আনোয়ারায় সড়কে কাঁটার বেড়া, চলাচলে দুর্ভোগ
আনোয়ারা উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের সরেঙ্গা গ্রামের রাজা তালুকদার বাড়ির প্রধান সড়কে কাঁটা দিয়ে চলাচলে বন্ধ করে দেওয়ায় দূর্ভোগে পড়েছে ওই বাড়ির ১০০ পরিবারের মানুষ। স্থানীয় সামাজিক বৈঠক ও ইউনিয়ন পরিষদের সামাধানও মানতে নারাজ অভিযুক্ত ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবার।
এতে করে দীর্ঘ একবছর ধরে চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ওই এলকার নারী-বৃদ্ধ থেকে শিশু ও শিক্ষার্থীদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ছিনতাই, মাদক, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকায় সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তিরা তাদের এসবের প্রতিবাদ করেন। প্রতিবাদ করায় গত এক বছর ধরে সড়কের মূল ফটক আটকে বন্ধ রেখে সড়কে দিয়েছে কাঁটা।
শনিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শতাধিক নারী-পুরুষ জমায়েত হয়। তাদের একমাত্র চলাচলের সড়কটিতে কাঁটা বেছানো দেখা যায়, এসময় নারী, বৃদ্ধ ও শিশুরা কাঁটার উপরদিয়ে অনেক কষ্টে চলাচল করছে।
স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরের পরিবারের সদস্যরা ধর্ষণ ও মাদক মামলার আসামী। গত বছর ছৈয়দুল হকের ছেলে শাহেদ চলন্ত বাসে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার হয়ে ১ বছর জেল খেটেছে, এবং তার ভাই কালা মিয়া ও নজরুল মাদক মামলার তালিকাভুক্ত আসামী। এসব বিষয় নিয়ে সমাজের লোকজন তাদেরকে কড়া হুসিয়ারি দিলে তারা ওই সড়ক তাদের দাবী করে কাঁটা দিয়ে বন্ধ করেদেয়। এতে করে বাড়ির দেলোয়ার হোসেন, আবদুস সবুর, আবদুল খালেক, শাহাদাত, কালুমিয়া, মো. রুবেল, মো. রফিক, মো ছৈয়দ, তাজ মোহাম্মদ, মো ওসমান, মো. ইউসুফ, মো. মুছা, ইয়াসিন, মঞ্জুর আলম ও মো কফিলসহ প্রায় ১০০ পরিবার বন্ধি হয়ে পড়ে। সড়কের কাঁটা তোলে নিতে স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজের গন্যমান্য ব্যক্তিরা একাধিক বৈঠক করলেও তারা সাড়া দেয়নি।
ভোক্তভোগী মো. মোজাহের (৬৫) বলেন, আমি জন্মের পর থেকে এসড়ক দিয়েই যাতায়াত করছি, গত বছর সমাজের এক সালিশি বৈঠকে ছৈয়দুল হক ও আজম খায়েরর ছেলেদের অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদ করলে তারা তাদের ঘরের পাশের চলাচলের রাস্তায় কাঁটা দিয়ে বন্ধ করে দেয়।
বাড়ীর বাসিন্দা বৃদ্ধা লায়লা বেগম (৭০) বলেন, বাড়ির লোকজন তাদেরকে নানা ভাবে বুঝিয়েও সড়কের কাঁটা তোলা সম্ভব হয়নি। আমরা স্থানীয় মেম্বারকে জানিয়েছি।
এড. মো. আবদুর রহিম বলেন, বাড়ির বয়োবৃদ্ধ থেকে শিশু পর্যন্ত চলাচলে দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বিশেষ করে কোন মানুষ মারা গেলে বাড়ি থেকে বের করা সম্ভব হচ্ছেনা। সমাজে বিবাহ শাদী হলে আমরা বেকায়দায় পড়ি। এতে করে আমার স্থানীয় ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হচ্ছি।
স্থানীয় ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি কয়েকবার সামাজিক বৈঠক করেছি, তারপরও বিষয়টি সমাধান করতে পারিনি। ছৈয়দুল হকের পরিবার ওই সড়কের জায়গা তাদের নিজেদের দাবী করে আসছে। তারা সালিশ মানছেনা।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) দ্বীপক ত্রিপুরা বলেন, সমাজের লোকজনের চলাচলে কেউ বাঁধা সৃষ্টি করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






