আলীকদমে বন্যাকবলিতদের পাশে ৫৭ বিজিবি:বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ত্রাণ বিতরণ
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৬ পূর্বাহ্ন

আলীকদমে বন্যাকবলিতদের পাশে ৫৭ বিজিবি:বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ত্রাণ বিতরণ

আলীকদমে বন্যাকবলিতদের পাশে ৫৭ বিজিবি:বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ত্রাণ বিতরণ
ছবি সংগৃহীত।

সাম্প্রতিক ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতিতে বান্দরবানের আলীকদম ও লামা উপজেলার দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। 'অপারেশন উত্তরণ'-এর আওতায় এবং আলীকদম ব্যাটালিয়নের (৫৭ বিজিবি) সার্বিক ব্যবস্থাপনায় বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ওষুধ সামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ এর কক্সবাজার রিজিয়নের, বান্দরবান সেক্টরের অধীনস্থ আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) সদা জাগ্রত অতন্দ্র প্রহরী থেকে সীমান্ত নিরাপত্তায় বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অতি দুর্গম বাংলাদেশ-মায়ানমার সীমান্তের দায়িত্ব পালন করছে। আলীকদম ব্যাটালিয়ন অত্যন্ত পেশাদারিত্বের সাথে সীমান্ত সুরক্ষা ছাড়াও চোরাচালান, মাদকদ্রব্য, অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং আন্তঃ রাষ্ট্রীয় সীমান্ত অপরাধ দমনের পাশাপাশি "অপারেশন উত্তরণ" এর আওতায় দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় নৃ-গোষ্ঠী সম্প্রদায় এবং অসহায় বাঙালীদের মাঝে বিভিন্ন সময়ে মানবিক ও জনকল্যানমূলক কাজের অংশ হিসেবে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান, ব্রান সামগ্রী বিতরণ, আর্থিক অনুদান, খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ, কম্বল বিতরণসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দূর্যোগে বন্যাদূর্গত পরিবারকে সাহায্য-সহযোগীতা প্রদান করে আসছে।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ভারী বর্ষণ এবং পাহাড়ী ঢলে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমি ধ্বস পরিস্থিতি উপলক্ষে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আলীকদম ও লামা উপজেলায় বন্যা কবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইন পরিচালনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এ প্রেক্ষিতে শনিবার(১৮ জুলাই)আলীকদম ব্যাটালিয়নের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দিক-নির্দেশনায় ব্যাটালিয়নের মেডিকেল অফিসার মেজর মোঃ জহিরুল ইসলাম, এমএইচপি, এএমসি এর নেতৃত্বে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের দূর্গম জমিরামপাড়া ও ক্রিলাইপাড়া এলাকার বন্যা দূর্গত মানুষের জন্য বিজিবি ক্রিলাইপাড়া চেকপোষ্ট কর্তৃক মেডিক্যাল ক্যাম্পেইন আয়োজন করা হয়। উক্ত ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে বন্যা দূর্গত পরিবার এবং চিকিৎসা বঞ্চিত নৃ-গোষ্ঠী জনসাধারণের নারী, পুরুষ ও শিশুদেরকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা, ঔষধ সামগ্রী এবং পরামর্শ প্রদান করা হয়। এছাড়া, এ উপলক্ষে অধীনস্থ বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় বসবাসরত জনসাধারণকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হচ্ছে।

সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি দূর্গম পাহাড়ী এলাকার এ সকল বন্যা দূর্গত পরিবার এবং নিম্ন আয়ের জনসাধারণের যে কোন দূর্যোগে সহযোগিতায় একমাত্র ভরসার প্রতীক হিসেবে "বর্ডার গার্ড বাংলাদে" তথা আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) সর্বদা পাশে রয়েছে এবং দৃঢ়তার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

এ সময় ক্রিলাইপাড়া চেকপোস্টে কর্মরত বিভিন্ন পদবীর বিজিবি সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ভবিষ্যতেও যে কোন প্রাকৃতিক দূর্যোগে আলীকদম ব্যাটালিয়ন (৫৭ বিজিবি) এর এ সকল মানবিক এবং জনকল্যানমূলক কর্মকান্ডের ধারা অব্যহত থাকবে।




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”