কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ
মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৫২ অপরাহ্ন

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভিসি প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির নতুন ভাইস চ্যান্সেলর (ভিসি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ।

মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে ১৩ অক্টোবর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা-২-এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. নেছার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ কক্সবাজার জেলার উখিয়া উপজেলার রুমখাঁ মরিচ্যা হাজীর পাড়ার বাসিন্দা মরহুম আলহাজ পেটান আলী সওদাগরের ছেলে। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও সাবেক চেয়ারম্যান।

প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদের কর্মজীবন:

  • কিউরেটর: বোটানিক্যাল গার্ডেন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (ফেব্রুয়ারি ১৯৮২ – অক্টোবর ১৯৯২)

  • সহকারী অধ্যাপক: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (অক্টোবর ১৯৯২ – জুন ১৯৯৭)

  • সহযোগী অধ্যাপক: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (জুন ১৯৯৭ – জানুয়ারি ২০০৪)

  • অধ্যাপক: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (জানুয়ারি ২০০৪ – অক্টোবর ২০২৩)

প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা:

  • প্রভোস্ট: স্যার এ এফ রহমান হল, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (মে ২০০৬ – এপ্রিল ২০০৯)

  • চেয়ারম্যান: উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (মার্চ ২০১১ – মার্চ ২০১৪)

  • পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত): বোটানিক্যাল গার্ডেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (অক্টোবর ২০১১ – মার্চ ২০১৪)

  • নির্বাহী পরিচালক: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প (সিআরডিপি) (ফেব্রুয়ারি ২০১৫ – মার্চ ২০১৬)

 

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদ সিবিআইইউ-এর ভিসি হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় তাঁকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লায়ন মোহাম্মদ মুজিবুর রহমানসহ ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যরা।

একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ নবাগত ভিসিকে প্রাণঢালা অভিনন্দন জানিয়েছেন।

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করে যে, প্রফেসর ড. মোকতার আহমেদের যোগ্য নেতৃত্বে শিক্ষা, গবেষণা ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে; রচিত হবে সম্ভাবনার মাইলফলক এবং উচ্চশিক্ষা বিস্তারে আসবে নতুনত্ব ও সমৃদ্ধি।




সাবেক এমপি জাফর ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক

সাবেক এমপি জাফর ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুদক
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার-১ (চকোরিয়া-পেকুয়া) আসনে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি জাফর আলম ও তাঁর স্ত্রী মিসেস শাহেদা বেগমের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গত ৮ অক্টোবর দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে এ তথ্য জানা গেছে।

আদেশ প্রাপ্তির ২১ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পদের বিবরণী দাখিল করতে ব্যর্থ হলে অথবা ভুল বিবরণী দাখিল করলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, জাফর আলম আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলায় কারারুদ্ধ রয়েছেন। এ ছাড়া জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা রয়েছে।




কক্সবাজার সৈকতে ৫০ ফুটের প্লাস্টিক দানব, তৈরি ৫ টন বর্জ্যে

কক্সবাজার সৈকতে ৫০ ফুটের প্লাস্টিক দানব, তৈরি ৫ টন বর্জ্যে
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে আছে ৫০ ফুট উচ্চতার এক দানব। হাতে উপড়ে ফেলা নারকেলগাছ, শরীরজুড়ে মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সমুদ্রের গভীর থেকে উঠে এসেছে কোনো ভয়ংকর প্রাণী। তবে এটি কোনো কল্পকাহিনির দানব নয়; মানুষের অসচেতনতা ও প্লাস্টিক দূষণের ভয়াবহতার প্রতীক।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে স্থাপন করা ব্যতিক্রমী এই ভাস্কর্য তৈরি করা হয়েছে সমুদ্র থেকে সংগ্রহ করা পাঁচ মেট্রিক টন প্লাস্টিক বর্জ্য দিয়ে। ইনানী, টেকনাফ ও সেন্ট মার্টিন সৈকত থেকে সংগ্রহ করা এসব প্লাস্টিক দিয়ে ভাস্কর্যটি নির্মাণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিল্পীরা। এটি তৈরি করতে তাঁদের সময় লেগেছে ২০ দিন।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতের সিগাল পয়েন্ট এলাকায় ভাস্কর্যটির প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ উদ্যোগ নিয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান।

জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান বলেন, প্লাস্টিক ভবিষ্যৎ প্রজন্ম, পরিবেশ ও প্রতিবেশের জন্য দানবের মতো ভয়ংকর হয়ে উঠেছে। প্লাস্টিকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে বেড়াতে এসে চিপসের প্যাকেট, পানির বোতলসহ নানা ধরনের প্লাস্টিক বর্জ্য ফেলে যান অনেক পর্যটক। এসব বর্জ্য পরিবেশ ও সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের জন্য কতটা ক্ষতিকর, তা প্রতীকীভাবে তুলে ধরছে এই ভাস্কর্য। শিল্পকর্মটি দেখতে সৈকতে ভিড় করছেন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

ফরিদপুর থেকে আসা শিক্ষক দম্পতি মামুন ও লায়লা বলেন, বেড়াতে আসা অনেক মানুষ প্লাস্টিকসহ নানা ধরনের বর্জ্য ফেলে সৈকতের সৌন্দর্য নষ্ট করছেন। প্লাস্টিক ও অন্যান্য বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা এবং পরিবেশ রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে।

আরেক পর্যটক সাদিয়া বলেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে ব্যক্তিগত সচেতনতার পাশাপাশি প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগও জরুরি। পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন, সচেতনতামূলক কার্যক্রম বৃদ্ধি এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ প্রয়োজন।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক মুহাম্মদ মুবারক সাংবাদিকদের বলেন, ৫০ ফুট উচ্চতার এই ভাস্কর্য তৈরিতে পাঁচ টন প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ কীভাবে প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংস করছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘গাছ উপড়ে ফেলার প্রতীকী দৃশ্যের মাধ্যমে আমরা দেখাতে চেয়েছি, এই দূষণ কীভাবে আমাদের পরিবেশ ও অক্সিজেনের উৎসকে হুমকির মুখে ফেলছে। প্লাস্টিক দূষণের কারণে নীরবে যে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে, তা অনেক সময় আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। সেই অদৃশ্য বিপর্যয়কেই দৃশ্যমান করার চেষ্টা করেছি এই ভাস্কর্যের মাধ্যমে।’

মুহাম্মদ মুবারক আরও বলেন, দায়িত্বশীল পর্যটন ও পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে একটি চলচ্চিত্র তৈরি করেছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। এ বছর কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে চলচ্চিত্রটি প্রদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, বাংলাদেশের মতো দেশে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনর্ব্যবহারের সক্ষমতা সীমিত। তাই এ দূষণ রোধে জনসম্পৃক্ততা ও সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, ২০২২ সাল থেকে কক্সবাজার ও সেন্ট মার্টিনে প্লাস্টিকবিষয়ক সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশন। প্লাস্টিক বর্জ্যের বিনিময়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে চাল-ডাল দেওয়ার পাশাপাশি সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ পুনর্ব্যবহার ও ভাস্কর্য নির্মাণে কাজে লাগানো হয়।

মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন জানান, প্রতিবছর ভিন্ন ভিন্ন প্রতীকী ভাস্কর্যের মাধ্যমে মানুষের ফেলে দেওয়া প্লাস্টিক কীভাবে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যতের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে, তা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতে আগামী ছয় মাস ভাস্কর্যটির প্রদর্শনী চলবে।

সৈকতে দাঁড়িয়ে থাকা প্লাস্টিকের এই দানব শুধু একটি শিল্পকর্ম নয়; এটি মানুষের অসচেতনতার কারণে সৃষ্ট দূষণের ভয়াবহ পরিণতির প্রতীক। প্লাস্টিকের যথেচ্ছ ব্যবহার কমানো, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলা এবং পরিবেশ রক্ষায় সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার বার্তাই দিচ্ছে ব্যতিক্রমী এই ভাস্কর্য।




কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু: জেলায় ৬ লাখ ৫১ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ কর্মী

কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহ শুরু: জেলায় ৬ লাখ ৫১ হাজার পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ কর্মী
ছবি সংগৃহীত।

নারীর ক্ষমতায়ন, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বাস্তবায়নে কক্সবাজারে ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এ কার্যক্রম পরিচালনায় জেলায় ৮৫৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ১১১ জন সুপারভাইজার নিয়োজিত রয়েছেন। সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে দেশব্যাপী একযোগে এ তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

সরকারের এ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র, অতিদরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করে সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিবারের নারীপ্রধানের নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার মাধ্যমে নারীর মর্যাদা, অধিকার ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করাই এ কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য।

সোমবার কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসক এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সাধারণ) শাহেদুল আলম, কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মমতাজ উদ্দিন বাহারী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের সভাপতি নুরুল ইসলাম হেলালীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কেন্দ্রীয় সংবাদ সম্মেলনের সঙ্গে জুম প্ল্যাটফর্মে সংযুক্ত হয়ে কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়।

জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কক্সবাজার জেলার ১১টি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা ইউনিটের আওতায় মোট ৩১ লাখ ৩১ হাজার ৯৪ জন মানুষ এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ১৭৭টি পরিবার রয়েছে। এসব পরিবারের তথ্য সংগ্রহে ৮৫৩ জন তথ্যসংগ্রহকারী ও ১১১ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন। তথ্য সংগ্রহের জন্য কেন্দ্রীয় দপ্তর থেকে জেলায় ১৭০টি ট্যাব সরবরাহ করা হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় নিয়োজিত কর্মীরা বিশেষায়িত ট্যাব ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করবেন। সংগৃহীত তথ্য সরাসরি অনলাইন ডেটাবেজে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

জেলা পর্যায়ে ৪ ও ৫ অক্টোবর প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (টিওটি) অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ১০ ও ১১ অক্টোবর উপজেলা পর্যায়ে তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে উপজেলা পর্যায়ে ১৭০ জন প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন।

জেলার ১১টি উপজেলা ও শহর সমাজসেবা ইউনিটের নির্দিষ্ট ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে প্রথম পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী, ভারুয়াখালী ও চৌফলদণ্ডী; রামু উপজেলার গর্জনিয়া, কচ্ছপিয়া ও ঈদগড়; উখিয়ার রাজাপালং, জালিয়াপালং ও হলদিয়াপালং; টেকনাফ পৌরসভা, হ্নীলা ও বাহারছড়া; চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুর, ডুলাহাজারা ও লক্ষ্যারচর; মাতামুহুরীর কোনাখালী, পশ্চিম বড় ভেওলা ও ঢেমুশিয়া; পেকুয়ার রাজাখালী, উজানটিয়া ও মগনামা; কুতুবদিয়ার আলী আকবর ডেইল, বড়ঘোপ ও উত্তর ধুরুং; মহেশখালীর ছোট মহেশখালী, বড় মহেশখালী ও কুতুবজোম; ঈদগাঁওয়ের ইসলামপুর, পোকখালী ও জালালাবাদ এবং শহর সমাজসেবা ইউনিটের ১, ৩ ও ৭ নম্বর ওয়ার্ড রয়েছে।

কক্সবাজারে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির পাইলট কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৬ মে। চকরিয়া উপজেলার কৈয়ারবিল ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে পরিচালিত এ কার্যক্রমে ৩০৪ জন উপকারভোগী নির্বাচিত হন। পাইলট কর্মসূচির জেলা বাস্তবায়ন ও সমন্বয় কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয় ২৯ জুলাই।

দেশব্যাপী পাইলট কার্যক্রমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত আট বিভাগের ৪৪ জেলার ৫৫টি উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৫৭টি ইউনিটে মোট ১ লাখ ১২ হাজার ৯৪টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রক্সি মিনস টেস্ট (পিএমটি) স্কোরের ভিত্তিতে নির্বাচিত ৭১ হাজার ৮৩১ জন যোগ্য উপকারভোগীকে ফ্যামিলি কার্ড ও ভাতা দেওয়া হয়েছে বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থা যাচাই করে উপকারভোগী নির্বাচনের জন্য স্কোরিং পদ্ধতি অনুসরণ করা হবে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) খানা আয়-ব্যয় জরিপের ভিত্তিতে শহর ও গ্রামীণ এলাকার জন্য পৃথক ডোমেইনে স্কোর নির্ধারণের কথা জানানো হয়েছে। সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রতিটি পরিবারের স্কোর নির্ধারণ করা হবে এবং সেই স্কোরের ভিত্তিতে উপকারভোগী নির্বাচন করা হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কর্মসূচির মূল দর্শন হলো—‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’। এর মাধ্যমে পরিবারকেন্দ্রিক উন্নয়ন, নারীর ক্ষমতায়ন, ডিজিটাল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি এবং টেকসই সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবিধানের ১৫(ক) অনুচ্ছেদে নাগরিকের খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসাসহ মৌলিক প্রয়োজন পূরণের ব্যবস্থা করার কথা উল্লেখ রয়েছে। এ সাংবিধানিক দায়িত্বের আলোকে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর খাদ্যনিরাপত্তা এবং জীবনধারণের মৌলিক চাহিদা পূরণে সহায়তা দেওয়াই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাংবাদিকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা ও পরামর্শ কামনা করেছে জেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও জেলা প্রশাসন।