এই মাত্র পাওয়া :

বাংলাদেশ , রোববার, ৯ আগস্ট ২০২০

চেম্বার খুলতে শুরু করেছে ডাক্তাররা

লেখক : admin | প্রকাশ: ২০২০-০৭-২৯ ০০:৩৭:৫৫

মামুনুর রশিদ:

নগরীতে প্রায় ৫০টি প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাব রয়েছে । এইসব প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোতে প্রায় ১ হাজার ডাক্তার নিয়মিত চেম্বার করে রোগী দেখে আসছেন। প্রাইভেট ক্লিনিকের বাইরে ব্যক্তিগত চেম্বারে রোগী দেখেন প্রাই ৩শ মত ডাক্তার রয়েছে। গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী দেখা দেওয়ারপর থেকে রোগী দেখা ছেড়ে দিয়েছেন অধিকাংশ ডাক্তাররা। হাতেগুনা কিছু ডাক্তারছাড়া বাকী ডাক্তার রোগী দেখা ছেড়ে দেন। আবার এর মধ্যে ডেলিভারি রোগী ছাড়া কোন রোগী সহজে দেখেন নাই। এতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে রোগীদের। সাধারন মানুষ ভয় পাওয়ার পূর্বে ডাক্তাররা বেশী আতংকগ্রস্থ হওয়ায় নগরীর চিকিৎসা ব্যবস্থা একদম ভেঙ্গে পড়েছিল। সম্প্রতি ডাক্তারের অভাবে অনেক রোগী এই ক্লিনিক থেকে ওই ক্লিনিক ছুঁটাছুঁটিতে চিকিৎসার অভাবে মারাগেছে এমান প্রমাণও আছে। করোনাভাইরাস দেশে আসার পর যেভাবে জনমনে আতংক দেখা দিয়েছিল । বিশেষ করে বয়স্ক লোকসহ বিভিন্ন জঠিল রোগে আক্রান্তদের উপর করোনা বেশী ভর করেছিল। ফলে ৫০-৫৫ উর্ধ্বে ডাক্তাররা রোগী দেখা একেবারে ছেড়ে দিয়েছিল। গত সপ্তাহ থেকে অনেক ডাক্তার ফের রোগী দেখা আরম্ভ করেছেন। চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডা: এম এ কাশেম দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন, আমাদের প্রায় ৫০ ভাগ ডাক্তার রোগী দেখা আরম্ভব করেছেন। তিনি দাবী করেন, সকল ডাক্তার সরকারী ডিউটি করেছেন। শুধু মাত্র প্রাইভেট হাসপাতাল বা নিজের চেম্বারে রোগী দেখা বন্ধ করেছিলেন কিছু ডাক্তার। যাদের বয়স বেশী বা নিজে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত তাঁরা রোগী দেখেনি। আগামী মাসে আশা করছি ৭০ ভাগ এবং ৩-৪ মাসের মধ্যে শতভাগ ডাক্তার রোগী দেখবেন। প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাভ ওনার্স এসোসিয়েশনে সাধারণ সম্পাদক এবং মেক্স হসপিটলের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ডা.লিয়াকত আলী দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন, করোনা শুরুতে রোগী গেদারিং বেশী হওয়ার ফলে করোনার প্রভাবটা বেশী ছিল বলে রোগী দেখা বন্ধ করেছিল কতিপয় ডাক্তার। তবে আমাদের সকল ডাক্তার অনলাইনে সরব ছিল। কিছু কিছু ডাক্তার করোনায় আক্রান্ত। যেমন ডা:খাইরুল কবির টিপু ও ডা: মাহমুদুল হাসানসহ আরো যারা রয়েছে তাঁরা আরো একটিু দেরীতে চেম্বার শুরু করবেন। ঈদের পরে রোগীদের বসার আসনটা পরিবর্তন এনে রোগী পুরোদমে সকল ডাক্তার রোগী দেখবেন। যদি রোগীদের চাপ বেশী থাকে তা হলে করোনার প্রভাবে আবার সমস্যা দেখা দিতে পারে। সন্ধ্যার পর রোগীদের জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে হাটার জায়গা পর্যন্ত থাকেনা। চকবাজার এলাকায় ব্যক্তিগত চেম্বার করে রোগী ডা: পি কে মজুমদার । যিনি করোনার শুরুতেই রোগী দেখে আসছেন। দৈনিক সাঙ্গুকে তিনি জানান, ছোট বেলায় জীবনের লক্ষ্য নামে টপিকে লিখেছিলাম, আমি ডাক্তার হব। মা-বাবার স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া। হয়েছি, ঠাকুরের আর্শিবাদ। জীবনের অন্তিম মর্হুতেও রোগী দেখে যাব এইটাই শপত। প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমারও পরিবার আছে, ভয় কাজ করেছিল। কিছুই করার নেই। রোগীদের অনলাইনে চিকিৎসা দিতে গেলে মোটেই সন্তুষ্ঠনা। রোগীরা মনে করেন, ডাক্তার তাদের র্স্পশ না করলে চিকিৎসা করা হয়নি। তাই একদিনও চেম্বার বন্ধ করিনি। রোগীদের সেবা দেওয়া আমার ধর্ম। তিনি আরো জানান, স্বস্থ্যবিধি রোগী দেখছি। আমাদের সবচেয়ে বেশী সতর্ক থাকতে হয়। ভয়কে জয় করা আমার কাজ। আমিও অনুরোধ জানাব যারা এখনো রোগী দেখছেননা তারা যেন দ্রুত রোগী দেখা আরম্ভ করেন।
নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল পরিদর্শনে দেখা গেছে, সন্ধ্যাকালীন রোগীদের আনাগোনা বৃদ্ধি পেয়েছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল হাসপাতাল গেইট সংলগ্ন হলি হেলথ হাসপাতালে আসা রোগীর স্বজন রোকসানা বেগম বলেন, ডা:মেজর হারুণ-অর-রশিদ নিয়মিত তাদরে দেখে আসছেন। কোন সময়ে বেগ পেতে হয়নি। এইসময় দেখা যায় একই হাসপাতালের ম্যানেজার হারুণ-অর-রশিদ বেশ ছুঁটাছুঁটি করছেন। রোগীদের দেখবাল করছেন। তাদের সেবায় আগত রোগীরা বেশ সন্তুষ্ট বলে দেখা গেছে। এইসময়ে ম্যানেজার হারুণ-অর-রশিদ বলেন, তাদের ডাক্তাররা নিয়মিত রোগী দেখেছেন। হাসপাতাল মালিকদের কথা হচ্ছে রোগীদের সেবা দেওয়ার পর বাকী কথা। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকল রোগীদের সেবা দিতে হবে।
মেজর ডা:মেজর হারুণ-অর-রশিদ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম প্রাইভেট ক্লিনিক এসোসিয়েশন এর সভাপতি ডা: এম এ কাশেম এর কাছে জানতে চাওয়া হয়, ডা:মেজর হারুণ-অর-রশিদের বয়স প্রায় ৫৫ বছর । এরপরও তিনি রোগী দেখতে পারলে বাকীরা পারবেনা কেন? জবাবে তিনি বলেন, তিনি একজন মেজর। তাঁর যে সাহস তা তো সবার থাকেনা। যাদের বয়সের সাথে সাহসের কিছু ব্যাপার রয়েছে তাই বয়স্ক ডাক্তাররা রোগী দেখেন নাই।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা: হাসান শাহরিয়ার কবির দৈনিক সাঙ্গুকে বলেন, যারা করোনায় আক্রান্ত নয় তারা তাদের সুবিধা অসুবিধা গুলো ডাক্তারদের বলতে পারবেন। এইটা নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ও সকলের উপকারে আসবে। ডাক্তাররা স্বাস্থ্যবিধি অবশ্যইতো মানবে এবং রোগীদের খেয়াল রাখতে হবে চেম্বারে আশার সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন আসেন। তবে, চেম্বারে ১০ জনে বেশী রোগী বসানো যাবেনা। তিন ফিট দুরত্ব রেখে রোগী বসাতে হবে। যারা এখনো রোগী দেখছেননা তাদের রোগী দেখার অুনরোধ জানান তিনি।

Print Friendly and PDF