আলীকদমে পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:২৭ পূর্বাহ্ন

আলীকদমে পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম

আলীকদমে পাহাড় কেটে অবৈধ ইটভাটা, ঝুঁকিপূর্ণ কাজে শিশুশ্রম
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় পাহাড় কেটে, বনজ গাছ পুড়িয়ে এবং শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি বনাঞ্চলে এসব পরিবেশবিধ্বংসী কার্যক্রম চলছে।

উপজেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তর জানিয়েছে, সরকারের কোনো অনুমোদন ছাড়াই গহিন পাহাড়ি এলাকায় এসব ইটভাটা গড়ে তোলা হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, আলীকদম-থানচি সড়কের পাশে উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ থেকে ৬ কিলোমিটার দূরে পাহাড় কেটে তৈরি করা হয়েছে কয়েকটি ইটভাটা। সেখানে ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী অন্তত ৯ থেকে ১০ জন শিশুকে ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োজিত থাকতে দেখা গেছে। কেউ কাঁচা ইট তৈরি করছে, কেউ ইট বহন করছে, আবার কেউ চুল্লির কাজে ব্যস্ত।

ভাটার পাশে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের জন্য বিপুল পরিমাণ বনজ গাছ মজুত রাখা হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব গাছ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে।

ইটভাটায় কাজ করা ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ হৃদয় জানায়, তার বাড়ি নোয়াখালীর আমিন বাজার এলাকায়। সাত মাস আগেও সে স্কুলে পড়ত। এখন অভাবের সংসারে হাল ধরতে ইটভাটায় কাজ করছে। হৃদয় বলে, "আগে স্কুলে যেতাম। এখন এই কাজই করতে হয়।"

আরেক শিশুশ্রমিক দেলোয়ার হোসেন জানায়, সেও কয়েক বছর আগে স্কুল ছেড়ে ইটভাটায় কাজ শুরু করে। তার ভাষায়, "পড়াশোনা করতে ইচ্ছা করে, কিন্তু পরিবারের ভরণপোষণ চালানো সম্ভব হচ্ছে না; এখন কাজ ছাড়া উপায় নেই।"

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, “ইউবিএম” নামে একটি ইটভাটা পরিচালনা করছেন আলীকদম উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন। আর “এফবিএম” ভাটাটি পরিচালনা করছেন রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামী লীগ নেতা শওকত তালুকদার।

বর্তমানে মালিকরা আত্মগোপনে থাকায় ম্যানেজারদের মাধ্যমে ভাটাগুলো পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।

ইউবিএম ভাটার ম্যানেজার মোহাম্মদ হোসেন বলেন, "মালিকের নির্দেশনা অনুযায়ী ভাটা পরিচালনা করছি। ভাটাটি বৈধ নাকি অবৈধ, সেটি মালিক জানেন।"

এফবিএম ভাটার ম্যানেজার মো. খালেদও একই ধরনের বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, "সবকিছু মালিকের নেতৃত্বে চলে।"

তবে আত্মগোপনে থাকা ইটভাটা মালিকদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। একাধিকবার কল করলেও তাঁদের ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।

জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক নূর হাসান সজীব বলেন, "বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায় থাকা সব ইটভাটাই অবৈধ। পাহাড় কাটা, বনজ গাছ পোড়ানো এবং শিশুশ্রম—সবই আইন লঙ্ঘনের শামিল।" তিনি জানান, এর আগেও কয়েকবার এসব অবৈধ ইটভাটায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আবারও খুব শিগগিরই অবৈধ ইটভাটা ও শিশুশ্রম বন্ধে অভিযান চালানো হবে।

লামা বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, "ইটভাটাগুলোতে যে কাঠ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো প্রাকৃতিক বনের গাছ হলেও তা বন বিভাগের নিয়ন্ত্রিত এলাকার নয়। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাসজমি থেকে গাছ কেটে এসব কাঠ সংগ্রহ করা হয়েছে। অবৈধভাবে কাঠ ব্যবহারের অভিযোগে এর আগেও একাধিকবার অভিযান পরিচালনা করেছে বন বিভাগ।"

আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুরুর আলম বলেন, "এসব ইটভাটার কোনো সরকারি অনুমোদন নেই। আগেও অভিযান চালিয়ে জরিমানা করা হয়েছে।" তিনি আরও বলেন, "শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে—এই তথ্য আগে জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"




কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল

কচ্ছপিয়ায় ডাকাতি: কৃষককে মারধর করে টাকা-স্বর্ণ লুট, গুলি ফুটিয়ে পালিয়েছে ডাকাত দল
ছবি সংগৃহীত।

কক্সবাজারের রামুর কচ্ছপিয়ায় এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ডাকাত দলের রড ও দা'র উল্টো পিঠের আঘাতে আহত হন কৃষক মো. ইসমাঈল (৩৫) ও তাঁর স্ত্রী।

বুধবার (২২ জুলাই) গভীর রাত আড়াইটার দিকে উপজেলার কচ্ছপিয়া ইউনিয়নের শহরআলীর চর গ্রামের মোহাম্মদ ইসমাইলের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ৭-৮ জন ডাকাত অংশ নেয়।

তারা কৃষক ইসমাঈলের বাড়ির দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ১৫ হাজার টাকা ও স্বর্ণালংকার লুট করে। এমনকি কৃষককে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাঁর কোলের শিশুকে বিছানায় শুইয়ে জবাই করতেও উদ্যত হয় ডাকাত দল। ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে কৃষক ইসমাঈল এ প্রতিবেদকের কাছে অকপটে এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, বাড়ির সবকিছু লুট করে চলে যাওয়ার সময় ডাকাতদল তাঁর বাড়ি থেকে ৩০ ফুট দূরে গিয়ে পরপর দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়।

ইসমাইল আক্ষেপ করে বলেন, তাঁদের এলাকায় পুলিশ কখনো টহল দেয় না। যদি মাঝে মাঝে পুলিশি টহল থাকত, তবে ডাকাত দল অস্ত্র নিয়ে তাঁর বাড়িতে ডাকাতি করার সাহস পেত না। তিনি এখন নিঃস্ব।

বর্তমানে এই ইউনিয়নের শহরআলীর চর, নাপিতের চর, ডেইংগার চর, ডাকভাঙ্গা ও আশপাশের মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে।




লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা

লামায় বোনের পালিয়ে বিয়ের ক্ষোভে ভাইয়ের আত্মহত্যা
ছবি সংগৃহীত।

বান্দরবানের লামা উপজেলায় বোনের পালিয়ে বিয়ের খবর সহ্য করতে না পেরে মো. হাসান (২৫) নামের এক যুবক গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। মঙ্গলবার (২২ জুলাই) দিবাগত রাত ১২টার দিকে লামা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চেয়ারম্যান পাড়াস্থিত একটি ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মো. হাসান পটিয়া থানার কোলাগাঁও টেক (চর কানাই, ছবুর মার্কেট) এলাকার মনো মিয়ার ছেলে এবং মো. সোলাইমানের পালক পুত্র। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিবারের সাথে লামা পৌরসভার চেয়ারম্যান পাড়ার আনোয়ারা বেগমের বাড়িতে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত হাসানের ছোট বোন মেহেরুন্নেসা (২০) পরিবারের অজান্তে স্থানীয় সাকিব নামের এক যুবকের সাথে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন। ছোট বোনের এমন কাণ্ড মেনে নিতে না পেরে তীব্র ক্ষোভ ও অভিমানে হাসান নিজ বসতঘরের বাঁশের আড়ার সাথে ওড়না পেঁচিয়ে গলায় ফাঁস দেন।

খবর পেয়ে লামা থানা-পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল কবির সঙ্গীয় ফোর্সসহ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পুলিশ মরহুমের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বান্দরবান সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এ বিষয়ে লামা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কায়ছার হামিদ জানান, “খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। ঘটনার বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”




নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২
ছবি সংগৃহীত।

নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিপুল পরিমাণ টাকাসহ ২ চোরাকারবারিকে আটক করেছে বিজিবি। এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি থানায় মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সন্ধ্যায় সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন থানার অফিসার ইনচার্জ মো. মোজাম্মেল হক।

বিজিবি সূত্র জানায়, সোমবার বিকেলে আটকের পর তাদেরকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সীমান্ত এলাকা থেকে টাকাসহ আটক ২ জনকে থানায় সোপর্দ করা হয়।

আটক ব্যক্তিরা হলেন— ছুরত আলম (৩২) ও আমানুল্লাহ (৪০)। তাঁদের কাছ থেকে ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।

সূত্র আরও জানায়, আটক ব্যক্তিদের সীমান্তের ৫০ নম্বর পিলার এলাকা থেকে আটক করেছে ১১ বিজিবির আওতাধীন লেবুছড়ি বিওপির জওয়ানেরা।

১১ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. ফয়জুল কবির বলেন, “বিজিবি সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড বিজিবি কঠোর হস্তে দমন করবে। এতে ছাড় দেওয়া হবে না।”