আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণ , পাহাড় কেটে সাবাড়
কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ ঘুনিয়া পাহাড়তলী মসজিদ সংলগ্ন আশ্রয়ণ প্রকল্পের সরকারি বরাদ্দকৃত জমি দখল করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে পাশের বনভূমির পাহাড় কেটে আনা মাটি দিয়ে নির্মাণাধীন বাড়ির ভরাট কাজ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।
শনিবার (৬ জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দক্ষিণ ঘুনিয়া এলাকায় এহসানের দোকানের সামনে আশ্রয়ণ প্রকল্প সংলগ্ন স্থানে একটি বড় আকারের ভবন নির্মাণের কাজ চলছে। স্থানীয়দের দাবি, জয়নাল আবেদীন নামের এক ব্যক্তি সরকারি খাস জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সংরক্ষিত জায়গা দখল করে ওই ভবন নির্মাণ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ১ নম্বর খতিয়ানের ১৬৭২ দাগভুক্ত জমিতে প্রায় ২০টি পরিবারকে নিয়ে একটি আশ্রয়ণ প্রকল্প গড়ে তোলা হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির অস্তিত্ব নামমাত্র থাকলেও উপকারভোগীদের জন্য সংরক্ষিত জায়গার একটি অংশে ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণাধীন ভবনের ভরাট কাজে পাশের বন বিভাগের পাহাড় কেটে আনা মাটি ব্যবহার করা হয়েছে। এতে পরিবেশ ও বনভূমির ক্ষতি হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
এ ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা উপজেলা ভূমি অফিসে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন। অভিযোগকারীদের মধ্যে রয়েছেন আবু তালেব, মমতাজ বেগম, লায়লা বেগম ও বদিউল আলম। তারা দাবি করেন, বিএস ১৬৭২ দাগভুক্ত প্রায় ৮ শতক জমি জোরপূর্বক দখল করে ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে এবং জমির মালিকানা সংক্রান্ত বৈধ কাগজপত্র দেখাতে অভিযুক্ত ব্যক্তি ব্যর্থ হয়েছেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, জমি নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অভিযোগকারীদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে জমি পরিমাপ করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণ এবং সরকারি ও সংরক্ষিত জমি উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমিতে স্থাপনা নির্মাণ এবং পাহাড় কেটে মাটি ভরাটের মতো কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে কেন আসেনি।
অভিযুক্ত জয়নাল আবেদীন বলেন, যদি সরকারি জায়গা হয় তাহলে সরকারকে নিয়ে যেতে বলেন।
ফাঁসিয়াখালী বনবিট কর্মকর্তা(ডেপুটি রেঞ্জার) খসরুল আমিন বলেন, পাহাড় কাটার বিষয়ে ইতিমধ্যে মামলা হয়েছে, নিয়মিত তদারকি
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুপায়ন দেব বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সরকারি জমি ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সংরক্ষিত জায়গা উদ্ধার করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।







