এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , রোববার, ৯ আগস্ট ২০২০

রাঙ্গুনিয়ায় শেষ মুহূর্তে সরগরম পশুর বাজার, মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৭-৩০ ২০:১১:০৭

জগলুল হুদা, রাঙ্গুনিয়া :

কোরবানির ঈদ একেবারেই দোরগোড়ায়। পশু কেনার জন্য আর মাত্র একটা দিন হাতে আছে। তাই চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ার পশুর বাজারগুলোও সরগরম ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে। বাজারে মানুষের উপস্থিতি যেমন প্রচুর, পশুও রয়েছে প্রচুর। দুইয়ে মিলে বাজারগুলো ক্রেতা বিক্রেতা ও পশুতে জমজমাট। বেচাকেনাও চলছে বেশ। বড় গরুর দাম অন্যান্য দিনের তুলনায় কম। বিক্রেতারা ছোট ও মাঝারি গরুর দাম তেমনটা না ছাড়লেও অন্যান্য দিনের তুলনায় এক্ষেত্রেও দাম কিছুটা কম। করোনা প্রাদুর্ভাবের কারণে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার কঠোর নির্দেশনা থাকলেও তাতে গরজ নেই পশুর হাটে আসা অনেকের মাঝে। হাটে আসা অনেকেরই মুখে মাস্ক নেই। অনেকের মাস্ক আবার নাক ও মুখের বদলে থুতনিতে ঝুলছে। এছাড়া সড়ক দখল করে পশুর বাজার বসার কারণে জনদুর্ভোগ তো রয়েছেই। এসব রোধে বাজারের ইজারাদার ও সংশ্লিষ্টরা নানা পদক্ষেপের পরেও মানানো যাচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। রাঙ্গুনিয়ায় সরকারিভাবে ৫টি বাজারের নিলাম হয়। পৌরসভার পক্ষ থেকে বসানো হয়েছে আরও দুটি বাজার। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে আরও বেশ কয়েকটি বাজার বসেছে। এসব পশুর হাট এখন বেচাকেনায় সরগরম। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা গরুতে ভর্তি এসব হাট। শুরুতে তেমন না জমলেও হাট বসার তিন-চার দিন পরে বেচাকেনা জমে ওঠায় ব্যাপারীদের মনে স্বস্তি ফিরেছে। হাটে এখন ক্রেতার সংখ্যা বেশি বলে জানালেন বিক্রেতারা। বৃহস্পতিবার সকালে রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার গোডাউন ও মরিয়মনগর বাজারসহ বিভিন্ন বাজারে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানুষের ভিড়ে হাটে দাঁড়ানোরও জায়গা নেই। হাটের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাপ্তাই সড়কেরও একই অবস্থা। স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই কারও মাঝে। মাইকে করে বার বার স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হলেও তা মানছে না কেউই। অন্যদিকে অনেকে হাটে ঘুরে ঘুরে গরু দেখে ব্যাপারীদের সঙ্গে দরদাম করছেন। দামে মিললে কিনে নিচ্ছেন। এভাবে হাটে আসা লোকজনের কেউ গরু দেখছেন। কেউ গরু নিয়ে হাসিল পরিশোধ করে ফিরে যাচ্ছেন। মরিয়মনগর থেকে ছেলেকে নিয়ে গোডাউন বাজারে এসেছিলেন ব্যবসায়ী রবিউল হোসেন। এক ব্যাপারীর কাছ থেকে ৭০ হাজার টাকায় গরু কেনেন। তিনি বলেন, ‘আর একদিন পরেই কোরবানির ঈদ। তাই গরু নিয়ে নিলাম।’ ষাটোর্ধ্ব রহিম উদ্দিন ব্যাপারী বলেন, ২৪টি গরু নিয়ে এসেছেন তিনি। এখন ১০টি গরু বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। ঘাটচেক থেকে গোডাউন হাটে গরু দেখতে আসেন মো. রাসেল।

তিনি বলেন, ‘ব্যাপারীরা বেশি দর চাইছেন। আরও দু-একটি হাট ঘুরে তারপর গরু কিনে নেবো।’ শিলক থেকে আসা মোহাম্মদ আলী নামের আরেক ক্রেতা বলেন, গত বছর যে গরু বিক্রি হয়েছে ৬০ হাজার টাকায়। এবার তার দাম রাখা হচ্ছে ৮০ হাজার টাকা। ব্যাপারীরাও এই অভিযোগ অস্বীকার করেননি। ব্যাপারী মো. লোকমান ও মো. আজিজ বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে পশুর খাবারের দাম ও শ্রমিকদের মজুরি বাড়ায় এবার গরুর দাম কিছুটা বাড়তি রাখা হচ্ছে। বেতাগী থেকে আসা মামুন নামে একজন বলেন, সড়কের পাশ ঘেষে বাজার হওয়ায় সড়ক জুড়ে তীব্র যানজট লেগেছে। মানুষের মাঝেও স্বাস্থ্য সচেতনতা নেই। বাজারের ইজারাদাররা বার বার অনুরোধের পরেও তা মানছেন না কেউই। গোডাউন পশুর হাটের ইজারাদার নিজাম উদ্দিন বাদশা বলেন, অন্যান্য দিনের তুলনায় বৃহস্পতিবার অনেক বেশি বিক্রি হয়েছে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যেই রয়েছে। ক্রেতাবিক্রেতাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহবান জানানো হচ্ছে। প্রতিটি হাছিল তোলার বুথে সাবান পানি রাখা হয়েছে। কিছুক্ষণ পর পর বাজারে স্প্রে করা হচ্ছে। ছোট বড় সবধরণের গরু থেকেই ৫’শ টাকা করে হাছিল নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান। বৃহস্পতিবার দুপুরে গোডাউন বাজার পরিদর্শন করতে এসেছেন রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার মেয়র মোহাম্মদ শাহজাহান সিকদার। তিনি জানান, গোডাউন বাজার চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী বাজার। করোনা মহামারীর মধ্যে এই বাজার এবছর নিলামে না উঠলেও পৌরসভার তত্ত্বাবধানেই স্থানীয়দের সাহায্যে এই বাজার চালানো হচ্ছে। সড়কের উপর বাজার না বসানো সহ স্বাস্থ্য সচেতনতা মেনে চলতে বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। অন্যদিকে উপজেলার মরিয়মনগর পশুর হাটের ইজারাদাররা মূল হাটের আশপাশের খালি জায়গাতেও বাজার বসিয়েছেন। এসব স্থানে গরু রাখার জন্য বাঁশের খুঁটিও পোঁতা হয়েছে। এসব স্থানে হাসিল আদায় ও নিরাপত্তার জন্য স্বেচ্ছাসেবক নিয়োজিত করেছেন ইজারাদাররা। মরিয়মনগর চৌমুহনী বাজারে পশু নিয়ে আসা ব্যাপারী মোহাম্মদ হাবিব বলেন, ‘নিজস্ব খামারের ৩০টি গরু নিয়ে হাটে এসেছেন। প্রথম তিন-চার দিন হাটে কয়েকজন আসলেও দরদাম করে চলে গেছেন। অন্যান্য দিনের তুলনায় এখন হাটে লোকজন বেশি এসেছেন। গরুও বিক্রি করেছি ১৫টি। বাকীগুলাও বিক্রি হয়ে যাবে বলে আশা করছি।’ মরিয়মনগর পশুর বাজারের ইজারাদার মো. ওসমান গণি বলেন, এই বাজারের মূল আকর্ষণ পাহাড়ি গরু। এখানে রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, রংপুর, দিনাজপুর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এই হাটে গরু নিয়ে এসেছেন ব্যাপারীরা। হাটে এখন পশুর অভাব নেই। ক্রেতাও আছেন প্রচুর। হাসিলও নেওয়া হচ্ছে ৫’শ টাকার মধ্যে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাজার পরিচালনা করা হচ্ছে বলে তিনি জানান। ছবির ক্যাপশনঃ রাঙ্গুনিয়ার পশুর বাজারগুলোও সরগরম ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদভারে। স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই এসব হাটে।

Print Friendly and PDF