আমরা নতজানু রাষ্ট্র পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৪২ অপরাহ্ন

আমরা নতজানু রাষ্ট্র পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আমরা নতজানু রাষ্ট্র পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘শুরু থেকে আমাদের সরকারের পররাষ্ট্রনীতির সবচেয়ে বড় দিকটি হচ্ছে সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সেই ক্লায়েন্ট স্টেট (নতজানু রাষ্ট্র) পর্যায়ে আর কখনো ফিরে যাবো না, কখনোই না। এই কাজটা আমাদের জন্য একটি বড় দায়িত্ব।’

বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’-এর অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খলিলুর রহমান বলেন, 'জুলাই সংগ্রামের যে সাফল্য, সেই সাফল্যের একটি ভার আমাদের ওপর আছে এবং সেটা আমাদের বহন করতে হবে।'

‘প্রধানমন্ত্রী যে কথা আজ বললেন, ওই যে ক্লায়েন্ট স্টেট, ওই অবস্থায় যেন আমরা কখনো ফিরে না যাই। আর এ জন্য আমরা ফ্রন্টলাইনার। জুলাইয়ের যে কাজ (উদ্দেশ্য), সেটা আগামী দিনগুলোতে এগিয়ে নেওয়ার যে দায়িত্ব আমাদের, সেটা আপনারা কেউ ভুলবেন না; প্রতিনিয়ত মনে রাখবেন।’

তিনি বলেন, 'আমাকে যখন প্রফেসর ইউনূস বললেন, তার সরকারে যোগ দিতে, আমি যোগ দেওয়ার দিন তার সঙ্গে দেখা করিনি। আমি গিয়েছি হাসপাতালে এই আহতদের দেখতে। ফিরে এসে তাঁকে বলেছি, স্যার, আমরা যেন কখনো না ভুলে যাই যে আমরা কী অবস্থায়, তাঁদের রক্তের ওপর হেঁটে এসে এখানে বসেছি।’

তিনি বলেন, ‘কিছুদিন আগে আমাকে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বললেন, বাংলাদেশ একসময় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডল থেকে হারিয়ে যাচ্ছিল। সেই বাংলাদেশ আবার আসছে দেখে আমরা খুব আনন্দিত। যখন এই কথাগুলো আমরা শুনি, তখন আসলে বুঝতে পারি যে, আজ আমাদের প্রধানমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধনে বলেছিলেন, “জুলাই আন্দোলনের একটি বড় বিষয় হচ্ছে, আমরা বাংলাদেশকে একটি ক্লায়েন্ট স্টেট হিসেবে দেখতে চাই না।” তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে কথাটি বললেন, সেটি সেই একই কথার প্রতিধ্বনি।’

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের এই ছেলেমেয়েগুলো, দুরন্ত ছেলেমেয়েগুলো, প্রবল এক লড়াইয়ে একটি ভয়াবহ দানবের হাত থেকে দেশটাকে ছিনিয়ে এনেছে। এনে আমাদের হাতে দিয়েছে। এই দেশটাকে যেন আমরা আমাদের মায়া দিয়ে, ভালোবাসা দিয়ে, কাজ দিয়ে, ডেডিকেশন দিয়ে, মেধা দিয়ে এবং প্রজ্ঞা দিয়ে আগলে রাখতে পারি, এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি। এ বিষয়ে আমাদের ফরেন সার্ভিসের যে দায়িত্ব, সেটা আমরা কখনো ভুলবো না। আপনারা প্রতিটি মুহূর্তে এ কথাটি মনে রাখবেন, শহীদরা আমাদের হাতে একটি বড় দায়িত্বভার দিয়ে গেছেন।’




সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি

সৌদিতে সোফা কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ জনই বাংলাদেশি
ছবি সংগৃহীত।

সৌদি আরবের রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের কাউন্সেলর (শ্রম) মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানিয়েছেন, মৃত ব্যক্তিদের সবাই বাংলাদেশি।

রোববার (৯ আগস্ট) দিবাগত রাতে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

মোহাম্মদ রেজায়ে রাব্বী জানান, রোববার দুপুর আনুমানিক ২টায় রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ঘটনাস্থলে ১৬ জন মারা গেছেন বলে সেখানে কর্মরত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকর্মীরা নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন নিহতদের সবাই বাংলাদেশি। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস এখনো উদ্ধারকাজ পরিচালনা করছে। অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে যাওয়ায় মৃতদেহগুলো শনাক্ত করা দুরূহ হয়ে পড়েছে।

এ ঘটনায় রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাস গভীর শোক জানিয়েছে। এছাড়া দূতাবাসের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে মৃত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় শনাক্তকরণে স্থানীয় সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।

এর আগে, রোববার রাতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এক শোকবার্তায় জানায়, সৌদি আরবের একটি সোফা কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রবাসী বাংলাদেশি শ্রমিকদের মর্মান্তিক মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।

শোকবার্তায় মন্ত্রী বলেন, জীবিকার তাগিদে সুদূর সৌদি আরবে কর্মরত আমাদের এই প্রবাসী ভাইদের এমন অকাল ও মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। দেশের অর্থনীতিতে তাদের অবদান অপরিসীম। তাদের এই আকস্মিক প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করছি।

তিনি জানান, সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহত প্রবাসী ভাইদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রী মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোকে এই অসীম কষ্ট সহ্য করার শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন।




হাসিনা ও হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যার্পনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন

হাসিনা ও হা‌দির হত্যাকারীদের প্রত্যার্পনের অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন
ছবি সংগৃহীত।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসির দণ্ড নিয়ে ভারতে অবস্থান করা সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যার্প‌ন ত্বরা‌ন্বিত করতে দি‌ল্লি‌কে অনু‌রোধ করেছে বাংলাদেশ। একইস‌ঙ্গে ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকারী‌দের প্রত্যার্প‌নেরও অনু‌রোধ করা হ‌য়ে‌ছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স‌ঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সৌজন্য সাক্ষা‌তে এ বিষয়ে অনু‌রোধ করা হ‌য়।

প্রধানমন্ত্রীর স‌ঙ্গে ভারতীয় দূ‌তের সাক্ষা‌তের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খ‌লিলুর রহমা‌ন পররাষ্ট্র মন্ত্রণাল‌য়ে সাংবা‌দিক‌দের ব্রিফ ক‌রে এ তথ্য জানান।

বিস্তারিত আসছে...




১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

১০ বছরের জ্বালানি পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরবে সরকার : প্রধানমন্ত্রী
ছবি সংগৃহীত।



আগামী ১০ বছরের জন্য দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের পরিকল্পনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করে দেশের স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, শিল্পকারখানা ও বাসাবাড়িতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি যানবাহনের জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাসের ব্যবস্থাও করা হবে


রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে চট্টগ্রামের বাঁশখালীর বাহারছড়া ইউনিয়নের সমুদ্রসৈকতে আয়োজিত সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, বিগত স্বৈরাচার আমলে দেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তাদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল, যা দেশের মানুষের স্বার্থে ছিল না। এখন সেই জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থাকে জনগণের স্বার্থে পরিকল্পিতভাবে সাজাতে কিছুটা সময় প্রয়োজন। আমরা এরইমধ্যে সেই কাজে হাত দিয়েছি।


তিনি বলেন, আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের জ্বালানি পরিকল্পনা কী হবে এবং আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থা কী হবে, সেই প্রস্তাবনা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা হবে। সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপনের মাধ্যমে কাজ শুরু করা হবে।

জ্বালানি খাত নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত কিছুদিন ধরে গুটিকয়েক মানুষ এ বিষয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার সংসদে পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে। কারও কোনো পরিকল্পনা থাকলে তা জনগণের সামনে উপস্থাপন করতে হবে। কিন্তু বিভ্রান্তিকর কথা বলে দেশে বিশৃঙ্খলা ও জনগণের শান্তি নষ্ট করা যাবে না।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের সঙ্গে জ্বালানি ও নিরাপত্তার সম্পর্ক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আনতে হলে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে হবে। বিনিয়োগকারীরা চান, তাদের কারখানায় উৎপাদিত পণ্য নির্বিঘ্নে বন্দরে যেতে পারবে এবং কাঁচামালও সঠিকভাবে আসতে পারবে। শিল্পকারখানা সঠিকভাবে চালাতে হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন


তারেক রহমান বলেন, আনোয়ারায় চীনকে আমরা একটি বিরাট জায়গা দিয়েছি। এই যে চীন থেকে আমি ঘুরে এলাম, তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। সেখানে তারা কয়েকশ মিল-কারখানা তৈরি করবে এবং এই মিল-কারখানাগুলোতে সমগ্র চট্টগ্রামের মানুষ ইনশাআল্লাহ সেখানে কাজ করার সুযোগ পাবে। তার ফলে আমাদের যেমন একদিকে বেকার সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে, একইসঙ্গে আমরা ইনশাআল্লাহ বহু বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করব। যে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করার মাধ্যমে আমরা এই দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী করব।

তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ডের পাশাপাশি আমরা কৃষক কার্ডেরও ব্যবস্থা করেছি। এই যে বাঁশখালির কিছু অংশে লবণ চাষি ভাইয়েরা আছেন। শুধু যারা ধান, পাট বা অন্যান্য শাকসবজি বা অন্যান্য ফসল চাষবাস করে, তারাই যে শুধু কৃষক কার্ড পাবে তা নয়। লবণ চাষি ভাই যারা আছেন, ইনশাআল্লাহ তারাও কৃষক কার্ড হাতে পাবেন।

তিনি আরও বলেন, একটি কথা এসেছে যে লবণের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার। আলোচনা করে আমরা ইনশাআল্লাহ লবণের মূল্য নির্ধারণ করেছি। যে মূল্য পেলে লবণ চাষী ভাইদের স্বাবলম্বিতা আসবে, অর্থনৈতিকভাবে তারা সচ্ছল হবে। আস্তে আস্তে, ইনশাআল্লাহ আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমরা সেই দামটি সবাইকে জানিয়ে দেব। যার ফলে লবণ চাষি ভাইদের আর আগের মতো কষ্ট পোহাতে হবে না।

সমাবেশে উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, চলতি অর্থবছরে সারাদেশে প্রায় ৪১ লাখ পরিবারের মায়ের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। বাঁশখালী এলাকায় ১০ থেকে ১২ হাজার পরিবারের হাতে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।