ইসলামি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বান্দরবানে মানববন্ধন
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

ইসলামি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বান্দরবানে মানববন্ধন

ইসলামি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে বান্দরবানে মানববন্ধন
ছবি: দৈনিক সাঙ্গু

ইসলামি ব্যাংকের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অবৈধ ও অনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং দেশের ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের অপচেষ্টার অভিযোগ তুলে বান্দরবানে মানববন্ধন করেছে 'ইসলামি ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম' নামের একটি সংগঠন।

রবিবার (২৪ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় বান্দরবান প্রেস ক্লাব সংলগ্ন মুক্তমঞ্চে আয়োজিত এ মানববন্ধনে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা গ্রাহকেরা অংশ নেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের হাতে বিভিন্ন দাবি-সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল— “ইসলামি ব্যাংক দখলের পাঁয়তারা বন্ধ কর”, “আর্থিক প্রতিষ্ঠান দলীয়করণ মানি না, মানব না”, “ব্যাংক লুটেরা এস আলম ও তার দোসরদের পুনর্বাসন বন্ধ কর” এবং “ইসলামি ব্যাংকের এমডি ওমর ফারুক খানকে পদত্যাগ করানো চলবে না” ইত্যাদি।

ইসলামি ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের উদ্যোগে আয়োজিত এ মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বান্দরবানের বিশিষ্ট ব্যক্তি কাজী নুরুল আমিন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও ব্যাংকের গ্রাহক নুরুল আলম সওদাগর, মো. রিয়াজ উদ্দিন, গোলাম ফারুক, নুরে আলম সিদ্দিকী, খোরশেদ আলম, নজরুল ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার গ্রাহকেরা।

মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে কাজী নুরুল আমিন বলেন, “বর্তমানে দেশে নতুন করে ব্যাংকিং খাত ধ্বংসের অপতৎপরতা শুরু হয়েছে। ইসলামি ব্যাংককে দুর্বল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিগত সরকারের আমলে কুখ্যাত ব্যাংক লুটেরা এস আলমের মাধ্যমে ইসলামি ব্যাংককে ধ্বংসের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, এখনো সেই অপচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”

তিনি অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল ইসলামি ব্যাংকের স্থিতিশীলতা নষ্ট করে গ্রাহকদের আমানত ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চায়। এ সময় তিনি ইসলামি ব্যাংকের বিরুদ্ধে সব ধরনের ষড়যন্ত্র বন্ধের আহ্বান জানান।

বক্তারা আরও বলেন, ব্যাংকের দৈনন্দিন কার্যক্রমে দৃশ্যমান উন্নতি না হওয়া এবং ব্যাংকের পরিবেশ নষ্ট হওয়ার জন্য বর্তমান চেয়ারম্যান ওবাইদুর রহমান এবং এমডি কামাল উদ্দিন জসিম দায়ী। একই সঙ্গে গ্রাহকদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বর্তমান এমডি মো. ওমর ফারুক খানকে স্বপদে বহাল রাখা এবং তাকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়ার অপচেষ্টা বন্ধের দাবি জানান তারা।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা ইসলামি ব্যাংকের সুশাসন, স্থিতিশীলতা ও গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।

 




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”