আলীকদমে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত সৎ নানা
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৮ অপরাহ্ন

আলীকদমে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত সৎ নানা

আলীকদমে ৮ বছরের শিশু ধর্ষণ, অভিযুক্ত সৎ নানা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদমে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ করার অভিযোগ উঠেছে তার সৎ নানার বিরুদ্ধে। অভিযোগ জানার পর অভিযুক্তকে লোহার পাইপ দিয়ে আঘাত করেন শিশুটির বাবা। এতে অভিযুক্ত আহত হলে পরে তাকে ও শিশুটিকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকেই ঘটনাটি পুলিশের নজরে আসে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে ২টার মধ্যে উপজেলার নয়াপাড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মংচাপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযুক্ত সৎ নানা মোস্তাক আহম্মদ (৫৫)।

স্থানীয় সূত্র ও পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, শিশুটি ও অভিযুক্ত একই এলাকার বাসিন্দা এবং তাদের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। শুক্রবার দুপুরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেওয়ার পর সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছে শিশুটি। বিষয়টি কাউকে না বলার জন্য পরে শিশুটিকে ১০০ টাকা দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

শিশুটির বাবা জানান, শনিবার সকালে মেয়ের কাছে ১০০ টাকার একটি নোট দেখতে পান তিনি। টাকা কোথা থেকে পেয়েছে জানতে চাইলে একপর্যায়ে শিশুটি তাকে আগের দিনের ঘটনা জানায়। বিষয়টি জানার পর ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে লোহার পাইপ দিয়ে তার ডান হাতে আঘাত করেন। এতে অভিযুক্তের হাত ভেঙে গুরুতর আহত হন বলে জানা গেছে।

পরে স্বজনরা শিশুটি ও অভিযুক্তকে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে বিষয়টি পুলিশের নজরে আসে। খবর পেয়ে আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ পারভেজের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে ঘটনার বিষয়ে প্রাথমিক অনুসন্ধান শুরু করে।

আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন, শিশুটির প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক পরীক্ষার প্রতিবেদন পুলিশের কাছে পাঠানো হয়েছে।

আলীকদম থানার ওসি শাহেদ পারভেজ বলেন, অভিযোগটি প্রাথমিকভাবে অনুসন্ধান করে দেখা হচ্ছে। শিশুটির চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।




লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি

লাংলোক ঝর্ণায় অসুস্থ পর্যটক, জীবন বাঁচাতে ছুটে গেল বিজিবি
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচিতে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে গিয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়া এক পর্যটককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মিরপুর থেকে ছয় সদস্যের একটি পর্যটক দল থানচি উপজেলার বাঘের লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় ভ্রমণে যায়। ভ্রমণের একপর্যায়ে দলের সদস্য নাফিস মাশরুর ইসলাম (নজরুল ইসলাম), ঠিকানা পূর্ব সেনপাড়া পর্বতা দক্ষিণ, মিরপুর, ঢাকা—হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। দুর্গম ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায় এলাকায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিজিবির সহায়তা চাওয়া হয়।

পরিবারের অনুরোধের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে বলিপাড়া ব্যাটালিয়ন (৩৮ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ইয়াসির আরাফাত হোসেন, বিপিএমএস, পদাতিকের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে দ্রুত উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় টেন্ডুমুখ বিজিবি ক্যাম্প থেকে একটি বিশেষ টহল দল দুটি নৌকাযোগে দুর্গম লাংলোক ঝর্ণা এলাকায় পৌঁছে অসুস্থ পর্যটকসহ তার সঙ্গীদের উদ্ধার করে। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলেই অসুস্থ পর্যটককে প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা ও জরুরি সহায়তা দেন।

পরবর্তীতে অসুস্থ পর্যটকসহ দলের অন্য সদস্যদের নৌকাযোগে নিরাপদে থানচি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।

দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় বিপদগ্রস্ত পর্যটকের জীবন রক্ষায় দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার ঘটনায় বিজিবির মানবিক ও জনসেবামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজিবি জানায়, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে স্থানীয় জনগণ ও পর্যটকদের জরুরি প্রয়োজনে মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে তারা। পর্যটকদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।




বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান

বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ ব্যবসায়ীকে পার্বত্য জেলা পরিষদের ঢেউটিন ও নগদ অর্থ প্রদান
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মাঝে বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বলিবাজার ভেজিটেবল শেড প্রাঙ্গণে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মাউসেটুন তঞ্চঙ্গ্যা, চনুমং মারমা, মো. জসিম উদ্দিন তুষার, লুসাইমং মারমা প্রমুখ।

এ সময় অগ্নিকাণ্ডে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত ১০ জন এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৪ জনসহ মোট ১৪ জন ব্যবসায়ীর মাঝে এই ঢেউটিন ও নগদ অর্থ বিতরণ করা হয়।

বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানো এবং তাদের ক্ষতি কাটিয়ে উঠে পুনরায় ব্যবসা শুরু করতে সহযোগিতা করা জরুরি। এ ধরনের সহায়তা ক্ষতিগ্রস্তদের ঘুরে দাঁড়াতে কিছুটা হলেও সাহায্য করবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বলিপাড়া বাজারে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বেশ কয়েকটি দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ব্যবসায়ীরা মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন ও স্বাভাবিক ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ফিরিয়ে আনতেই জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হলো।




থানচির বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন এমপি

থানচির বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে পার্বত্য প্রতিমন্ত্রী হেলাল উদ্দিন এমপি
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের থানচি উপজেলার বলিপাড়া ইউনিয়নের বলিবাজারে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪ জনের মাঝে ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন এমপির পক্ষ থেকে ত্রাণ ও গৃহস্থালি বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বলিবাজারে শাকসবজি বিক্রয় কেন্দ্র প্রাঙ্গণে বলিপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির আয়োজনে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন বান্দরবান জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. জাবেদ রেজা।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মাউসেটুন তংচংগ্যা, চনুমং মারমা, মো. জসিম উদ্দিন তুষার, লুসাইমং মারমা এবং বলিপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াঅং মারমা।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত ১৪টি পরিবারের প্রত্যেকের মাঝে দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় গৃহস্থালি বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ করা হয়। এ সময় প্রধান অতিথি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের খোঁজখবর নেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বলেন, অগ্নিকাণ্ডের মতো আকস্মিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো মুহূর্তেই ঘরবাড়ি ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। এমন সংকটময় সময়ে তাদের পাশে দাঁড়ানো শুধু সহায়তা নয়, মানবিক দায়বদ্ধতার অংশ। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো যাতে দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে, সে জন্য সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেন তিনি।

স্থানীয়রা জানান, অগ্নিকাণ্ডের পর ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে। ঘরবাড়ির পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী হারিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এ অবস্থায় গৃহস্থালি সামগ্রী সহায়তা পাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দৈনন্দিন জীবনে কিছুটা স্বস্তি ফিরবে বলে আশা করছেন তারা।

ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা, উপজেলা ও স্থানীয় বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।