কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৩:৩৯ পূর্বাহ্ন

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”




খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার অনুদান প্রদান, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পেলো সহায়তা

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে ৩ লাখ ২৮ হাজার টাকার অনুদান প্রদান, শিক্ষার্থী, রোগী, ব্যবসায়ী ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান পেলো সহায়তা
ছবি সংগৃহীত।

পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি, সম্প্রীতি ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমকে আরও বেগবান করতে খাগড়াছড়ি রিজিয়নের উদ্যোগে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অসহায়, অসচ্ছল, মেধাবী ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৬০০ টাকা মূল্যের মানবিক সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

২১ জুলাই মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি রিজিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। মানবিক সহায়তার এ উদ্যোগে শিক্ষা, চিকিৎসা, পুনর্বাসন, গণমাধ্যম এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সহায়তার আওতায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত এক মেধাবী শিক্ষার্থীকে পড়াশোনা নির্বিঘ্ন করতে একটি ল্যাপটপ প্রদান করা হয়। এ ছাড়া রাঙামাটি থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক রূপসী কাপ্তাই পত্রিকার কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে একটি মনিটর দেওয়া হয়।

এ ছাড়া খাগড়াছড়ি জেলার ১০ জন অসহায় ও অসচ্ছল রোগীকে চিকিৎসা ব্যয় নির্বাহের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। সম্প্রতি ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীকে বসতঘর মেরামতের জন্য ৫ বান ঢেউটিন এবং নগদ অর্থ দেওয়া হয়। দুজন অসচ্ছল শিক্ষার্থীকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নের অংশ হিসেবে খাগড়াছড়ি বাইতুল করিম মাদ্রাসা কমপ্লেক্স মসজিদের জন্য একটি আধুনিক সাউন্ড সিস্টেম এবং খাগড়াছড়ি মহিলা মাদ্রাসার সংস্কার কাজের জন্য আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

সহায়তা পেয়ে উপকারভোগীরা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁদের ভাষ্য, এ ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক সংকট মোকাবিলায় নয়, কঠিন সময়ে মানসিক শক্তি ও সাহস জোগাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

খাগড়াছড়ি রিজিয়নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জীবনমান উন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিকভাবে মানবিক ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা সহায়তা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক নানা উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

উল্লেখ্য যে, সেনাবাহিনীর এ ধরনের কার্যক্রম শুধু তাৎক্ষণিক সহায়তা প্রদানেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং পার্বত্য অঞ্চলে পারস্পরিক আস্থা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং টেকসই উন্নয়নের ভিত্তি আরও শক্তিশালী করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।