এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

মেজর সিনহা হত্যা,পরস্পরকে দুষছেন প্রদীপ-লেয়াকত

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৮-১২ ০৭:২০:৪১

নিজস্ব প্রতিবেদক:

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনায় প্রদীপ-লিয়াকতসহ ৭ জন পুলিশসকে রিমাণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। তাদেরকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেনি তদন্ত সংস্থা র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদ করার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে বলে জানা গেছে।
র‌্যাব জানিয়েছে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে সরজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। আশেপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে তারা যেসব তথ্য পেয়েছেন সেগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে। সেইগুলো মামলার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। সব প্রক্রিয়া শেষ করার পর এবং সরজমিনের সব তথ্য যাচাই-বাছাই করার পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করা হবে। এতে আসামিরা মিথ্যা তথ্য দিয়ে নিজেদের দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেও তখন সরজমিনের তথ্যগুলো তাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে বলে জানায় র‌্যাব।
এদিকে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সিনহা হত্যাকাণ্ডের ঘটনার বিষয়ে এখন অন্যতম আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ কুমার দাস ও পরিদর্শক লিয়াকত আলী পরস্পরকে দোষারোপ করছেন বলে জানা গেছে । ওসি প্রদীপ জানিয়েছেন, ঘটনার সময় লিয়াকত মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।
আর জিজ্ঞাসাবাদে লিয়াকত বলেছেন, বাহাড়ছড়ার দিক থেকে সিনহার যে গাড়িটি আসছিল সেটি আটকানোর জন্য তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ওসি প্রদীপই। গাড়ি আটকানোর নির্দেশ দেয়ার পাশাপাশি ওসি প্রদীপ বলেছিলেন যে, মসজিদের মাইকে ঘোষণা করা হয়েছে, পাহাড়ে ডাকাত দলের সদস্যরা মিটিং করেছে। তারা বাহারছড়ার দিকে আসছে। যে গাড়িটি আসছে সেটিতে ডাকাত দলের সদস্যরা আছে। সতর্কভাবে গাড়িটি আটকাতে হবে। তারা যাতে ক্রস করতে না পারে, এজন্য সড়কে কোনো রকমের ফাঁক না রেখে লিয়াকত আড়াআড়িভাবে অবরোধ বসান। লেয়াকত দাবি করেন, ওসি প্রদীপ যখন তার সঙ্গে কথা বলছিলেন তখন তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন।

গাড়িটি আসার পর পরই সিনহাকে গুলি করেন লিয়াকত। গুলির পরেও অনেকক্ষণ বেঁচে ছিলেন সিনহা। তার পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরও কেন তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলো না প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের এমন প্রশ্নের কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি দু’জন।
হত্যাকাণ্ডের পরের দিন মোবাইল ফোনে একজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন তা জেলার একজন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে পরামর্শ করেছেন বলে জানান প্রদীপ দাস।
গত ৩১শে জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন মেজর সিনহা। তল্লাশিতে তিনি বাধা দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছে পুলিশ। এক সংবাদ সম্মেলনে কক্সবাজার জেলার এসপি বলেন, মেজর সিনহা বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তার কাছ থেকে ইয়াবা ও পিস্তল পাওয়া গেছে বলে জানান তিনি।
এ ঘটনায় টেকনাফ থানায় হত্যা ও মাদক আইনে এবং রামু থানায় মাদক আইনে পৃথক ৩টি মামলা দায়ের করে পুলিশ।এ মামলায় নিহত মেজর সিনহার সঙ্গে থাকা শাহেদুল ইসলাম সিফাত ও শিপ্রা রানী দেব নাথকে গ্রেফতার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ইন্সপেক্টর লিয়াকত, ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহত সিনহার বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। ৬ আগস্ট বরখাস্ত ওসি প্রদীপ ও লিয়াকতসহ ৭ আসামি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে আদালতে নির্দেশে তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়। পরে র‌্যাবের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আসামিদে রিমাণ্ড মঞ্জুর করা হয়।

Print Friendly and PDF