করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৪:৫০ পূর্বাহ্ন

করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন

করপোরেট কর কমছে, হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন
ছবি সংগৃহীত।

২০২৬-২০২৭ অর্থ বছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে করপোরেট করহার অপরিবর্তিত রাখলেও মূল বাজেটে তা কমানো হচ্ছে। শর্ত সাপেক্ষে আগামী পাঁচ অর্থবছরের জন্য করপোরেট করহারে আড়াই শতাংশ হারে ছাড় দেওয়া হতে পারে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্র বলছে, মূলত বিনিয়োগ উৎসাহিত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপি বাড়াতে ব্যবসার ক্ষেত্রে এই ছাড় দেওয়া হতে পারে।

অন্যদিকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের আড়ালে করহার ছাড় দেওয়া হতে পারে ৫ শতাংশ। আর মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে ব্যক্তিশ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়ানো হতে পারে।

একই সঙ্গে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। খুচরা ব্যবসায়ীদের ওপর ভ্যাট বসানো নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার পর অবস্থান থেকে সরে আসতে পারে সরকার। ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন-এর বাধ্যবাধকতা বাতিল হতে পারে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে এই ধরনের ছোট-খাটো আরও কিছু পরিবর্তন এনে ৩০ জুন বাজেট পাস করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

করপোরেট কর কমছে আড়াই শতাংশ

এনবিআর সূত্র বলছে, প্রকৃত বাজেটে আগামী ২০২৬–২৭ অর্থবছরে শর্ত সাপেক্ষে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হতে পারে। বিনিয়োগ উৎসাহিত, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্প উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কর জিডিপি বাড়াতে করপোরেট করে এই ছাড় দেওয়া হতে পারে। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে করপোরেট কর কমানোর প্রস্তাব করা হয়নি।

বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত প্রতিষ্ঠান, যাদের পরিশোধিত মূলধনের অন্যূন ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার সাড়ে ২২ শতাংশ রয়েছে। তবে ক্যাশলেস বা ব্যাংকে লেনদেনের শর্ত পরিপালনে ২০ শতাংশ বহাল রাখা হচ্ছে। এক্ষেত্রে যাদের ১০ শতাংশের নিচে, তাদের করহার শর্ত পরিপালন সাপেক্ষে ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে সাড়ে ২২ শতাংশ করা হচ্ছে। বাকিদের করপোরেট করহার অপরিবর্তিত থাকবে। বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানির কর হার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। পরিশোধিত মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি শেয়ার ছাড়লে কর হার ২০ শতাংশ। সাধারণ কোম্পানির কর ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ। পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের কর ৪০ শতাংশ, তামাক প্রস্তুতকারক কোম্পানি কর ৪৫ শতাংশ, পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত মোবাইল অপারেটরের কর ৪০ শতাংশ, তালিকাবহির্ভূত মোবাইল অপারেটর ৪৫ শতাংশ, ট্রাস্ট, ব্যক্তিসংঘ ও ফার্মের করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, সমবায় সমিতি ২০ শতাংশ, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটেও শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ও অতালিকাভুক্ত কোম্পানির ক্ষেত্রে আগের মতোই করপোরেট করহার বহাল রাখা হয়েছিল।

ব্যাংক হিসাব খুলতে লাগবে না ই-টিআইএন

২০২৬–২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) সনদ দাখিল বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব করা হয়। যদিও শিক্ষার্থী ও বিশেষ কিছু শ্রেণির হিসাবধারীদের জন্য এই নিয়মে ছাড় দেওয়া হয়। তবে ৩০ জুন পাশ হতে যাওয়া এমন বাধ্যবাধকতা থেকে সরে আসতে পারে সরকার। অর্থাৎ ব্যাংক হিসাব খুলতে ই-টিআইএন-এর বাধ্যবাধকতা বাতিল হতে পারে।

স্বর্ণ বিক্রিতে গেইন ট্যাক্স হ্রাস করে ৫ শতাংশ হচ্ছে

প্রস্তাবিত বাজেটে করদাতাদের স্বর্ণ বিক্রিতে ‘গেইন ট্যাক্স’ চালুরা ঘোষণা এসেছে। যার পরিমাণ ১৫ শতাংশ। তবে চূড়ান্ত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার আয়কর ফাইলে থাকা স্বর্ণ বিক্রির গেইন ট্যাক্স কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। অর্থাৎ স্বর্ণ বা স্বর্ণালংকার বিক্রি থেকে আয় দেখালে তার ক্যাপিটাল গেইন বা মুনাফার উপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে।

এ বিষয় এনবিআরের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বলেন, অঘোষিত সম্পদ বৈধ করতে কর ফাইলে বাড়তি স্বর্ণের মজুত দেখানোর যে প্রবণতা রয়েছে, তা ঠেকাতেই মূলত এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি করদাতার করফাইলে স্বর্ণ হলো একটি ভৌতিক সম্পদ। অনেকেই ২০–৪০ ভরি স্বর্ণ দেখালেও মূল্য অজানা দেখায়। অথচ বাস্তবে ওই করদাতার স্বর্ণ ১–২ ভরিও নেই। ভবিষ্যতে অজানা উৎস থেকে আসা অর্থ বা সম্পদ কর না দিয়ে কর ফাইলে দেখানোর সুযোগ রাখতেই অনেকে এভাবে স্বর্ণের মজুত দেখান। পরে সেই অর্থকে স্বর্ণালংকার বিক্রির আয় হিসেবে দেখানো হয়।

কর্মকর্তা বলেন, একজন করদাতা যেদিন থেকে আয়কর ফাইল খুলেছেন, সে সময় স্বর্ণের দাম যা ছিলো, বর্তমানে বিক্রির সময় যে দাম পাবেন, করফাইল খোলার দামের থেকে বিক্রির দাম বাদ দিলে যে লাভ বা গেইন হবেন, তার ওপর ৫ শতাংশ কর দিতে হবে। অর্থবিল, ২০২৬-করদাতার রিটার্নে ঘোষিত স্বর্ণ, রুপা, গহনা, মূল্যবান পাথর, হীরা, মুদ্রা, ডিজিটাল মুদ্রা, শিল্পকর্ম, পুরাকীর্তি ও ক্লাবের সদস্যপদ বিক্রি বা হস্তান্তর থেকে অর্জিত মুনাফাকে মূলধনি মুনাফা হিসেবে গণ্য করে ১৫ শতাংশ হারে কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছিল।

কমছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর

আগামী অর্থবছর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের করহারও কমানো হতে পারে। বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ, ডেন্টাল কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে করহার ১০ শতাংশ রয়েছে, তা কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হতে পারে। মূলত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান ও পরিবেশ আরো উন্নত করার পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সরকার এই করহার কমিয়ে আনছে। তবে আগামী অর্থবছর করহার কমাতে কোনো শর্ত দেওয়া হচ্ছে না। ভবিষ্যতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের এই করহার বহাল রাখার ক্ষেত্রে সরকার শর্তারোপ করতে পারে।

উল্লেখ্য, দেশে বর্তমানে ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১১৬টি। তবে চালু রয়েছে ১০৩টি। এছাড়া ৬৬টি বেসরকারি মেডিকেল কলেজ, ২৬টি বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, ২০টি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ রয়েছে।

করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ হচ্ছে

বর্তমানে করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা রয়েছে, চূড়ান্ত বাজেটে তা বেড়ে ৪ লাখ টাকা করা হতে পারে। এছাড়া অন্যান্য করদাতাদের ২৫ হাজার টাকা করে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে। যদিও প্রস্তাবিত বাজেটে ২০২৬–২৭ ও ২০২৭-২৮ অর্থবছর করমুক্ত আয়সীমা বহাল রাখা অর্থাৎ ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল। এছাড়া ২০২৮-২৯ ও ২০২৯-৩০ অর্থবছর ৪ লাখ এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছর ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছিল।

এনবিআর সূত্র বলছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছর ৪ লাখ এবং ২০২৭-২৮, ২০২৮-২৯ অর্থবছর সাড়ে ৪ লাখ টাকা এবং ২০৩০-৩১ অর্থবছর পাঁচ লাখ টাকা করা হতে পারে। তবে রেয়াতের সীমা কমানো এবং সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ, এফডিআর-এর সুদ থেকে কেটে নেওয়া উৎসে করকে চূড়ান্ত কর দায়ের বদলে অগ্রিম কর হিসাবে গণ্য করায় করদাতাদের ওপর করের বোঝা অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

এছাড়া শেয়ারবাজারের স্বার্থে লভ্যাংশ কর আগের মতোই ২০ শতাংশ রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অর্থবিল সংশোধনের মাধ্যমে লভ্যাংশের এই করহার বিলুপ্ত করা হয়। ফলে লভ্যাংশ আয়ের ওপর নিয়মিত করপোরেট করহার প্রযোজ্য হয়।




সোনার গহনার দাম আরও কমলো

সোনার গহনার দাম আরও কমলো
ছবি সংগৃহীত।

দেশের বাজারে সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে। সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) সোনার গহনার দাম কমানো হয়েছে ২ হাজার ১৫৮ টাকা। এতে ভ্যাটসহ ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা।

স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার দাম কমায় এই দাম কমানো হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে এই দাম কার্যকর হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।

মঙ্গলবার বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

এর আগে গতকাল ১৩ জুলাই ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ২১৬ টাকা। অর্থাৎ দুই দিনে ভালো মানের এক ভরি সোনার গহনার দাম কমলো ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা।

এখন ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ৯৯ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।

এর আগে গত ১৩ জুলাই সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ২১৬ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ২ হাজার ১০০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১১ হাজার ৯৯৩ টাকা।

এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৮০৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৮২ হাজার ৭৫ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনার গহনার দাম ১ হাজার ৪৫৮ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৭৭৪ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনার গহনা বিক্রি হয়েছে।

সোনার গহনার মতো রুপার গহনার দামও ভ্যাটসহ নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৬০৭ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৪ হাজার ৩৭৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনার দাম ৩ হাজার ৭৯১ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার গহনার দাম ২ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।




জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও

জিডিপি অনুপাতে সংকুচিত হচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার: দুই বছর ধরে বন্ধ আইপিও
ছবি সংগৃহীত।

টানা দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও (IPO) অনুমোদন বন্ধ থাকায় দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাতে পুঁজিবাজারের আকার আরও সংকুচিত হয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০Flag-২৬ অর্থবছরে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) 'মার্কেট ক্যাপ টু জিডিপি' অনুপাত দশমিক ৫১ শতাংশ কমে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা একটি উদীয়মান অর্থনীতির জন্য চরম উদ্বেগজনক।

অর্থনীতির তুলনায় কেন পিছিয়ে পুঁজিবাজার?

একটি দেশের অর্থনীতির গভীরতা ও শক্তি পরিমাপের অন্যতম প্রধান সূচক হলো জিডিপির তুলনায় পুঁজিবাজারের বাজার মূলধনের অনুপাত। বিশ্বের উন্নত ও বড় অর্থনীতির দেশগুলোতে এই অনুপাত সাধারণত ১০০ থেকে ২০০ শতাংশ বা তারও বেশি হয়ে থাকে। এমনকি পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও এই অনুপাত ১২৫ থেকে ১৩৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। অথচ বাংলাদেশে এই হার মাত্র ১১ শতাংশের ঘরে স্থবির হয়ে আছে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জিডিপি প্রতিবছর যে হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, পুঁজিবাজার সেই গতি ধরে রাখতে পারছে না। দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়নের জন্য ব্যাংক খাতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতে মূলধন সংগ্রহের সুযোগ তৈরি না হওয়ায় এই স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন শিল্পায়নে সাধারণ মানুষের অংশীদারত্ব কমছে, অন্যদিকে অর্থনীতি ব্যাংক ঋণনির্ভর হয়ে পড়ায় আর্থিক খাতে ঝুঁকি বাড়ছে।

বাজার মূলধন বাড়লেও কাটেনি সংকট

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ডিএসইর সার্বিক বাজার মূলধন বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ৩০ জুন শেষে ডিএসইতে সরকারি বন্ডসহ সব সিকিউরিটিজের বাজার মূলধন দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৯৮,৬৯২ কোটি টাকা, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৬ লাখ ৬২,২৭১ কোটি টাকা। অর্থাৎ বছরের ব্যবধানে বাজার মূলধন ৩৬,৪২১ কোটি টাকা বেড়েছে।

সরকারি বন্ড বাদে অন্য সাধারণ সিকিউরিটিজের বাজার মূলধনও ৩৫,৮৭৭ কোটি টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৫,৪৮৩ কোটি টাকায়। তবে এই অংক কেবল কাগজের সূচক বৃদ্ধিতেই সীমাবদ্ধ ছিল; নতুন কোনো ভালো মানের বহুজাতিক বা সরকারি ও বেসরকারি বড় কোম্পানি বাজারে না আসায় জিডিপির প্রবৃদ্ধির তুলনায় এই অগ্রগতি ফিকে হয়ে গেছে।

আইপিওহীন দুই বছর ও সুশাসনের ঘাটতি

পুঁজিবাজার মূলত গড়ে ওঠে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি মূলধনের জোগান দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। অথচ দেশে সক্রিয় লক্ষাধিক কোম্পানির মধ্যে চারশ কোম্পানিও এখন পর্যন্ত বাজারে তালিকাভুক্ত হতে পারেনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের জুনে টেকনো ড্রাগস লিমিটেড আইপিওর মাধ্যমে ১০০ কোটি টাকা সংগ্রহের পর বাজার সম্পূর্ণ আইপিওহীন হয়ে পড়ে।

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরের আমলেও পুঁজিবাজার থেকে বেসরকারি খাতের অর্থ সংগ্রহের চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। এই দীর্ঘ সময়ে মাত্র ১৪৭টি কোম্পানি ১০,৭১৪ কোটি টাকা মূলধন সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে ২৫টি আর্থিক ও বিমা খাতের কোম্পানি আইপিও বাধ্যবাধকতার কারণে ১,৫৮৩ কোটি টাকা নিলেও উৎপাদনশীল শিল্প খাতে এই বাজারকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যায় বলেন, "বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় দায়িত্ব পাওয়া খন্দকার রাশেদ মাকসুদের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) আইপিও নীতিমালাসহ বিভিন্ন সংস্কার কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকায় নতুন কোম্পানি আনার বিষয়টি প্রত্যাশা অনুযায়ী গুরুত্ব পায়নি। নতুন আইপিও ছাড়া কার্যকর পুঁজিবাজার কোনোভাবেই কল্পনা করা যায় না।"

সূচক ও লেনদেনে কৃত্রিম স্বস্তি

আইপিওর খরা থাকলেও বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের শেষ চার মাসে, বিশেষ করে ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর বাজারের লেনদেন ও সূচকে গতি দেখা গেছে। ডিএসইর প্রধান মূল্যসূচক ডিএসইএক্স ১৯ শতাংশ বেড়ে ৫,৭৬৩ পয়েন্টে এবং ভালো কোম্পানির সূচক ডিএস-৩০ প্রায় ২০ শতাংশ বেড়ে ২,১৭৮ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে।

লেনদেনের ক্ষেত্রেও বড় লাফ দেখা গেছে। বিদায়ী অর্থবছরে মোট ১ লাখ ৭২,৬৮৯ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৫৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ বেশি। পাশাপাশি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন ৭৯ শতাংশ বেড়ে ২৮,৭৯৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে এবং প্রবাসী ও বিদেশী বিনিয়োগকারীদের লেনদেন ১ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৯৪৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।

'জেড' শ্রেণীর আধিপত্য ও বাজার দুর্বলতা

বাহ্যিক এই জোয়ারের আড়ালে বাজারের ভেতরের ভঙ্গুর রূপটি আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই উথান দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা কম, কারণ এটি মূলত কিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ডিএসইতে তালিকাভুক্ত ৩৬০টি কোম্পানির মধ্যে ১২৫টিই ‘জেড’ শ্রেণীভুক্ত, যার মধ্যে ৬২টি কোম্পানির উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. আল-আমিন বলেন, "বাজারে বিনিয়োগযোগ্য ভালো শেয়ারের তীব্র সংকট রয়েছে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিমা খাতের সিংহভাগ কোম্পানির আর্থিক অবস্থা শোচনীয়। বাজারের গভীরতা বাড়াতে হলে জরুরি ভিত্তিতে নতুন ও টেকসই কোম্পানি আনতে হবে।"

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুল ইসলামও একই মত পোষণ করে বলেন, "বিদ্যমান পরিস্থিতি উত্তরণে নতুন ও মৌল ভিত্তিসম্পন্ন ভালো কোম্পানি বাজারে আনার জন্য সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে সুদূরপ্রসারী ও বিশেষ ছাড়ের যৌথ উদ্যোগ নিতে হবে।"

সংস্কার ও দীর্ঘমেয়াদি প্রত্যাশা

নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসি অবশ্য দাবি করছে যে তারা বাজারকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে কাজ করে যাচ্ছে। বিএসইসির মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, “ভালো কোম্পানি বাজারে আকর্ষিত করতে আইপিও বিধিমালায় আন্তর্জাতিক সিকিউরিটিজ ভ্যালুয়েশন স্ট্যান্ডার্ডস (ISVS) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াটিকে আরও স্বচ্ছ করবে। এ ছাড়া তালিকাভুক্ত কোম্পানির জন্য আড়াই শতাংশ কর ছাড়ের যে নতুন সুবিধা যুক্ত হয়েছে, তা ভালো মানের ইস্যুকারী কোম্পানিগুলোকে উৎসাহিত করবে। আশা করা যাচ্ছে, আগামীতে পুঁজিবাজার দেশের জিডিপির সাথে তাল মিলিয়ে প্রকৃত অর্থেই বড় হয়ে উঠবে।”




বাড়ল সোনা ও রুপার দাম

বাড়ল সোনা ও রুপার দাম
ছবি সংগৃহীত।

তেজাবি সোনা (পিওর গোল্ড) ও তেজাবি রুপার (পিওর সিলভার) মূল্য বেড়ে যাওয়ায় দেশের বাজারে নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। নতুন এ মূল্য শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে।

শুক্রবার (৩ জুলাই) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীনের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়, তেজাবি স্বর্ণ ও রুপার মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিংয়ের এক সভা সকাল ৯টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বসম্মতিক্রমে শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ভ্যাটসহ স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের নতুন বিক্রয়মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৯ হাজার ৫৯৫ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৮ হাজার ৭১৫ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৬ হাজার ৭০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম স্বর্ণালংকারের বিক্রয়মূল্য ১৩ হাজার ১৩০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এ ছাড়া ভ্যাটসহ প্রতি গ্রাম ২২ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪২০ টাকা, ২১ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৪০০ টাকা, ১৮ ক্যারেট ক্যাডমিয়াম (হলমার্ককৃত) রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ৩৪৫ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি গ্রাম রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্য ২৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, অলংকারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি প্রযোজ্য হবে। এছাড়া স্বর্ণ ও রুপার অলংকারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদাভাবে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। সুনির্দিষ্ট ভ্যাট, মজুরি ও পাথরের মূল্য বাদ দিয়ে অলংকার এক্সচেঞ্জ ও পারচেজের ক্ষেত্রে বাজুসের পূর্বের নিয়ম বহাল থাকবে।

বাজুস আরও জানিয়েছে, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এ বিক্রয়মূল্য কার্যকর থাকবে।