অসাবধানতায় বান্দরবানে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই, ক্ষতিগ্রস্ত ১৩ পরিবার

বান্দরবান পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বালাঘাটা বাজার এলাকার বিলকিছ বেগম উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন মার্কাস গলিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৮টি বসতঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এছাড়া আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ভাড়াটিয়া ও সাবলেট মিলিয়ে অন্তত ১৩টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুন ) সকাল ৯টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় মো: ইউনুস জানান, সকাল ৯টার দিকে আমার বাড়ীর সামনে টিনসেটের বাড়ীঘর গুলোতে হঠাৎ একটি বসতঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই আগুন আশপাশের ঘরগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সে আগুনের লেলিহান শিখায় আমার চার তলার বারান্দায় থাইগ্লাস ভেঙ্গে পড়ে যায়।
আগুন লাগার ১০-১৫মিনিটের মাথায় ফায়ার সার্ভিসের টিম চলে আসায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করেন।
বান্দরবান ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ইকবাল হাসান জানান, সকাল ৯টা ১২ মিনিটে অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। তবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর বান্দরবান-রুমা সড়কে একটি সড়ক দুর্ঘটনার খবর পাওয়ায় একটি ইউনিট সেখানে পাঠাতে হয়। পরে দুইটি ইউনিটের প্রায় আধা ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
তিনি বলেন, “আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই ৮টি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। এছাড়া আরও ৩টি ঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভাড়াটিয়া ও সাবলেট মিলিয়ে প্রায় ১৩টি পরিবার ক্ষতির মুখে পড়েছে।”
প্রাথমিক তদন্তে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ইকবাল হাসান আরও বলেন, “ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এই মুহূর্তে নিরূপণ করা সম্ভব নয়। তদন্ত শেষে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ জানা যাবে।”
অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত তপন মল্লিক, যিনি বালাঘাটা বাজারে পৌরসভার একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে কর্মরত। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ২০ বছর ধরে পৌরসভায় চাকরি করছি। দীর্ঘদিনের কষ্টার্জিত সঞ্চয়ে তিল তিল করে ঘর তৈরি করেছি। ঘরের সব আসবাবপত্র ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সবকিছু আগুনে পুড়ে গেছে। এখন আমার ঘরও নেই, মাথা গোঁজার ঠাঁইও নেই। পরিবার ও সন্তানদের নিয়ে কোথায় থাকব বুঝতে পারছি না।”









