ওসি-ইউএনওকে চকরিয়া বিএনপির সভাপতির প্রকাশ্যে হুমকি! ‘কথা না শুনলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখো’

কক্সবাজারের চকরিয়ায় থানা-পুলিশের ওসি, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের বিরুদ্ধে। তাঁর একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গন ও প্রশাসনিক মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১০ মে) রাতে চকরিয়া উপজেলা বিএনপির উদ্যোগে আজিজনগর চেয়ারম্যান লেক এলাকায় আয়োজিত পিকনিক অনুষ্ঠানে দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এনামুল হক। সেখানে তিনি প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাকে উদ্দেশ্য করে কঠোর ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন এবং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ না হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও বলেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “চকরিয়া থানা সবকিছু দেবে না, চকরিয়া থানা থেকে সবকিছু আমাদের আদায় করে নিতে হবে। আমাদেরটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আমাদেরটা কয়লামন্ত্রী না, পানিমন্ত্রী না। আমরা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছি।”
তিনি আরও বলেন, “ওসি, তুই যদি আমার কথা না শুনিস, তাহলে রাতে গাট্টি গোল করে রাখবি।” একইভাবে ইউএনও অফিসের কর্মকর্তাদের উদ্দেশেও বলেন, “আমাদের কথা না শুনলে রাতেই কাপড়চোপড় গুছিয়ে রাখার প্রস্তুতি নাও।”
এনামুল হক আরও বলেন, “আরও বড় বড় কর্মকর্তা যাঁরা আছেন—অফিসার, পিয়ন—সবাইকে আলটিমেটাম দেবেন। বলবেন, এই কাজটা করে দিতে হবে। ১৫ দিনের সময় দেবেন। এর মধ্যে কাজ না হলে মসজিদ থেকে খাটিয়া এনে সেখানে শুইয়ে দেব। এরপর হয় আমিরাবাদ, না হয় কক্সবাজার পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এখানে আর থাকতে দেওয়া হবে না।”
তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে তিনি নেতাকর্মীদের অবৈধভাবে মাছের ঘেরে না যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বৈধ কাজের ক্ষেত্রে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এম. মোবারক আলী, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ফখরুদ্দীন ফরায়েজী, পৌর বিএনপির সহসভাপতি গিয়াস উদ্দিন, নুরুল আমিন কাউন্সিলর, বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আবুল হাশেমসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ নেতারা।
বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চাইলে এনামুল হক বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “আমাদের এলাকা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা। জনগণই তাঁকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বানিয়েছেন। তাই বৈধ কোনো কাজ প্রশাসন না করলে, সে প্রেক্ষাপটেই আমি এ ধরনের কথা বলেছি।”
উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচনের আগে এক বক্তব্যে তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছিলেন, “কিছুদিনের জন্য আমাদের লোভ সামলাতে হবে। আমরা কিছুদিন দখলবাজি, চাঁদাবাজি, বালুমহাল দখল করব না।”
এ প্রসঙ্গে এনামুল হক বলেন, “আমি শুধু কিছুদিনের জন্য নয়, সারাজীবনের জন্য চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে ছিলাম, আছি এবং থাকব।”







