এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২০

এলাকার মানুষকে নিজ হাতে চা বানিয়ে খাওয়ান এমপি!

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৯-২৮ ০৮:১১:১২

নিজস্ব প্রতিবেদক:

কিছুদিন আগের ঘটনা। এক স্কুলভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করে ফিরছিলেন এমপি। পথে এলাকার মাঝবয়সী এক লোক বায়না ধরলেন তার বাড়িতে এক কাপ চা খেতে হবে। এমপি বললেন, তার সাথে অন্তত ৫০ জন লোক। এত লোককে একসাথে চা খাওয়াতে গেলে বাড়ির বউ-ঝিদের কষ্ট হবে।

নাছোড়বান্দা ওই লোক বললেন, কোনো কষ্ট নয়, এমপিসহ সবাইকে তার ঘরে এক কাপ চা খাওয়াতে পারলে বরং তিনি ধন্য হবেন। এবার এমপি রাজি হলেন।

বললেন, চা খেতে যেতে পারি এক শর্তে। যদি সে চা আমাকে বানাতে দেন। কী বলেন এমপি সাহেব! ওই লোকের চোখ ছানাবড়া। এমপি বললেন হ্যাঁ, আমিই বানাবো। বলেই অমনি ঢুকে গেলেন ওই লোকের বাড়িতে। তারপর সোজা রান্নাঘরে। বাইরের মানুষ তো বটেই, বাড়িটির বউ-ঝিরও কৌতূহলের শেষ নেই।

মজার ব্যাপার হচ্ছে, মাত্র ১০ মিনিটেই এমপি সাহেব অন্তত ৫০ জনের জন্য চা বানিয়ে ফেললেন। বলছিলাম কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) সংসদীয় আসনের সরকার দলীয় এমপি জাফর আলমের কথা।

হ্যা, তিনি এমনই। শুধু শুভার্থীর রান্নাঘরে গিয়ে চা বানিয়ে সহকর্মী, সতীর্থদের খাইয়েছেন তা নয়, নিজের বাড়িতেও নিত্য এই কাজটি স্বাচ্ছন্দ্যে, মনের সুখে করেন এমপি জাফর আলম।

ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, পৌর মেয়র, উপজেলা চেয়ারম্যান অতপর বর্তমান সংসদের এমপি। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে জনপ্রতিনিধি, তৃণমূলের রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে জনগণের সাথে মাটির সম্পর্ক তাঁর।

এ কারণে কাকডাকা ভোর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত তার বাড়ি লোকজনে গিচগিচ করে। কাউকেই খালি মুখে ফিরতে দেন না তিনি, নিদেনপক্ষে এক কাপ চা খেয়েই যেতে হবে। আর সে চায়ের বেশিরভাগই বানান এমপি নিজ হাতে। কখনো কখনো রান্নাও করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এমপি জাফর আলম বলেন, আমি মানুষকেন্দ্রিক মানুষ। মানুষের সঙ্গ ছাড়া আমার কাছে আর কিছুকেই মহত্তম মনে হয় না। আমার বাড়িতে কেউ আসলে সাধ্যমতো আপ্যায়ন করতে ভালোবাসি। আমার স্কুল-শিক্ষক স্ত্রী সকাল থেকে বিকেল অবধি স্কুলে থাকে। তার অনুপস্থিতিতে আমিই অতিথিদের চা বানিয়ে খাওয়ানোর চেষ্টা করি। স্কুলে থাকার সময় অথবা স্কুলছুটির সময় বাড়িতে আগত মানুষদের আতিথেয়তায় সে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে তখন আমি নিজেই রান্নাঘরে ঢুকে চা বানাই। কখনো কখনো রান্না করেও নেতাকর্মীদের খাওয়াই।

করতে করতে বিষয়টি আমার কাছে সখে পরিণত হয়েছে। কেউ যখন চা খেয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলে, বলে চা খুব ভালো হয়েছে তখন উৎসাহ পাই। ভালো লাগে।-বলেন এমপি জাফর।

স্থানীয় সরকারি প্রাইমারি স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক এমপি-পত্নী সাহেদা আকতার এ প্রসঙ্গে বলেন, শুরু থেকেই তিনি খুব কেয়ারিং। আমার যে কোনো কাজ, এমনকি রান্নাঘরের কাজেও তিনি আমাকে খুব সাহায্য করেন, পাশে দাঁড়ান। রাজনীতির মানুষ, জনপ্রতিনিধি হওয়ায় সবসময় ঘরভর্তি মানুষ থাকে। শিক্ষকতার কারণে আমি অনেক সময় সবাইকে এটেন্ড করতে পারি না। এমপি সাহেব নিজেই সব সামলে নিয়ে যান। তার হাতের ঘন গরুর দুধের এক কাপ চা খেতে বেশ মজাদার, যা আমি দারুণ এনজয় করি।

Print Friendly and PDF