আলীকদমে বন্যাদুর্গত পরিবারের পাশে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন

সাম্প্রতিক টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে ক্ষতিগ্রস্ত বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫০০টি পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী ও জরুরি ত্রাণ বিতরণ করা হয়েছে।
সম্প্রতি আয়োজিত এ মানবিক কর্মসূচিতে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায়, নিম্নআয়ের ও কর্মহীন হয়ে পড়া পরিবারের হাতে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল, আলু, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়।শুক্রবার (১৭জুলাই)সকাল থেকে ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবকরা সুশৃঙ্খলভাবে উপকারভোগীদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সমাজসেবক ও ফাউন্ডেশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এলাকাবাসীর মতে, আলীকদম সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবং মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ মিয়া দীর্ঘদিন ধরে ব্যক্তিগত ও ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে অসহায়, দরিদ্র ও দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। বন্যা, শীত, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে খাদ্য সহায়তা, আর্থিক সহযোগিতা এবং সামাজিক কল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তিনি স্থানীয় মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. ইউনুছ মিয়া বলেন, “সাম্প্রতিক বন্যায় আলীকদমের বহু পরিবার বসতঘর, ফসল ও জীবিকার উৎস হারিয়ে চরম দুর্যোগে পড়েছে। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করার লক্ষ্যেই আমাদের এই উদ্যোগ। মরহুম আলহাজ্ব খুইল্লা মিয়া চেয়ারম্যান আজীবন মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। তাঁর আদর্শ ও মানবসেবার চেতনাকে ধারণ করেই আমরা অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।”
তিনি আরও বলেন, “মানবিক সংকট মোকাবিলায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, সমাজের সকল বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। ভবিষ্যতেও যেকোনো দুর্যোগে আলীকদমের মানুষের পাশে থেকে মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে, ইনশাআল্লাহ।”
ত্রাণসামগ্রী পেয়ে উপকারভোগীরা ফাউন্ডেশনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা জানান, বন্যার কারণে অনেক পরিবার এখনও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। এমন সময়ে খাদ্যসামগ্রীর এই সহায়তা তাদের পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমকে আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, দরিদ্র জনগোষ্ঠীর কল্যাণ এবং সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমও ভবিষ্যতে ধারাবাহিকভাবে পরিচালনা করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সরকারি সহায়তার পাশাপাশি ব্যক্তি ও সামাজিক উদ্যোগে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তারা সমাজের অন্যান্য বিত্তবান ব্যক্তি ও সংগঠনকেও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।









