কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৯:৩৫ পূর্বাহ্ন

কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার

কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার
ছবি সংগৃহীত।

দেশের কৃষি খাতে সারের চাহিদা মেটাতে উৎপাদন বাড়ানো এবং বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা দ্রুত সচল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই অংশ হিসেবে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ সার কারখানাগুলো পরিদর্শন করেছেন।

সোমবার (২২ জুন) দুপুরে মন্ত্রী আনোয়ারার বেসরকারি খাতের ‘কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড’ (কাফকো) এবং রাষ্ট্রায়ত্ত ‘চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড’ (সিইউএফএল) ও ‘ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট’ (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কারখানা পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সরকারের এই উচ্চপর্যায়ের সফরের মূল উদ্দেশ্য বেসরকারি খাতের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানাগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে সেগুলোকে সমান তালে এগিয়ে নেওয়া। সম্প্রতি গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর কাফকো এবং ডিএপি সার কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় গ্যাস সংকটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা সিইউএফএল-কেও দ্রুত উৎপাদনে ফেরানোর বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সার কারখানাগুলোর সার্বিক অবকাঠামো এবং কারিগরি সক্ষমতা সশরীরে যাচাই করতে মন্ত্রীর সঙ্গে পরিদর্শনে উপস্থিত ছিলেন, চট্টগ্রাম-১৩ আসনের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজাম, বাংলাদেশ রাসায়নিক শিল্প করপোরেশনের (বিসিআইসি) চেয়ারম্যান মো. ফজলুর রহমান, শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু নাছের খান, মন্ত্রীর একান্ত সচিব ফখরুদ্দীন আহমদসহ স্থানীয় প্রশাসন ও কারখানার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পরিদর্শনকালে মন্ত্রী কারখানাগুলোর বর্তমান উৎপাদন অবকাঠামো, যান্ত্রিক স্থায়িত্ব এবং সামগ্রিক সংস্কারের প্রয়োজনীয় দিকগুলো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। পরে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন তিনি।

মতবিনিময় সভায় শিল্পমন্ত্রী দেশের কৃষি খাতের সুরক্ষায় দেশীয় সার উৎপাদনের ওপর সর্বোচ্চ জোর দেন। তিনি, কারখানাগুলোর আধুনিকায়ন, সময়োপযোগী যন্ত্রপাতি মেরামত এবং দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। কারখানার বিদ্যমান সংকটগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকারি উদ্যোগে দেশের সার কারখানাগুলোকে সচল রাখতে সম্ভাব্য সকল ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিইউএফএলের ব্যবস্থাপক (উৎপাদন) উত্তম চৌধুরী বলেন, মন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কারখানা পরিদর্শন করে যন্ত্রপাতি সুসংহত রাখা ও উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। আমরা কারিগরিভাবে উৎপাদনে যাওয়ার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আশা করছেন, কাফকো এবং ডিএপি সার কারখানার পর সিইউএফএল-এ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকারের নীতি নির্ধারক পর্যায় তৎপর রয়েছে। শিল্পমন্ত্রীর এই মাঠপর্যায়ের পরিদর্শনের ফলে, গ্যাস সংকট নিরসনে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয় আরও গতিশীল হবে, যা দেশের কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনবে।




চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার

চট্টগ্রামে অপহৃত শিশু উদ্ধার, চক্রের তিন সদস্য গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় অপহরণের দুই দিনের মাথায় সাত বছর বয়সী এক শিশুকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণ চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই) চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিবি ও শিল্পাঞ্চল) রাসেল এই তথ্য নিশ্চিত করেন। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. রাকিব (২২), মো. ফয়সাল (৩২) ও মো. জাহাঙ্গীর আলম (৫৫)।

পুলিশ জানায়, দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার পশ্চিম সরফভাটা ইমাম আজম আবু হানিফা (রহ.) স্কুলের নার্সারি শ্রেণির শিক্ষার্থী ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিন (৭) গত ২০ জুলাই সকালে বিদ্যালয়ে যায়। স্কুল ছুটির পর বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

পরে শিশুটির এক সহপাঠী জানায়, এক ব্যক্তি নিজেকে সিএনজি চালক পরিচয় দিয়ে তাসকিনকে বলে, তার বাবা হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং তাকে বাবার কাছে নিয়ে যাওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। এই প্রতারণামূলক কৌশলে শিশুটিকে সিএনজিতে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা দেলোয়ার হোসেন দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন। এরপর পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও দক্ষিণ রাঙ্গুনিয়া থানার সমন্বয়ে একাধিক দল উদ্ধার অভিযান শুরু করে।

পুলিশ জানায়, অভিযানের শুরুতে অপহরণকারীদের কোনো অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য ছিল না। এরপর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা, বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ধারাবাহিক গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে অপহরণকারীদের গতিবিধি শনাক্ত করা হয়। অভিযান চালিয়ে শেষ পর্যন্ত তিন অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের হেফাজত থেকেই অপহৃত শিশু ওয়াসিফা জান্নাত তাসকিনকে সুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। এ সময় অপহরণে ব্যবহৃত সিএনজি অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পারে, গ্রেপ্তার ফয়সাল ভুক্তভোগী শিশুর বাবার মামাতো ভাই। তিনি পূর্বপরিকল্পিতভাবে শিশুটিকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের পরিকল্পনা করেন। এ কাজে তিনি পরিচিত দুই সিএনজি চালককে সম্পৃক্ত করেন এবং মুক্তিপণের টাকা ভাগ করে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ শেষে আদালতে সোপর্দ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।




মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের

মাদক-কিশোর গ্যাং দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ সিএমপি কমিশনারের
ছবি সংগৃহীত।

চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে আরও কার্যকর অভিযান পরিচালনার জন্য চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সব ইউনিটকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকালে নগরের দামপাড়া পুলিশ লাইন্সের মাল্টিপারপাস শেডে অনুষ্ঠিত সিএমপির জুলাই-২০২৬ মাসের মাসিক কল্যাণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সভায় পুলিশ কমিশনার বলেন, সিএমপির প্রতিটি সদস্যকে সততা, নিষ্ঠা, কর্তব্যপরায়ণতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। একই সঙ্গে নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চুরি, ছিনতাই, মাদক, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে আরও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

এদিকে সভায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কৃতিত্ব অর্জনের জন্য কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন জনিকে সম্মাননা ও পুরস্কার প্রদান করেন পুলিশ কমিশনার। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত ২য় এশিয়ান প্যারা থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ রেফারি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সনদ অর্জন করেন।

এছাড়া ভারতের ঝাড়খণ্ডের রাঁচিতে অনুষ্ঠিত ২য় সাউথ এশিয়ান থ্রোবল চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এ খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়ে বাংলাদেশ দলের হয়ে দ্বিতীয় রানার্সআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া (অতিরিক্ত ডিআইজি), উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) মো. ফেরদৌস আলী চৌধুরী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান প্রাং, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি-দক্ষিণ) শেখ শরীফুল ইসলাম, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দিন আহম্মেদসহ সিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন    স্তরের পুলিশ সদস্যরা।




হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন

হোটেলে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি সংগৃহীত।

নগরের চান্দগাঁও থানার বহদ্দারহাট এলাকায় একটি আবাসিক হোটেলে স্ত্রী শাহনাজ বেগমকে (২২) হত্যার দায়ে স্বামী মো. নেজাম উদ্দিনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) চট্টগ্রামের পঞ্চম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো.তাজউল ইসলামের আদালত এই রায় দেন।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী এস এম কাওসার সাগর বলেন, নয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত স্ত্রী হত্যার দায়ে আসামি মো. নেজাম উদ্দিনকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রায়ের সময় আসামি উপস্থিত ছিলেন।

পরে সাজা পরোয়ানা মূলে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১১ সালে পটিয়া উপজেলার মৃত কবির আহমদের ছেলে মো. নেজাম উদ্দিনের সঙ্গে শাহনাজ বেগমের বিয়ে হয়।

বিয়ের পর শাহনাজ অসুস্থ হয়ে পড়লে উন্নত চিকিৎসার কথা বলে ২০১২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাকে পটিয়া থেকে চট্টগ্রাম নগরে নিয়ে আসেন নেজাম। তবে হাসপাতালে না নিয়ে নগরের বহদ্দারহাটের স্বজন সুপার মার্কেট সংলগ্ন হোটেল আল-রেজার ৩১৯ নম্বর কক্ষে ওঠেন তারা।
পরে ওই কক্ষ থেকেই শাহনাজের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহতের বাবা মো. আজগর আলী অভিযোগ করেন, তার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ নেজাম উদ্দিনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে।  ২০১৪ সালের ১৮ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়।