কক্সবাজারে ছাত্রদল নেতার নিকট থেকে যুবদল নেতার চাঁদা দাবি

কক্সবাজার সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে দোকান বসাতে গিয়ে আলমগীর চৌধুরী নামক ছাত্রদল নেতার নিকট থেকে যুবদল নেতার চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে নিজের ফেসবুক আইডিতে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ওই ছাত্রদল নেতা।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার ছোট মামা নীলিমার পাশে একটি ছোট দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। হঠাৎ প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযানে তার সেই দোকানটি ভেঙে ফেলা হয়। আমরা ভেবেছিলাম—কিছুদিন কষ্ট হলেও আবার একই জায়গায় দোকান বসিয়ে নতুন করে শুরু করবো।
কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সেই সুযোগটুকুও পেলাম না। স্থানীয় ১০ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি পদপ্রার্থী এসে সেই জায়গাটি দখল করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে এলাকার তিনজন বড় ভাইয়ের কাছে বিচার দিলাম, কিন্তু কোনো সমাধান হলো না।
শেষ পর্যন্ত আমি নিজেই তার সাথে কথা বলতে যাই, সাথে ছিল আরও কয়েকজন ছাত্রনেতা। দীর্ঘ আলোচনার পর তিনি যে “সমাধান” দিলেন, তা শুনে অবাক হয়ে গেলাম—
ওই জায়গায় আবার দোকান বসাতে হলে আমাকে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দিতে হবে! প্রশ্ন হলো—এটা কিসের বিচার? এটা কিসের ন্যায়?
আলমগীর চৌধুরী তার স্ট্যাটাসে লেখেন, একজন অসহায় মানুষের জীবিকার জায়গা দখল করে নিয়ে, আবার সেখানে দাঁড়াতে গেলেও টাকা দিতে হবে—এই কি আমাদের সমাজের বাস্তবতা? আজ সত্যিই মনে হচ্ছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর মতো মানুষ খুবই কমে গেছে।
দীর্ঘদিন ধরে আমি সৎভাবে নিজের কাজ করে আসছি। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সম্প্রতি এক যুবদল নেতা আমার কাছে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেছে।
তিনি বলেন, আমি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই—আমি অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবো না, কোনো চাঁদাবাজির সাথে আপস করবো না। এই ধরনের কর্মকাণ্ড শুধু একজন মানুষের ক্ষতি করে না, বরং একটি সংগঠনের ভাবমূর্তিকেও নষ্ট করে।
আমি প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হোক এবং এর সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হোক। অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলুন, ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ান।
অভিযুক্ত যুবদল নেতার পরিচয় জানতে চাইলে আলমগীর চৌধুরী বলেন, যুবদল নেতা শাহনেওয়াজকে চাঁদা না দিলে দোকান বসাতে দিবেনা বলে জানিয়েছেন। সিনিয়র নেতারাও এ বিষয়ে কোনো প্রতিকার দিতে পারেনি। বাধ্য হয়ে স্ট্যাটাস লিখেছি।
তবে অভিযুক্ত শাহনেওয়াজ চাঁদা দাবির অভিযোগ ডাহা মিথ্যা বলে দাবি করেন। উল্টো আলমগীর চৌধুরীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনেন তিনি।







