এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

প্রদীপের জন্ম বিএনপিতে, লালন পালন আওয়ামী লীগে!

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৮-১২ ০৭:১৯:১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক:

ভয়ঙ্কর কিলার ওসি খ্যাত প্রদীপ কুমার দাশ রাতারাতি বেপরোয়া হয়ে ওঠেনি। ২৫ বছর পুলিশের চাকুরিতে বিএনপি- আওয়ামী লীগের পৃষ্টপোষকতা পেয়েছেন। প্রদীপের জন্ম বিএনপিতে। কিন্তু লালল-পালন হয়েছে আওয়ামী লীগে!
জেনারেল এরশাদ সরকারের পতনের পর তিন জোটের রূপ রেখা অনুযায়ী প্রধান বিচারপতি সাহাবুদ্দিন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান মনোনীত হন। তার অধীনে ১৯৯১ সালের ২৭শে ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ক্ষমতাসীন হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। চট্টগ্রাম-১০ (পাঁচলাইশ-বোয়ালখালী) সংসদীয় আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান সিরাজুল ইসলাম। তিনিই নির্বাচিত হন।

জাতীয় পাটি থেকে বিএনপিতে যোগদানকারি মোরশেদ খান ১৯৯২ থেকে ১৯৯৬ পর্যন্ত পূর্ণমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ছিলেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশ স্পেশাল কমিটি অন ফরেন অ্যাফেয়ার্স-এর চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। প্রভাবশালী মোরশেদ খানের ডিও লেটার নিয়ে বোয়ালখালীর সহোদর প্রদীপ কুমার ও সদীপ কুমার পুলিশের এসআই পদে বিশেষ সুপারিশে চাকুরি পান।
বিএনপি দক্ষিণ জেলা সভাপতি আহমেদ খলিল খানের সুপারিশে ডিও লেটার ইস্যু করেন মোরশেদ খান। এ জন্য আহমদ খলিল ২ লাখ টাকা নিয়েছেন বলে জনশ্রুতি রয়েছে। মোরশেদ খানের ডিও লেটারের ভিত্তিতে চাকুরি হওয়ায় দুই সহোদরকে বিএনপি ঘরানার পুলিশ হিসাবে চট্টগ্রামে তৎকালীন দুই উচ্চপদস্থ পুলিশ সহোদর আল্লাহ বকশ চৌধুরী ও খোদা বকশ চৌধুরীর সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ট সম্পর্ক ছিল। এখনো আছে! তার প্রমাণ মিলেছে যায় টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকান্ডে। প্রদীপ নিজেকে রক্ষা করতে সাবেক পুলিশ সুপার আল্লাহ বকশ চৌধুরীর কাছে আইনী পরামর্শ চেয়ে টেলিফোন করেছেন।

৩১ জুলাই রাতে সিনহাকে হত্যা করার পর টেলিফোন কথোপকথনে দেখা যায়, ওসি প্রদীপ ও সাবেক পুলিশ সুপার আল্লাহ বকশ এ দুই জনের মধ্যে বেশ সখ্যতা রয়েছে। সেকারণে খুব দ্রুত ওসি প্রদীপকে মিথ্যা মামলা সাজাতে এবং তাকে সুরক্ষা দিতে ফৌজদারি দন্ডবিধির বিভিন্ন ধারা সংযুক্ত করার পরামর্শ দেন। প্রদীপকে পলাতক অবস্থায় চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার হওয়ার পরদিনই দুই জনের কথোপকথন ফাঁস হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আসতেই ভাইরাল হয়ে যায়। প্রথমে মনে করা হয়েছিল, কিলার ওসি প্রদীপ কোন অভিজ্ঞ, মেধাবী, প্রবীন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলেছেন! পরে দেখা যায়, তিনি আইনজীবী নয়- অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল্লাহ বকশ চৌধুরী। চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া থানার লালা নগরে তার বাড়ি। থাকেন চট্টগ্রামের পশ্চিম খুলশীস্থ নিজস্ব বাড়িতে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আল্লাহ বকশ চৌধুরীর ছোট ভাই খোদা বকশ চৌধুরী বিএনপি সরকারের আমলে পুলিশের শীর্ষপদ আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী (বর্তমান প্রধানমন্ত্রী)শেখ হাসিনা যখন হত্যা করতে গ্রেনেড হামলা করা হয় তখন তিনি অতিরিক্ত আইজিপি ছিলেন। সিআইডি প্রধান থাকাকালীন অবস্থায় আলোচিত-সমালোচিত ‘জজ মিয়া’ নাটকের প্রধান ভূমিকা পালন করেন খোদা বকশ চৌধুরী। পুরস্কার হিসাবে তাকে ৩১ শে অক্টোবর ২০০৬ এ তিনি র‌্যাব এর মহাপরিচালক পদে নিয়োগ দেয়া হয়। এর মাত্র দুইদিনের মধ্যে দ্বিতীয় দফা পদোন্নতি দেওয়া হয়। হয়ে যান বাংলাদেশ পুলিশের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।
২০০৪ সালে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় জজ মিয়া নাটক সাজানো ও আলামত নষ্ট করার অপরাধে তিন বছর কারাদন্ড দেয়া হয়। ২০১৮ সালে ১০ অক্টোবর ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন এ রায় দেন। দীর্ঘদিন কারাভোগ করে বর্তমানে তিনি জামিনে আছেন বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। প্রদীপ কুমার দাস ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খানের রিক্রুটমেন্ট হিসাবে পরিচয় দিয়ে খোদা বকশ চৌধুরী ও আল্লাহ বকশ চৌধুরী থেকে নানা সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করেন।
উল্লেখ, ২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতাসীন থাকা অবস্থায় প্রদীপ কুমার দাশ চকরিয়া থানায় এসআই হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ওই সময় বিএনপি’র ঘোরতর সমথর্ক ছিলেন। তৎকালীন যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী এপিএস সালাউদ্দিন আহমেদ (বর্তমানে ভারতের শিলং) তাকে চকরিয়া থানায় বদলি করে নিয়ে যায়। তারই তদবিরে পান পুলিশ মেডেল।

২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন হলে সংখ্যা লঘু তকমা লাগিয়ে প্রদীপ কুমার দাস রাতরাতি আওয়ামী লীগ ঘরানার পুলিশ হয়ে যান। তারই ধারাবাহিকতায় ২০০৯ সালের ১৯ জানুয়ারি তিনি ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পান। হয়ে ওঠেন বেপরোয়া।
বিএনপি সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার তকমা মুছতে বিএনপি, জামায়াত শিবিরে মিছিলে অস্ত্র নিয়ে হামলা করতেন। গণমাধ্যমে তার ছবি প্রকাশ হওয়ার পর আওয়ামী লীগের নেতারা প্রদীপ কুমারকে নানা সুযোগ সুবিধা দেন। চাকুরি জীবনে পুরোটায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বিভিন্ন থানায় দায়িত্ব পালন করেন। চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ, পতেঙ্গা, বায়েজিদ থানা, কক্সবাজার জেলার মহেশখালী ও টেকনাফে ‘ওপেন সিক্রেট’ ঘুষ বাণিজ্য চালালোও পুলিশ উচ্চ পদস্থদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতেন। ফলে ঘুষ –অনিয়মের জন্য পুলিশ থেকে বহিস্কার হওয়ার পরও ফের চাকুরিতে বহাল হন। পোস্টিং পান অধিক রুজির থানা গুলোতে! এর অন্যতম টেকনাফ মডেল থানা।
২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে ‘ইয়াবা মুক্ত টেকনাফ ’ শ্লোগান দিয়ে শত শত কথিত ইয়াবা ব্যবসায়িকে হত্যা ও তাদের বাড়ি থেকে নগদ টাকা, সোনা লুটে নেন। ক্রসফায়ারের ভয় দেখিয়ে শত কোটি টাকার মালিক হয়ে যান কিলার ওসি প্রদীপ।
উল্লেখ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যাকারি টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ ও চট্টগ্রামের ডবলমুরিং থানার ওসি সদীপের বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী ইউনিয়নের উত্তর কুঞ্জুরী গ্রামে। তার বাবা হরেন্দ লাল দাশ ছিলেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) নিরাপত্তা প্রহরী। তার দুই সংসারে রয়েছে পাঁচ ছেলে ও ছয় মেয়ে। প্রদীপের ভাই সদীপ কুমার দাশ সিএমপির ডবলমুরিং থানায় ওসি হিসেবে কর্মরত। তাদের আরেক ভাই দিলীপ কুমার দাশ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হেডক্লার্ক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। বর্তমানে তিনি অবসর নিয়েছেন। গ্রামের বাড়িতে তার সৎ ভাইয়েরা থাকেন। গত ২৫ বছর ধরে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারদের ম্যানেজ করে কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে চাকুরি করে যাচ্ছেন।
এদিকে সেনাবাহিনীর মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ হত্যার ঘটনা সামাল দিতে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপকে পরামর্শ দেওয়া সাবেক পুলিশ সুপার আল্লাহ বকশ চৌধুরী গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যায় গণ মাধ্যমে একটি প্রেস বিজ্ঞাপ্তি পাঠিছেন। এতে নিজের অবস্থান ব্যাখা করেছেন খোদা বকশ ।
বিএনএ
তিনি বলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কর্মরত কর্মকর্তারা বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ আলোচনা করেন এবং পরামর্শ চান। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। ওইদিনও একইভাবে তৎকালীন ওসি টেকনাফ সেদিনের ঘটনা ও তার নেওয়া পদক্ষেপগুলো জানিয়েছিল। তার প্রেক্ষিতে আমি পরামর্শ দিয়েছি। তবে এখন বুঝতে পারছি মূল ঘটনার বিষয়ে অনেক কিছুই আমার কাছে গোপন করা হয়েছিল। এমনকি যাকে গুলি করা হয়েছে তিনি যে কমিশন্ড অফিসার, এটিও আমাকে জানানো হয়নি।’
আলোচিত সেই টেলিফোন আলাপে ‘অবসরপ্রাপ্ত আর্মি অফিসারদের প্রতি অবজ্ঞা করা হয়েছে’— বিভিন্ন মহল থেকে ওঠা এমন অভিযোগের বিষয়ে পুরো ব্যাপারটিকেই ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ উল্লেখ করে এর জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সুপার খোদা বকশ।
নিহত মেজর (অব.) সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের মৃত্যুর পর সাবেক পুলিশ সুপার আল্লাহ বকশ চৌধুরীর সঙ্গে টেকনাফ থানার ওসি প্রদীপ কুমার দাশের অডিও কথোপকথনটি এখানে তুলে ধরা হলো।
আল্লাহ বকশ : হ্যালো।
ওসি প্রদীপ : স্যার, আদাব স্যার।
আল্লাহ বকশ : হ্যাঁ।
ওসি প্রদীপ : স্যার, আমি ওসি টেকনাফ প্রদীপ, স্যার।
আল্লাহ বকশ : হ্যাঁ কী খবর প্রদীপ, কোরবানির দিন গরুর মধ্যে তুমি কী!
ওসি প্রদীপ : স্যার, একটা মহাবিপদে পড়ছি, আপনার সাহায্য দরকার।
আল্লাহ বকশ : বলো বলো।
ওসি প্রদীপ : এখন আমরা স্যার একটা ১৫৩, ১৮৬ ও ৩০৭-এ মামলা নিছি স্যার।
আল্লাহ বকশ : ওয়ান ফিফটিথ্রি?
ওসি প্রদীপ : স্যার, থ্রি ফিফটিথ্রি।
আল্লাহ বকশ : থ্রি ফিফটি থ্রি সরকারি কর্মচারীর কাজে বাধা, আরেকটা হচ্ছে..
ওসি প্রদীপ : আরেকটা হচ্ছে ১৮৬- পুলিশের কাজে বাধা।
আল্লাহ বকশ : আর্মিদের ইন্টিমেশন দিছ কি না?
ওসি প্রদীপ : এরপরে দিছি স্যার আমরা। আর্মিরে জানাইছি। আর্মির লোকজন আসছে, সবাই আসছে।
আল্লাহ বকশ : এ কি আর্মির নাকি?
ওসি প্রদীপ : অবসরপ্রাপ্ত, স্যার ।
আল্লাহ বকশ : ও, তাইলে এত ডরের কী আছে?
ওসি প্রদীপ : এখন স্যার ও মারা গেছে, ইনজিওরড অবস্থায় হাসপাতালে মারা গেছে।
আল্লাহ বকশ : এর সঙ্গে যে লোকটা ছিল ওইটা কী?
ওসি প্রদীপ : ওইটা স্যার একটা ছাত্র, স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির। সে বলছে যে আমরা রাতের বেলা পাহাড়ের সিন নেয়ার জন্য.. ওরা নাকি স্যার ইউটিউবের একটা চ্যানেল করার জন্য আসছে ভ্রমণের উপরে।
আল্লাহ বকশ : তোমরা তো অবস্ট্রাকশন দিছ, অবস্ট্রাকশন ভায়োলেট কইরা গেছে, গাড়ি চালাইছে।
গাড়িওয়ালারে এরেস্ট করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : স্যার, গাড়িচালক তো ও নিজেই।
আল্লাহ বকশ : ও আচ্ছা আচ্ছা, গাড়ি জব্দ করছ কি না?
ওসি প্রদীপ : জি স্যার, করছি।
আল্লাহ বকশ : আচ্ছা তোমরা যে বাধা দিছ, ওভারটেক কইরা গেছে, এইটার সাক্ষী আছে কি না পাবলিক?
ওসি প্র দীপ : সাক্ষী আছে স্যার।
আল্লাহ বকশ : সাক্ষী থাকলে মামলা কী নিছ বলো।
ওসি প্রদীপ : মামলা নিছি স্যার ১৮৬, ৩৫৩, ৩০৭।
আল্লাহ বকশ : প্রেয়ার দিয়া দিবা যে একটা মার্ডার হইয়া গেছে।
ওসি প্রদীপ : আর আলাদা কোনো কেস দিতে হবে না স্যার?
আল্লাহ বকশ : আরেকটা কেস কী নিবা?
ওসি প্রদীপ : আরেকটা কেস আমরা কী নিব? ও যে সদর হাসপাতালে মারা গেছে স্যার। সদর হাসপাতালের বিষয়ে একটা ইউডি কেস নিয়ে নিব স্যার?
আল্লাহ বকশ : আমার তো মনে হয়, সদর থানারে দিয়া একটা ইউডি কেস করাইয়া রাখো।
ওসি প্রদীপ : ভালো হবে, না স্যার?
আল্লাহ বকশ : আমার মনে হয় ভালো হয়। আর্মির লোক তো পরে টানাটানি করে কি না!
আর নাইলে তোৃ
ওসি প্রদীপ : না হলে তো স্যার ওরা স্যার লাশ নিয়ে গেলে পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা করতে পারে যেকোনো সময়। আমরা একটা মামলা করে ফেললে ওই মামলাটা ট্যাগ করা যাবে।
আল্লাহ বকশ : তাহলে তোমরা একটা কাজ করো না, ৩০৪-এ-ও একটা মামলা নিয়া নিতে পারো।
ওসি প্রদীপ : ৩০৪-এ আমরা কী লিখব স্যার?
আল্লাহ বকশ : লেখবা যে ইয়ার মধ্যে ইয়া হইছিল। আসামি হাউএভার মারা গেছে। এ কারণে মামলাটা রুজু করা হইলো। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : স্যার, ৩০৭-এ এখানে আসামির কলামে কী লিখব?
আল্লাহ বকশ : না, আরেকটা সেপারেট মামলার জন্য বলছি। যেহেতু আসামি মারা গেছে, তাই এ মৃত্যুর জন্য মামলা করা হলো।
ওসি প্রদীপ : স্যার, মামলা নিব যে আসামির কলামে নাম লিখতে হবে না?
আল্লাহ বকশ : পুলিশে গুলি করছিল, বুজছি তো। এই এজাহারটা পুরা লিখবা, যে এই এই কারণে তাকে অবস্ট্রাকশন করে আটকানো হইছিল। আটকানো হওয়ার পরে এই মামলা রজু হইছে। হাসপাতালে পাঠানোর পর সেখানে সে মারা গেছে। যেহেতু মানুষ মারা গেছে, তাই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মামলা রজু করা হলো, ৩০৪-এ।
ওসি প্রদীপ : আসামি অজ্ঞাত।
আল্লাহ বকশ : এইটা নিয়া রাখো। তাহলে এরা কোর্টে কেইস করলে এইটা ট্যাগ হইয়া যাবে।
ওসি প্রদীপ : স্যার, ৩০৪ আমি নিব নাকি সেখানে ডিউটি অফিসার দিয়ে নিয়ে রাখব সদর থানা দিয়ে?
আল্লাহ বকশ : সদর থানায় লইব নাকি তোমার মামলা?
ওসি প্রদীপ : সব কিছু লেখার পর লেখবো যে সদর থানার মধ্যে মারা গেছে, স্যার।
আল্লাহ বকশ : হ্যাঁ, হ্যাঁ। তোমার এজাহারটা হুবহু লেইখা যাইবা, যে এই এই মামলার আসামি, তাকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে পাঠানো হইয়াছিল। যেহেতু আসামি মারা গেছে হাসপাতালে, সেহেতু সে মারা গেছে হত্যা মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হোক। এই বর্ণনা হুবহু লেখবা।
ওসি প্রদীপ : সব কিছু লিখে লাস্টে এটা লিখব।
আল্লাহ বকশ : যেহেতু মারা গেছে, এসব ঘটনার কারণে ৩০৪-এ হত্যা মামলা রুজু করা হলো। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
ওসি প্রদীপ : ঠিক আছে স্যার, আসসালামু আলাইকুম।
আল্লাহ বকশ : থ্যাংক ইউ।

Print Friendly and PDF