কক্সবাজার থেকে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে আনোয়ারায় ধরা
বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:১৬ অপরাহ্ন

কক্সবাজার থেকে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে আনোয়ারায় ধরা

কক্সবাজার থেকে সাড়ে ৮৫ লাখ টাকার ইয়াবা নিয়ে আসার পথে আনোয়ারায় ধরা
আনোয়ারায় গ্রেপ্তার ইয়াবা কারবারিরা

কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম শহরে বিক্রির উদ্দেশ্যে নেওয়ার পথে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ৮৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা মূল্যের সাড়ে ২৮ হাজার পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৭, চট্টগ্রাম (মূল লেখানুযায়ী এসআরবি-৭)। গ্রেপ্তারকৃতদের বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) দুপুরে আনোয়ারা থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর আগে বুধবার (২০ অক্টোবর) রাতে উপজেলার পিএবি সড়কের তৈলারদ্বীপ সরকারহাট এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলো—কক্সবাজার জেলার চকরিয়া থানার মালুমঘাট এলাকার আবদুল গফুরের ছেলে মো. সাকিব (১৯) এবং একই এলাকার সেলিম উল্লাহর ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২০)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েত চৌধুরী।

র‌্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) ও সহকারী পুলিশ সুপার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা থেকে ২৮ হাজার ৫৩০ পিস ইয়াবাসহ দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের বহনকারী সিএনজিচালিত অটোরিকশাটিও জব্দ করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, কক্সবাজার থেকে বিক্রির জন্য এসব ইয়াবা চট্টগ্রাম শহরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। অভিযুক্ত ও উদ্ধারকৃত মাদকদ্রব্য এবং জব্দকৃত সিএনজি সংক্রান্ত পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে আনোয়ারা থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে।




পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার

পটিয়ায় স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেপ্তার
ছবি সংগৃহীত।

পটিয়ায় প্রথম স্ত্রীর করা মামলায় স্বামী মো. সাইদুল হককে (৩৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) পটিয়া উপজেলার আমজুরহাট এলাকার একটি বেসরকারি কোম্পানির অফিস থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। সাইদুল হক কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে। স্ত্রীর করা মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে তিনি পটিয়ায় আত্মগোপনে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

জানা যায়, কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার গাবতলী ফাসিয়াখালী এলাকার মৃত নুর মোহাম্মদের মেয়ে উম্মে কুলছুমের সঙ্গে একই উপজেলার কাকারা দক্ষিণ লুটনি গ্রামের মৃত গুলু মিয়ার ছেলে সাইদুল হকের ২০০৮ সালে বিয়ে হয়। তাঁদের সংসারে দুই সন্তান রয়েছে।

প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় সাইদুল হক দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এরপর তিনি দীর্ঘদিন পটিয়ায় অবস্থান করে একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। স্ত্রী উম্মে কুলছুম বাদী হয়ে ২০২৪ সালে কক্সবাজার জেলা জজ আদালতে পারিবারিক মামলা দায়ের করেন। মামলাটির নম্বর ৮৫/২০২৪। এ মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন সাইদুল হক। বৃহস্পতিবার সকালে ওই মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

উম্মে কুলছুম অভিযোগ করেন, ২০০৮ সালে তাঁদের বিয়ে হয় এবং তাঁদের দুই সন্তান রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে তাঁর স্বামী সাইদুল হক কোনো খোঁজখবর রাখেন না এবং ভরণপোষণও দেন না। দ্বিতীয় বিয়ের পর থেকেই মূলত এ সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি পারিবারিক আদালতে মামলা করেন। এরপর থেকে সাইদুল হক দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে পটিয়ায় একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

পটিয়া থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শামীম ভূঁইয়া জানান, সাইদুল হক পটিয়ার একটি বেসরকারি কোম্পানিতে চাকরি করেন। পারিবারিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানার ভিত্তিতে তাঁকে আমজুরহাট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাঁকে চকরিয়া থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।




দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন

দেবীর চরণে সিঁদুর ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সৈকতে প্রতিমা বিসর্জন
ছবি সংগৃহীত।

আনোয়ারায় বিজয়া দশমীতে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা সমাপ্ত হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) দুপুর থেকে মণ্ডপগুলোতে দর্পণ বিসর্জন, সিঁদুর খেলা ও শোভাযাত্রার মাধ্যমে পারকি সমুদ্র সৈকতে দেবীকে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে বিদায় জানানো হয়। তবে পারকি সৈকত ছাড়াও আনোয়ারায় বিভিন্ন পুকুর, দীঘি এবং শঙ্খ নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। এর আগে সকাল থেকে শাস্ত্রীয় মতেই বিহিত পূজা ও দর্পণ বিসর্জনের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি টানা হয়।

বিসর্জন উপলক্ষে পারকি সমুদ্র সৈকতে পূজা উদযাপন পরিষদ নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি নির্মল শীল, সমন্বয়ক সজিব দেব নাথ, রাহুল ধরসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ ও জনপ্রতিনিধিরা।

বিসর্জনকালে সমুদ্র সৈকতে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে। বিসর্জনের আগে নারীরা দেবীর চরণে সিঁদুর নিবেদন করেন এবং একে অপরের কপালে সিঁদুর মেখে শুভকামনা জানান।

এ সময় বিসর্জন স্থানগুলোতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পুলিশ, আনসার এবং স্থানীয় পূজা উদযাপন পরিষদের স্বেচ্ছাসেবকরা শান্তিশৃঙ্খলার দায়িত্ব পালন করেন। নিরাপত্তা এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় রাখার স্বার্থে বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে বিসর্জনের সমস্ত প্রক্রিয়া শেষ করার নির্দেশনা দিয়েছিলেন পূজা উদযাপন পরিষদ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।




বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার মাছ লুটের সংবাদ মিথ্যা, ছবি এআই দিয়ে তৈরি: দেলোয়ার আজীম

বাঁশখালীতে বিএনপি নেতার মাছ লুটের সংবাদ মিথ্যা, ছবি এআই দিয়ে তৈরি: দেলোয়ার আজীম
ছবি সংগৃহীত।

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে বিএনপি নেতার মাছ লুটের যে সংবাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে, তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও উপজেলা বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম।

গত বুধবার বিকেলে ইউনিয়ন পরিষদের পুকুরপাড়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে মাছ লুটের যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যবহৃত ছবিগুলোও ছিল এআই (AI) দিয়ে বানানো।” এ সময় তাঁর সঙ্গে কয়েক শ নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম বলেন, “আমি ইউনিয়ন পরিষদে একাধিকবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করেছি। সামান্য ভোটের ব্যবধানে বারবার আমাকে পরাজিত করা হয়েছে। গত নির্বাচনেও মাত্র ৭ ভোটে আমাকে পরাজিত দেখানো হয়।”

তিনি অভিযোগ করে বলেন, “নির্বাচন সামনে এলেই একটি মহল পরিকল্পিতভাবে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায়। সরকারি পুকুরের মাছ লুটের গল্প তৈরি করে অপপ্রচার চালানোও তারই অংশ।”

পুকুরের ইজারার বিষয়টি স্পষ্ট করে তিনি বলেন, “এই পুকুর আমি তিন বছরের জন্য লিজ নিয়েছি এবং ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা রাজস্ব জমা দিয়েছি।” এ সময় লিজের চালানপত্র দেখিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ১৪৩৪ বাংলা সন পর্যন্ত আমার মেয়াদের বৈধতা আছে। তবুও এ বিষয়ে প্রশাসন যে সিদ্ধান্ত নেবে তা শিরোধার্য। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ না নিয়ে, আমার লিজ নেওয়া পুকুর থেকে মাছ ধরার আগেই পরিকল্পিতভাবে ‘মাছ লুট’-এর কাহিনি সাজিয়ে আমার চরিত্র হননের চেষ্টা করা হয়েছে। আমি এই অপপ্রচারের নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক প্রশাসনের কাছে বিচার দাবি করছি। একই সঙ্গে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসী যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেজন্যই আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন।”

বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম আরও অভিযোগ করেন, একটি কুচক্রী মহল চাঁদা না পেয়ে এবং লিজের পুকুরের মাছ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের অসত্য তথ্য ছড়িয়ে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পুকুরে মাছ লুটের কোনো ঘটনা না ঘটলেও একটি মহল প্রশাসনকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করে। ফলে খবর পেয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও অভিযোগের কোনো সত্যতা বা প্রমাণ পাননি।

এ বিষয়ে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জানান, ইউনিয়ন পরিষদের পুকুর থেকে মাছ লুটের সংবাদটি সত্য নয়। বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম পুকুরটি লিজ নিয়েছেন বলে আমাদের জানিয়েছেন। তাঁর জমা দেওয়া কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

ছবি ক্যাপশন (১): সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন বিএনপি নেতা দেলোয়ার আজীম।