আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৮ অপরাহ্ন

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির আরও অভিযোগ, অনুসন্ধানে দুদক
ছবি সংগৃহীত।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ঢাকা দুই সিটি করপোরেশনে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য ও অর্থ পাচারসহ নতুন একাধিক দুর্নীতির অভিযোগে পৃথক অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে কমিশন থেকে এ বিষয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলমান রয়েছে। নতুন অভিযোগগুলোর বিষয়েও কমিশন যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে সংযুক্ত করে অনুসন্ধান করা হবে।

এর আগে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনকালে নিয়োগ ও পদোন্নতিতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

নতুন অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর  ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন বাণিজ্য, বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনে টেন্ডার কমিশন গ্রহণ এবং বিদেশে বিপুল অঙ্কের অর্থ পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।

৫ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন দেশে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার ও বিনিয়োগ করেছেন। নিজ দুই বোন জামাই ও ভাগ্নের মাধ্যমে বিদেশে কোটি কোটি টাকা পাচার করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে  দুবাইতে ৪,৫০০ কোটি টাকা পাচার করে সেখানে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং ‘গ্রীন গ্রুপ’-এ মূলধন যোগানোর অভিযোগ রয়েছে।

সিঙ্গাপুরে অবৈধ উপায়ে ৩ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে সম্পদ গড়ে তোলা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত টাকা দিয়ে পর্তুগালে জমি ক্রয় করার বিষয়টি উঠে এসেছে অভিযোগে।

দুদক জানায়, নিয়োগ-পদায়নে কমিশন গ্রহণ ও মেগা প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগের সঙ্গে এই ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের বিষয়টিও সমন্বিতভাবে অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

কমিশন সূত্রে জানা যায়, দুদকে আসা নতুন অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে প্রশাসক নিয়োগে প্রায় ৬০ কোটি টাকা এবং দেশের ৩৬ জন জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদায়নে ২ থেকে ১০ কোটি টাকা করে লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ, নারায়ণগঞ্জ এবং কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প থেকে ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমিশন নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে

প্রকল্পের ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ আত্মসাৎ : স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় বাড়িয়ে হাজার হাজার কোটি টাকা, ঢাকা ওয়াসা’র সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্পের ৩য় ধাপে অস্বাভাবিক ব্যয় বৃদ্ধি এবং শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম প্রকল্পে ১২০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়িয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ।

নিয়োগ, বদলি ও ঘুষ গ্রহণ : যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে কোটি কোটি টাকা লেনদেন, ঢাকা ওয়াসার এমডি হিসেবে আব্দুস সালামকে নিয়োগ দিয়ে ১০ কোটি টাকা উৎকোচ গ্রহণ, এলজিইডির সাবেক চিফ ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুর রশীদ খানকে ৫২ কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণের মাধ্যমে নিয়োগ এবং ৬৫ কোটি টাকার বিনিময়ে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে সিইও হিসেবে আব্দুল লতিফ খানকে নিয়োগ প্রদান করেছিলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বজনপ্রীতি ও নিজস্ব সিন্ডিকেট : গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে তার নিজ উপজেলা মুরাদনগরের জন্য ৪৫৩ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, যার বরাদ্দ ও গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ। তার বাবা বিল্লাল হোসেন ও এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেন ঠিকাদারদের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও স্থানীয় প্রশাসনের উপর প্রভাব খাটিয়ে অর্থ সংগ্রহ করতেন। এছাড়াও, তার পিও মাহফুজুল আলম ভূঁইয়া ঘুষ লেনদেনের তদ্বির ও ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন বলে অভিযোগ আনা হয়েছে।

এছাড়া আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া হেলিকপ্টারে ভ্রমণ করে রাষ্ট্রীয় অর্থ অপচয় করেন। তিনি হোটেল ওয়েস্টিনসহ পাঁচ তারকা হোটেলে নিয়মিত যাতায়াত, বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বসবাস ও গাড়িতে যাতায়াত করছেন।

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ-বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।  অনুসন্ধানে দুদকের উপ-পরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অন্যরা হলেন- যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন ও উপ-সচিব মো. মাসুম আহমেদ।

অভিযোগ অনুসন্ধানে পরের দিন চার ধরনের নথি তলব করে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয় দুদক। চিঠিতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে সম্পাদিত সকল নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকমূলে বদলি সংক্রান্ত নথিপত্র তলব করা হয়।

অভিযোগের বিষয়ে দুদক সূত্রে জানা যায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে হাজার কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বেআইনি কাজ হাসিলে ঘুষ গ্রহণ ও মানিলন্ডারিং সম্পর্কিত অভিযোগ। এ ছাড়া বিদেশে অর্থপাচার এবং বেআইনি বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগও আছে। একইসঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ, স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব নিয়েও দুদকে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন।  

অনুসন্ধানের তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পরপরই দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তার বক্তব্য নিয়ে  প্রতিবাদ জানিয়ে তার মানহানি করা হয়েছে বলে দাবি করেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। শুধু তাই নয় গত ১০ সেপ্টেম্বর দুর্নীতির অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা’ পাওয়ার বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) জনসংযোগ কর্মকর্তা ও উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলামের দেওয়া বক্তব্য প্রত্যাহারে আইনি নোটিশও দেওয়া হয়।

যদিও  গত ৯ সেপ্টেম্বর  দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান তার বিরুদ্ধে আইন-বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান শুরুর কথা জানিয়েছেন।

৯ সেপ্টেম্বর সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদকের অনুসন্ধানকে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি ও ভয় দেখানোর প্রক্রিয়ার অংশ বলে অভিযোগ করেছেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

আসিফ বলেন, আমার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো মিথ্যা এবং এই অনুসন্ধানের উদ্দেশ্য দুর্নীতি খুঁজে বের করা নয় বরং রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করা ও ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ করা। যেসব অভিযোগ মানুষের সামনে আনা হচ্ছে, সবগুলো অভিযোগই মিথ্যা। আমরা মনে করছি, এই অনুসন্ধান আসলে অনুসন্ধান না। এই অনুসন্ধান হচ্ছে রাজনৈতিকভাবে প্রতিপক্ষকে হয়রানি। ফ্যাসিবাদী আমলে যেভাবে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে দমন-পীড়ন করা হয়েছিল, ভয় দেখিয়ে রাখা হয়েছিল, কথাবার্তা থেকে বিরত রাখা হয়েছিল। সেই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তারা আবার যাচ্ছে।




চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার কথা চলছে : বিমানমন্ত্রী

চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার কথা চলছে : বিমানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

বেসামরিক বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেছেন, চীন থেকে দ্রুতগতির বুলেট ট্রেন আনার বিষয়ে কথাবার্তা চলছে। যেগুলো ঘণ্টায় সাড়ে ৩শ কিলোমিটার বেগে চলে। আমাদের স্পিড আরও কম হলেও চলবে।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে শেরপুর জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই কথা বলেন।

বিমানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থানে পালানো সরকার আবার ফিরে এসেছেন সারা পৃথিবীতেই এমন কোনো নজির নেই। কোনো সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী-এমপি ও নেতারা সবাই একসাথে পালিয়েছে এমন নজিরও নেই। এটিই প্রথম নজির।

আওয়ামী লীগের উদ্দেশে বিমানমন্ত্রী বলেন, যারা ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার ফেরা নিয়ে চিন্তা করছেন- এগুলো দুরাশা। বরং তাদের নিজেদের শুদ্ধিকরণের প্রক্রিয়া করা দরকার।

দেশের ময়মনসিংহ ছাড়া ৭ বিভাগে বিমানবন্দর থাকার বিষয়ে বিমানমন্ত্রী বলেন, দেশে ৮টি বিমানবন্দর চলমান রয়েছে। সেগুলোর মধ্যেই কয়েকটি ভঙ্গুর অবস্থায় রয়েছে। সামনে আমাদের অনেকগুলো এয়ারক্রাফট আসছে। ১০ বছরের মধ্যে আমাদের নতুন একটি বিমানবন্দর করতে হবে। সেক্ষেত্রে ময়মনসিংহ বিভাগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

তিনি শেরপুরের পর্যটনের উন্নয়নে ঝিনাইগাতীতে একটি মোটেল নির্মাণ, আকস্মিক পাহাড়ি ঢল থেকে রক্ষা পেতে মহারশি ও সোমেশ্বরী নদীতে বাঁধ নির্মাণসহ জেলার উন্নয়নে নানা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক ফরিদা ইয়াসমিনের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন শেরপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদুল হক রুবেল, শেরপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ফাহিম চৌধুরী, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, পুলিশ সুপার একেএম জহিরুল ইসলাম, জেলা পরিষদ প্রশাসক এবিএম মামুনুর রশিদ পলাশ প্রমুখ।

এসময় জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।  

এর আগে মন্ত্রী সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে পৌঁছালে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান।




আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর

আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
ছবি সংগৃহীত।

দেশে কৃষি ও খাদ্যপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর ওপর জোর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। যেসব কৃষিপণ্য দেশে উৎপাদনের সুযোগ রয়েছে, সেগুলোর উৎপাদন বাড়াতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার জন্য কৃষি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের আহ্বান জানান তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ের নিজ কার্যালয় থেকে হেঁটে কৃষি মন্ত্রণালয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানকার সম্মেলন কক্ষে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। এসময় কৃষি খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, মন্ত্রণালয়ের চলমান কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষিকে আরও উৎপাদনশীল ও লাভজনক করতে হবে।

বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের উপস্থাপিত তথ্যে বলা হয়, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমাতে সরিষার উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে সরিষার উৎপাদন ছিল ৮ দশমিক ২৪ লাখ টন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা বেড়ে ১৫ দশমিক ৩৪ লাখ টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৫ দশমিক ৪১ লাখ টনে দাঁড়িয়েছে।

পেঁয়াজের উৎপাদন ও সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও বৈঠকে তুলে ধরা হয়। কৃষকের পর্যায়ে পেঁয়াজ সংরক্ষণে এয়ার-ফ্লো প্রযুক্তির ব্যবহার এবং গ্রীষ্মকালীন পেঁয়াজের জাত সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি লবণাক্ততা, খরা ও জলাবদ্ধতাসহিষ্ণু নতুন ফসলের জাত মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।

কৃষি গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরে মন্ত্রণালয় জানায়, বিভিন্ন ফসলের মোট ১ হাজার ৯০টি জাত উদ্ভাবিত হয়েছে। এর মধ্যে ধানের জাত ১৫৫টি। এ ছাড়া এক হাজারের বেশি কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবনের তথ্য বৈঠকে উপস্থাপন করা হয়। কৃষি উৎপাদনে শ্রম ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বাড়াতে কৃষিযান্ত্রিকীকরণে আরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা উঠে আসে বৈঠকে। দেশীয় কৃষিযন্ত্র উদ্ভাবন ও উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কম্বাইন হারভেস্টার, রিপার, রাইস ট্রান্সপ্লান্টারসহ বিভিন্ন কৃষিযন্ত্র কৃষকের কাছে সুলভমূল্যে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ রয়েছে।

একই সঙ্গে কৃষিতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণের উদ্যোগও তুলে ধরা হয়। দেশে মোট ২ হাজার ৬১৭টি সৌর সেচব্যবস্থা, নবায়নযোগ্য জ্বালানিনির্ভর সেচ বাড়ানো গেলে কৃষকের সেচব্যয় ও প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব বলে বৈঠকে আলোচনা হয়।

কৃষকদের সরকারি সহায়তা সরাসরি পৌঁছে দিতে কৃষক কার্ড কর্মসূচিও বৈঠকে গুরুত্ব পায়। কৃষি মন্ত্রণালয় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৩ লাখ কৃষককে কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়েছে। প্রথম ধাপে প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার কৃষককে কার্ড দেওয়ার প্রস্তুতির কথাও জানানো হয়েছে।

বৈঠকে কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, সৌর সেচ, খাল খনন, বৃক্ষরোপণ এবং কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বিপণন নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষকের উৎপাদন খরচ কমানো এবং উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে উৎপাদন করা সম্ভব—এমন কৃষি ও খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে আমদানির ওপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমাতে হবে। এ জন্য গবেষণা, উন্নত জাত, আধুনিক প্রযুক্তি, সেচ ও যান্ত্রিকীকরণের সুবিধা দ্রুত কৃষকের কাছে পৌঁছে দিয়ে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধিতে আরও জোর দিতে হবে। 




২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র সফ‌রে যা‌চ্ছেন প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে আগামী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী তা‌রেক রহমান।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবা‌দিক‌দের স‌ঙ্গে আলাপকা‌লে এ তথ‌্য জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে দেশ ছেড়ে যাবেন। তিন সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন এবং বাংলাদেশের নতুন ভিশন ও অগ্রাধিকারের বিষয়গুলো বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন।

তিনি জানান, সফরকালে বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইডলাইন মিটিং অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভিশন তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হবে।

সফরে প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে মা‌র্কিন প্রেসি‌ডেন্ট ডোনাল্ড ট্রা‌ম্পের মি‌টিং বা বৈঠক হ‌বে‌ কি না- জান‌তে চাই‌লে হুমায়ুন ক‌বির ব‌লেন, প্রধানমন্ত্রী সেখা‌নে যাওয়ার প্রাথমিক উদ্দেশ্য হলো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়া। সাইডলাইনে কিছু বৈঠক তো হবেই, এগুলো প্রায় একদম শেষ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত হয়। ডোনাল্ড ট্রা‌ম্প ব‌লে‌ছেন, আমি প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে দেখা করতে চাই। উনি যখন যাবেন, যাদের সঙ্গেই দেখা বা বৈঠক হবে আপনাদের জানানো হবে। এটা কোনো গোপন কিছু হবে না, আপনাদের জানানো হবে।

সফরকালে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বিশেষ সাইডলাইন মিটিং আয়োজনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যুটি গুরুত্ব পাবে।