ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে হোটেল রিসোর্ট গুলোতে ৯০ শতাংশ অগ্রিম বুকিং

ঈদুল ফিতরেট চাঁদ দেখা গেলেই মুসলিম ধর্মীয়লম্বীদের পবিত্র ঈদুল ফিতর । পবিত্র ঈদুল ফিতর ও সরকারি ছুটিতে বান্দরবানে আগাম হোটেল ও রিসোর্টে বুকিংয়ের হিড়িক পড়েছে।
মূলত আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ অধিকাংশ হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট ৯০-১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা ।
জেলায় পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও হোটেল- মোটেল রিসোর্ট মালিকদের সাথে কথা বলে এতথ্য জানা যায়।
পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বছরজুড়ে কম-বেশি প্রকৃতিপ্রেমী পর্যটকরা ভিড় জমান পাহাড়কন্যা খ্যাত, পাহাড়ের রাজ্যে অপরূপা বান্দরবানে। বিশেষ ছুটির দিন, শীত মৌসুম ও ঈদের ছুটিতে তা বাড়ে কয়েকগুণ। গত কয়েক বছর জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কারণে পর্যটক সমাগম কমে গিয়েছিল। তবে বর্তমানে সব পর্যটনকেন্দ্র ভ্রমণে কোনো প্রকার বিধিনিষেধ না থাকায় জেলায় পর্যটকের সমাগম বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে ভ্রমণে এসে আবাসন নিশ্চিত করতে আগামী ২৩ ও ২৪ মার্চ বান্দরবান সদরের প্রায় সব হোটেলের ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং করেছেন ভ্রমণ প্রত্যাশীরা। ২১ ও ২২ মার্চের জন্যও ৪০ -৬০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।এছাড়া অবশিষ্ট এই কয়দিনে ঈদ পরবর্তী ২১ থেকে ২৪ মার্চ শতভাগ কক্ষ বুকড হবে বলে প্রত্যাশা করছেন তারা।
হোটেল গার্ডেন সিটি ম্যানেজার মো.জহীরুল ইসলাম আরনান, ঈদ পরবর্তী ২১-২২ মার্চ ৫০ শতাংশ ও ২৩-২৪ মার্চ দুই দিনের ইতি মধ্যে শতভাগ রুম আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
শহরে বাস্টেশন এলকায় তিন তারকা মানের আবাসিক হোটেল হিল ভিউর ম্যানেজার তামজিদুল হায়দার বলেন, তাদের হোটেলে আগামী ২১-২২ মার্চ ৬০ শতাংশ এবং ২৩ -২৪ মার্চের জন্য ৯০শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালী’র ম্যানেজার সুমন বলেন, তাদের হোটেলে ২১-২২ মার্চ বুকিয়ের সংখ্যা কম থাকলেও ২৩ ও২৪ মার্চের জন্য ৯০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
হোটেল স্কাই ব্লুয়ের ম্যানেজার আব্দুলাহ আল মামুন তাদের হোটেলেও ২১ ও ২২ মার্চ আগাম বুকিং কিছুটা কম হলেও ২৩ -২৪ মার্চের জন্য ৯০শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে।
লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি দেলোয়ার হোসেন রফিক বলেন, তাদের কাছে ৫২ টি রিসোর্টের মধ্যে ভালো মানের যেগুলো রয়েছে ঈদুল ফিতরের ছুটি উপলক্ষে সেসব রিসোর্ট গুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং নিয়ে রেখেছে ভ্রমণ প্রত্যাশী পর্যটকেরা।
বান্দরবান হোটেল রিসোর্ট ওনার্স আ্যাসোসিয়েশন এর সাধারণ সম্পাদক মো. জসীম উদ্দিন জানান, ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা ছুটির কারণে পর্যটকদের ভালো সাড়া পাচ্ছেন। এরইমধ্যে ২৩-২৪ মার্চ জেলার অধিকাংশ কটেজ, রিসোর্ট ও আবাসিক হোটেলগুলোতে ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়ে গেছে। বাকি দিনগুলোতে অন্যগুলিও শতভাগ বুকিং পাবেন বলে প্রত্যাশা করছেন তিনি। এছাড়া পর্যটকদের সার্বিক সেবা নিশ্চিত করতে হোটেল মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ট্যুরিস্ট পুলিশ বান্দরবান রিজিয়ন এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.পারভেজ আলী জানান ট্যুরিস্ট পুলিশের কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক বান্দরবানের সকল পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও নজরদারী থাকবে। ঈদুল ফিতরের ছুটিতে বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নির্বিগ্নে নিরাপদে ভ্রমণ করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জেলা প্রশাসক শামীম আরা রিনি জানান, পর্যটন সংশ্লিষ্ট সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় গাড়ি ভাড়া অতিরিক্ত না নেওয়া, হোটেল ও রেস্টুরেন্টে খাবারের মান বজায় রাখা এবং আবাসিক হোটেলে রুম ভাড়া সহনীয় রাখার বিষয়ে সবাই একমত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত থাকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পর্যটন স্পটগুলোতে নিয়মিত পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।জেলা প্রশাসক আশা প্রকাশ করেন, বান্দরবানে আগত পর্যটকরা নিরাপদ ও নির্বিঘ্নে ভ্রমণ উপভোগ করতে পারবেন।









