অবৈধ বালু ও কাঠ পাচারের নিরাপদ জোন ডুলাহাজারা বনবিট!
কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগের অধীন ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জের ডুলাহাজারা বনবিট এলাকায় অবৈধ কাঠ ও বালু পাচারকে কেন্দ্র করে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, বনজ সম্পদ রক্ষার দায়িত্বে থাকা ডুলাহাজারা বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের নীরব ভূমিকা ও কথিত সহযোগিতার কারণে এলাকাটি অবৈধ কাঠ ও বালু পরিবহনের নিরাপদ রুটে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ডুলাহাজারা বাজারের পূর্ব পাশের সড়ক ব্যবহার করে প্রতিদিন লামা উপজেলার ফাঁসিয়াখালী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঠবোঝাই একাধিক যানবাহন বের হয়ে মালুমঘাট হয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ৫ থেকে ৬টি কাঠবোঝাই যানবাহন এই রুট ব্যবহার করে চলাচল করে।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, কাঠবোঝাই প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রায় ১,২০০ টাকা করে আদায় করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের কিছু অসাধু ব্যক্তি দালালের মাধ্যমে এই অর্থ সংগ্রহ করে থাকে।
শুধু কাঠ নয়, ডুলাহাজারা বিট অফিসের সামনের সড়ক দিয়েও নিয়মিত অবৈধ বালুবাহী ট্রাক ও ডাম্পার চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রকাশ্যে এসব যানবাহন চলাচল করলেও কার্যকর কোনো অভিযান বা প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা চোখে পড়ে না।
অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, একটি কথিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অবৈধ বালুবাহী যানবাহনের কাছ থেকে মাসিক ভিত্তিতে (মাসোয়ারা) অর্থ আদায়ের অভিযোগও রয়েছে।
পাচারের নিরাপদ রুট হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি সড়ক স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঠ ও বালু পাচারের জন্য মালুমঘাট চা-বাগান সড়ক, ডুলাহাজারা মার্কাজ সড়ক ছাড়াও আরও কয়েকটি ছোট গোপন সড়ক নিয়মিত ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব রুট দিয়েই নির্বিঘ্নে অবৈধ বনজ সম্পদ ও বালু পরিবহন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে ডুলাহাজারা বিট কর্মকর্তা শাহরিয়ার আমিনের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, ফাঁসিয়াখালী রেঞ্জ কর্মকর্তা (সহকারী বন সংরক্ষক-এসিএফ) মুহাম্মদ কামরুল হাসান বলেন, “আমি নতুন এসেছি। বিষয়গুলো খোঁজ-খবর নিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কক্সবাজার উত্তর বন বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।







