আসামির তালিকায় রয়েছেন।
এছাড়া ওই সময়ের ইনস্টিটিউট অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশের সভাপতি আনিস এ খান, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মহাব্যবস্থাপক কে এম আবদুল ওয়াদুদ, সাবেক উপমহাব্যবস্থাপক রেজাউল করিম, তৎকালীন উপমহাব্যবস্থাপক মেজবাউল হক, সাবেক নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহাসহ ৯ কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

ফিলিপাইনের আসামি যেসব ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান
বাংলাদেশের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় ফিলিপাইনের কাম সিন ওং, মায়া সান্তোস দেগুইতো, রাউল ভিক্টর বি তান, ব্রিজিট আর কাপিনা, নেস্তর ও পিনেদা, রোমুয়ালদো এস আগারাডো, অ্যাঞ্জেলা রুথ এস টরেস, লোরেঞ্জো তান, মিস ন্যান্সি, জাও কিওগ, ডেনিস সি ব্যানকোড, ইসমায়েল আর রেইস, সাবিনো এম ইকো, মিস লিজেন্ড জে রাসেলা, রিচার্ড ইনসাইন, উইলিয়াম সোঁ গো (মৃত্যুবরণ করেছেন), সালুদ রেইস বাউতিস্তা শেবা, মিশেল বাউতিস্তা কনকন, অ্যান্থনি এ পেলেজো, জন ইউ, লুইস ফাব্রেগাস খো, ম্যান পো চান, মিং ই সাইমন সি, রোজালিও পরানতা তান্দুয়ান, এনরিকে কে রাজোন, থমাস আরাসি, জোসে এডুয়ার্ডো জে আলারিলা, ক্রিশ্চিয়ান আর গনজালেস, ডোনাটো সি আলমেইদা ও ফ্লিন্ট রিচার্ডসনের নাম এসেছে। এছাড়া দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশন, ফিলরেম সার্ভিস করপোরেশন, সেঞ্চুরিটেক্স ট্রেডিং, আব্বা কারেন্সি এক্সচেঞ্জ, ইনকরপোরেশন, বিকন কারেন্সি এক্সচেঞ্জ ইনকরপোরেশন, মিডাস ক্যাসিনো ও সোলেয়ার রিসোর্ট অ্যান্ড ক্যাসিনোর নাম রয়েছে আসামির তালিকায়।

ভারতের আসামি যারা
ভারতের নাগরিক নীলাভান্নান মাদুক্কুর আনন্দন, প্রীতম রেড্ডি, সুধীন্দ্র আত্রেশ ও রাকেশ আস্তানা।

এছাড়া উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিন হিয়োক ও প্রতিষ্ঠান হিসেবে লাজারাস গ্রুপ, চীনের ৩ নাগরিক ডিং ঝিজে, গাও শুহুয়া ও ওয়েইকাং জু এবং জাপানি নাগরিক সাসাকির নাম রয়েছে।

শ্রীলঙ্কার ৭ ব্যক্তি ও এক প্রতিষ্ঠান অভিযুক্ত
শ্রীলঙ্কার আসামির মধ্যে হেগোডা গামাগে শালিকা পেরেরা, ইমিয়াগে ডন মিউরিন রানাসিংহে, রামানায়েক আরাচ্চিগে ডন প্রদীপ রোহিত দামকিন, বুলুগাহা আরামবেগেদারা সাঞ্জিবা তিসা বান্দারা, ওয়েরাপুলি মুহান্দিরামগে প্রিয়াঙ্কা জয়দেব, লুয়াইস হান্নাদিগে শিরানি ধম্মিকা ফার্নান্দো ও নিশান্ত নলক ওয়ালাকুলু আরাচ্চি নাম রয়েছে। প্রতিষ্ঠান হিসেবে শালিকা ফাউন্ডেশনের নাম রয়েছে।

রিজার্ভ চুরির মামলার সবশেষ তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইমের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুন। গত বছরের ডিসেম্বর মাস থেকে তিনি দায়িত্ব নেন।
তিনি  বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের ৮০ শতাংশ কাজ প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা সম্পন্ন করে গেছেন। পরে দুজন তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও কিছু তথ্য সংগ্রহ করেছেন। সবশেষে আমি চেষ্টা করেছি নির্ভুল একটি চার্জশিট প্রস্তুত করতে। তদন্তে আমাদের আর কোনো কাজ পেন্ডিং নেই। এরই মধ্যে শতভাগ তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে খসড়া চার্জশিট প্রস্তুত করে অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনি পরামর্শও চাওয়া হয়েছে। এ সংক্রান্ত আইনি পরামর্শ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আল মামুনের আগে রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মো. ফরহাদ কবির। ২০২৫ সালের মে থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত সময়ে তিনি মামলা সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ফরেনসিক আলামত সংগ্রহ করেন। পাশাপাশি রিজার্ভ চুরির প্রধান অভিযুক্তকে চিহ্নিত করেন।

তদন্তের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি  বলেন, ‘রিজার্ভ চুরির মামলা তদন্তের সব কাজ প্রায় শেষ হয়ে এলেও প্রধান অপরাধীকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত করা যাচ্ছিল না। আমাদের একটি ফরেনসিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকার পার্ক জিয়ন হিয়ক ও তার নেতৃত্বে পরিচালিত ল্যাজারার গ্রুপকে চিহ্নিত করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)। পরে তদন্ত তদারক কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খানের সহযোগিতায় এফবিআইএ’র বিশেষ এজেন্ট নাথান পি. শিলডের কাছ থেকে রিপোর্টটি সংগ্রহ করে প্রধান আসামিকে মামলায় অন্তর্ভুক্ত করি। পাশাপাশি আরসিবিসি ব্যাংকের ৮১ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত করা হয়।’

২০২৩ সালের আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাস পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ছিলেন তৎকালীন সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আব্দুল্লাহ ইয়াসিন। তার সময়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় আর্থিক কেলেঙ্কারির মামলাটির তদন্ত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে হন্তান্তরের প্রক্রিয়া চলে।

যদিও জুলাই অভ্যুত্থানের পর সেই চেষ্টা বিফলে যায়। পরে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে মাস পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার মং থোয়াই মারমা। রিজার্ভ চুরির মামলার প্রথম তদন্তকারী কর্মকর্তা অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান। তিনি ২০১৬ সালের মার্চ থেকে ২০২৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত রিজার্ভ চুরির মামলার তদন্ত করেন। সেসময় তিনি মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্টের (এমএলআর) মাধ্যমে দেশি-বিদেশি ৬৪ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অপরাধ সংশ্লিষ্টতার তথ্য সংগ্রহ করেন। চুরি যাওয়ার অর্থের ৩৪ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার দেশে ফিরে আনাসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেন।

রিজার্ভ চুরির মামলাটি সাত বছর তদন্তের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা তুলে ধরে অতিরিক্ত ডিআইজি রায়হান উদ্দিন খান  বলেন, ‘তদন্তের শুরুতে অনেক প্রতিবন্ধকতা ছিল। বিশেষ করে চুরির ৪১ দিন পর মামলা দায়ের করা হয়। এজন্য আমরা প্রকৃত ক্রাইম সিনে প্রবেশ করতে পারিনি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রাইম সিনে যাওয়ার আগেই একটি আনথরাইজড বিদেশি আইটি ফার্ম ও দেশি অনঅথরাইজড ব্যক্তি ক্রাইম সিনে প্রবেশ করেছিলেন। এরপরও আমাদের টিম অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে দেশ ও বিদেশে থেকে মামলা প্রমাণের জন্য সব আলামত সংগ্রহ করেছি এবং আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে ফরেনসিক রিপোর্টের জন্য সিআইডির আইটি ফরেনসিক ল্যাবে আলামত পাঠিয়েছি। পাশাপাশি ফিলিপাইনের আরসিবিসির ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মায়া দিগুতির স্টেটমেন্ট সংগ্রহ করেছি, যেখানে তিনি অনেক আসামি (বিদেশি) জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন।’

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বহুল আলোচিত মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সাধনের সময় সিআইডির প্রধান ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি মো. ছিবগাত উল্লাহ। তিনি  বলেন, তদন্তকারী দলের সদস্যরা নিরলস পরিশ্রমের মাধ্যমে তদন্ত কার্যক্রমকে প্রায় সমাপ্তির পর্যায়ে নিয়ে গেছেন এবং একটি খসড়া অভিযোগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। অভিযোগপত্রে দেশি ও বিদেশি সংশ্লিষ্ট সব অভিযুক্তের অপরাধের প্রকৃতি ও দায়-দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং বিভিন্ন দেশ থেকে পারস্পরিক আইনগত সহায়তার (এমএলএআর) মাধ্যমে প্রাপ্ত নথিপত্র বিশ্লেষণ করে মামলার তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। প্রায় শতভাগ তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ও যাচাইয়ের ভিত্তিতেই এ অগ্রগতি সাধিত হয়েছে।’

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে থাকা বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাতনামা হ্যাকাররা সুইফট পেমেন্ট ব্যবস্থায় ভুয়া বার্তা পাঠিয়ে এই অর্থ সরিয়ে নেয়। বিষয়টি প্রকাশ্যে এলে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি হয়। ঘটনার ৩৯ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করে। শুরু থেকেই মামলাটির তদন্ত করছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

দেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় এই আর্থিক কেলেঙ্কারির ঘটনায় দেশি-বিদেশি সংশ্লিষ্টতা, অর্থপাচারের পথ ও প্রযুক্তিগত বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে দীর্ঘসময় ধরে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।




সোনার গহনার দাম আরও কমলো

সোনার গহনার দাম আরও কমলো
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ১৩ জুলাই ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার গহনার মতো রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও

জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও
ছবি সংগৃহীত।

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) অনুমোদন বন্ধ থাকায় দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে পুঁজিবাজারের আকার আরও সংকুচিত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০Flag-২৬ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) 'মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি' অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগজনক।

অর্থনীতির তুলনায় কেন পিছিয়ে পুঁজিবাজার?

একটি দেশের অর্থনীতির গভীরতা ও শক্তি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত। বিশ্বের উন্নত ও বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে এই অনুপাত সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়ে থাকে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে স্থবির হয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রতিবছর যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, পুঁজিবাজার সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পায়নে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব কমছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাজার মূলধন বাড়লেও কাটেনি সংকট

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮,৬৯২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৬২,২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩৬,৪২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সরকারি বন্ড বাদে অন্য সাধারণ সিকিউরিটিজের বাজার মূলধনও ৩৫,৮৭৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫,৪৮৩ কোটি টাকায়। তবে এই অংক কেবল কাগজের সূচক বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল; নতুন কোনো ভালো মানের বহুজাতিক বা সরকারি ও বেসরকারি বড় কোম্পানি বাজারে না আসায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই অগ্রগতি ফিকে হয়ে গেছে।

আইপিওহীন দুই বছর ও সুশাসনের ঘাটতি

পুঁজিবাজার মূলত গড়ে ওঠে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। অথচ দেশে সক্রিয় লক্ষাধিক কোম্পানির মধ্যে চারশ কোম্পানিও এখন পর্যন্ত বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর বাজার সম্পূর্ণ আইপিওহীন হয়ে পড়ে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের আমলেও পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতের অর্থ সংগ্রহের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৪৭টি কোম্পানি ১০,৭১৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি আর্থিক ও বিমা খাতের কোম্পানি আইপিও বাধ্যবাধকতার কারণে ১,৫৮৩ কোটি টাকা নিলেও উৎপাদনশীল শিল্প খাতে এই বাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও নীতিমালাসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোম্পানি আনার বিষয়টি প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্ব পায়নি। নতুন আইপিও ছাড়া কার্যকর পুঁজিবাজার কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।"

সূচক ও লেনদেনে কৃত্রিম স্বস্তি

আইপিওর খরা থাকলেও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাজারের লেনদেন ও সূচকে গতি দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫,৭৬৩ পয়েন্টে এবং ভালো কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২,১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় লাফ দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৭২,৬৮৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২৮,৭৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

'জেড' শ্রেণীর আধিপত্য ও বাজার দুর্বলতা

বাহ্যিক এই জোয়ারের আড়ালে বাজারের ভেতরের ভঙ্গুর রূপটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উথান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এটি মূলত কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৫টিই ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত, যার মধ্যে ৬২টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, "বাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের তীব্র সংকট রয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা খাতের সিংহভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ও টেকসই কোম্পানি আনতে হবে।"

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামও একই মত পোষণ করে বলেন, "বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানি বাজারে আনার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সুদূরপ্রসারী ও বিশেষ ছাড়ের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।"

সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবশ্য দাবি করছে যে তারা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “ভালো কোম্পানি বাজারে আকর্ষিত করতে আইপিও বিধিমালায় আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ডস (ISVS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের যে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে, তা ভালো মানের ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে পুঁজিবাজার দেশের জিডিপির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃত অর্থেই বড় হয়ে উঠবে।”




বাড়ল সোনা ও রুপার দাম

বাড়ল সোনা ও রুপার দাম
ছবি সংগৃহীত।

তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ মূল্য শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভা সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৮ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৬ হাজার ৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৩ হাজার ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪২০ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৩৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।