এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , রোববার, ৯ আগস্ট ২০২০

আজ ঈদুল আযহা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৮-০১ ০১:৩১:১১

মনজুর আলম সুমন:

বছর ঘুরে বাংলাদেশের মুসলমানদের দুয়ারে আত্মত্যাগ ও খুশির বার্তা নিয়ে আবারো হাজির হয়েছে অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহা। বিশ্ব মুসলিমের প্রধান দুটি ধর্মীয় উৎসবের একটি ঈদুল আযহা। আজ শনিবার সারা দেশে যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদার মধ্যদিয়ে উদ্যাপিত হবে পবিত্র ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ। তবে বন্যা ও করোনার কারণে এবারের ঈদ পালিত হচ্ছে ভিন্ন আঙ্গিকে। সারাদেশে খোলা মাঠে এবার কোন ঈদের জামাত হবে না। নামাজ পড়তে হবে
মসজিদে।
পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ দেশবাসীর উদ্দেশ্যে শুভেচ্ছা বাণী দিয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দও পৃথক পৃথকভাবে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।
আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য এবং তারই রাহে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগের ঐতিহাসিক ঘটনার স্মরণে পালিত হয়ে আসছে ঈদুল আযহা। হযরত ইবরাহিম (আ.) এর আত্মত্যাগ ও অনুপম আদর্শের প্রতীকী নিদর্শন হিসেবে কোরবানি প্রচলিত হয়েছে। যাকে কেন্দ্র করে ঈদুল আযহার এই উৎসব। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের নির্দেশে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার বছর পূর্বে হযরত ইবরাহিম (আ.) তার প্রাণপ্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইলকে (আ.)কে কোরবানি করার ঘটনার স্মরণে কোরবানি প্রচলিত হয়। পুত্র কোরবানির পরীক্ষায় হযরত ইবরাহিম (আ.) উত্তীর্ণ হয়েছিলেন এবং আল্লাহর পক্ষ থেকে খলিলুল্লাহ উপাধি পেয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি যতদিন জীবিত ছিলেন, ততদিন প্রতিবছরই পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহপাকের আনুগত্যের আদর্শ প্রতিষ্ঠা করে গেছেন। হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও আদিষ্ট হয়ে প্রতিবছরই পশু কোরবানি করেছেন এবং তার উম্মতের জন্য এ আদর্শ ও প্রথা অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়ে গেছেন। যাদের ওপর কোরবানি ওয়াজিব তাদের জন্য কোরবানি করা বাধ্যতামূলক। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যাদের ওপর ওয়াজিব তারা কোরবানি না করলে যেন ঈদগাহে গমন না করে। তিনি আরও বলেছেন, কোরবানির দিন কোনো ব্যক্তির কোরবানির পশুর রক্ত ঝরানোর মতো আল্লাহপাকের কাছে অধিক প্রিয় ও পছন্দনীয় কাজ আর কিছু নেই।
কোরবানিকে আল্লাহ এবাদত হিসেবে নির্দেশ করেছেন। পশু কোরবানির মাধ্যমে আল্লাহর নির্দেশের প্রতি একনিষ্ঠ আনুগত্য প্রদর্শন করে তাঁর সন্তুষ্টি লাভ করাটাই উদ্দেশ্য। এ উদ্দেশ্য যথাযথভাবে অর্জিত হলে কোরবানি করা সার্থক হয়ে থাকে। আল্লাহপাক সুস্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন ‘আল্লাহর কাছে পৌঁছায় না এর (পশুর) গোশত ও রক্ত বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।’ কোরবানির জন্য হযরত ইবরাহিম (আ.)-এর ত্যাগ ও আত্মসমর্পণের আদর্শ। তিনি পুত্র ইসমাইলকে (আ.) কোরবানি করতে উদ্যত হলে আল্লাহপাক তার প্রতি সন্তুষ্ট হয়ে হযরত ইসমাইল (আ.) এর পরিবর্তে হযরত জিবরাইল (আ.) এর মাধ্যমে দুম্বা উপস্থিত করেন এবং দুম্বা জবাই হয়ে যায়। আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনে যে নজির হযরত ইবরাহিম (আ.) রেখে গেছেন, মানব ইতিহাসে তা নজিরবিহীন। ঈদুল আযহা বা কোরবানির ঈদ মিল্লাতে ইবরাহিমের জন্য এক মহান আদর্শ, এ গৌরবের স্তম্ভ। এ উৎসবে ধর্মীয়, আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক তাৎপর্য যেমন রয়েছে, তেমনি পারিবারিক, সামাজিক ও মানবিক নানা কল্যাণকর দিকও রয়েছে। সৌভ্রাতৃত্ব, ঐক্য সংহতি, বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও সহমর্মিতা সহানুভূতি প্রকাশের এক দুর্লভ সুযোগ এনে দেয় এই ঈদ।
কোরবানি অর্থ ত্যাগ এবং ত্যাগের মহিমার মধ্যদিয়ে সামর্থ্যবানরা পশু কোরবানি করেন। এই কোরবানির একটি অংশ দরিদ্রদের মধ্যে ভাগ করে দেয়া হয়। ধনী-দরিদ্র সকলেই যাতে সমভাবে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পারে, সেজন্য ইসলামে সুস্পষ্ট বিধান রয়েছে। কোরবানির গোশতের ভাগ বাটোয়ারা করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান মানতে হবে। বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অসংখ্য মুসলমান অভাব ও দারিদ্র্যের মধ্যে অসহায় অবস্থায় দিন অতিবাহিত করছে। ইরাক-আফগানিস্তানসহ বহু দেশে মুসলমানরা সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন ও রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের শিকার হচ্ছে। তাদের কাছেও ঈদুল আযহা উপস্থিত। কোরবানির শিক্ষা নিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্ব মুসলিমকে আরও সচেতন হতে হবে, সক্রিয় হতে হবে, ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এবং আত্মরক্ষায় সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে হবে। আল্লাহর প্রতি আত্মসমর্পণ এবং সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারের মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি ও কামিয়াবি হাসিল করা সম্ভব। পশু কোরবানির সঙ্গে সঙ্গে প্রতিটি মুসলমানের ভেতরের পশুত্বকে কোরবানি করে আল্লাহর পথে, আল্লাহর সন্তুষ্টি, নৈকট্য ও অনুগ্রহ লাভের জন্য সর্বোচ্চ নিষ্ঠার পরিচয় দিতে হবে।

Print Friendly and PDF